দেশের বেশির ভাগ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা বিভাগের ১৩, রাজশাহী বিভাগের ৮, রংপুর বিভাগের ৮, খুলনা বিভাগের ১০, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলাসহ চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ মোট ৪৮ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এ কারণে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তবে আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, শুধু তাপমাত্রা বেশি হওয়াই অস্বস্তিকর গরমের একমাত্র কারণ নয়। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান কমে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল।
এদিন রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সাধারণত দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলে রাতের দিকে পরিবেশ কিছুটা ঠান্ডা হয়। বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় এই পার্থক্য ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম। ফলে রাতেও তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলায় সূর্যের তাপে ভূমি ও অবকাঠামো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতে তাপমাত্রা পর্যাপ্ত পরিমাণে না কমলে সঞ্চিত সেই তাপ বাতাসে থেকে যায়। নগরাঞ্চলে কংক্রিটের ভবন ও পিচের সড়ক এ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণও অনেক বেশি। একই সঙ্গে বাতাসের গতি কম থাকায় গরম বাতাস স্থির হয়ে থাকছে। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীর থেকে নির্গত ঘাম দ্রুত শুকায় না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং গরম আরও তীব্র মনে হয়।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে এবং বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করে। এবার মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় তাপপ্রবাহ দীর্ঘায়িত হয়েছে। শনিবারের আগে তাপপ্রবাহ থেকে উল্লেখযোগ্য স্বস্তির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা কতটা কমছে, সেটিও গরমের তীব্রতা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকার পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা উচ্চ অবস্থানে থাকায় মানুষ এক ধরনের ‘অবিরাম তাপচাপের’ মধ্যে রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
এদিকে গতকাল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তাপদাহের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজকালের খবর/ এমকে