শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬
বাজেটে কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:০৪ পিএম   (ভিজিট : ৮)
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তিপণ্যে কর-শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এসেছে, ফলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল তিনটায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট জাতীয় সংসদে উপত্থাপন করা হয়েছে। 

এ বাজেট হবে দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, চিকিৎসা সামগ্রী, প্রযুক্তিপণ্য ও পরিবেশবান্ধব খাতে খরচ কমে।

প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে: ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেক্ট্রিক কেটলি, আয়রন, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার, প্রেসার কুকারের পাশপাশি সমজাতীয় পণ্য ইলেক্ট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার ও ওয়াটার হিটার/গিজারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য।

বাজেটে কম্পিউটার ব্যবহাকারীরাও পাবেন সুখবর। আসন্ন বাজেটে দাম কমতে পারে কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটরের।

এছাড়া দাম কমতে পারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় ১৫ পণ্যের।

চিকিৎসা পণ্যেও দাম কমতে পারে বাজেটে। এই তালিকায় রয়েছে কিডনি ডায়লাইসিস ফিল্টার।

এর বাইরে দাম কমতে পারে স্বর্ণালঙ্কারেও। আসন্ন বাজেটে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে ৫ শতাংশ উৎসে কর কমে হবে দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বড় স্বস্তি আসতে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে। ধান, চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ প্রায় ৬০টি কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ ব্যয় কমে দাম কিছুটা সহনীয় হবে।

শিশুখাদ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করা হলে এসব পণ্যের দামও কমবে।

শিল্প খাতেও বড় ধরনের কর রেয়াত দেওয়া হচ্ছে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কের স্তরও কমিয়ে আনা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং শিল্পপণ্যের মূল্যও কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ভোজ্যতেল খাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১০ বছর করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে। এর ফলে সরিষার তেলসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভোজ্যতেলের বাজার সম্প্রসারিত হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে একাধিক করছাড়ের প্রস্তাবে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমতে পারে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হলে প্রতিটি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ওষুধ উৎপাদনের ৬৮টি কাঁচামালে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, ক্যান্সারের ওষুধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালে কর রেয়াত এবং হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট তুলে দেওয়ার প্রস্তাব চিকিৎসাসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করতে পারে। এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করও ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে স্বস্তি
প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতেও বড় ধরনের স্বস্তি আসতে পারে। স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনের ২২টি কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর কমিয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। মোবাইল সিমে ৩০০ টাকার নির্দিষ্ট ভ্যাট বাতিল করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে নতুন সিমের দাম কমতে পারে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) রেভিনিউ শেয়ার ও লাইসেন্স ফির ওপর ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় উৎসে কর ১২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হলে টেলিকম খাতের ব্যয় কমবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার ওপর উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নামানো হচ্ছে। রিফাইনারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে কর ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে কমানো হয়েছে। এতে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় কমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দিতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক, চার্জিং স্টেশন, ই-বাইক, ব্যাটারি এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ উৎপাদনেও ব্যাপক কর রেয়াত দেওয়া হচ্ছে।

সোনা ও স্বর্ণালংকার খাতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের ফলে সোনার ব্যবসা আরও আনুষ্ঠানিক খাতে আসবে এবং বাজারে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি, মনিটরসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পণ্যের আমদানিতে অগ্রিম কর কমানো হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও কম্পিউটার উৎপাদনে কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

আজকালের খবর/বিএস 









Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft