চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিং আজ সোমবার বিকেলে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের কুমসুসান গেস্ট হাউসে বৈঠক করেন। সি জিন পিং উল্লেখ করেন যে, সাত বছর পর আবারও পিয়ংইয়ং সফর করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত। এই সফরকে একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে নতুন যুগে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের শীর্ষ পর্যায়ের পরিকল্পনা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনাকে শক্তিশালী করতে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দু’দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে জোরদার করতে চান চীনা প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে উভয় দেশ ও জনগণের জন্য আরও বেশি কল্যাণ করতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে কিম জং উনের সাথে কাজ করতে চান তিনি।
সি জিন পিং জোর দিয়ে বলেন যে, চীন এবং উত্তর কোরিয়া উভয়ই কমিউনিস্ট পার্টি দ্বারা পরিচালিত সমাজতান্ত্রিক দেশ। চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব অভিন্ন আদর্শ, বিশ্বাস ও লক্ষ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এর একটি গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তি, মজবুত রাজনৈতিক কাঠামো ও শক্তিশালী আবেগপূর্ণ বন্ধন রয়েছে। প্রজন্মগত বন্ধুত্ব, অভিন্ন নিয়তি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সর্বদাই চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকারের দৃঢ় অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে, উত্তর কোরিয়ায় সমাজতান্ত্রিক আদর্শের জন্য দেশটির ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কিম জং উনের নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় সমর্থন অপরিবর্তিত থাকবে এবং উভয় পক্ষের অভিন্ন স্বার্থ ও অনুকূল কৌশলগত পরিবেশ রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্পও অপরিবর্তিত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চীনা প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেছেন যে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষেরই একটি দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত এবং অতীতের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাওয়া উচিত। দুই দল ও দেশের মধ্যকার সম্পর্কের বিকাশ থেকে প্রজ্ঞা আহরণ করে মানব ইতিহাসের সাধারণ ধারার মধ্যে সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বে নতুন সমসাময়িক তাৎপর্য ও শক্তিশালী প্রেরণা যোগ করে এবং উভয় দেশের সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ও আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য একটি উজ্জ্বলতর ভবিষ্যৎ উন্মোচন করা প্রয়োজন।
আজকালের খবর/কবির