সোমবার ১ জুন ২০২৬
খুলশীতে মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরকে ধরতে পুলিশের অভিযান
প্রকাশ: রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ১০:২২ এএম   (ভিজিট : ৬৯)
নগরীর খুলশী থানাধীন আমবাগান ঢাকা-চট্রগ্রাম রেললাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী আলমগীর। তার মাদক কারবারকে ঘিরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার সহ নানা সময়ে নানান ঘটনার সূত্রপাত হয় সেখানে। যা থেকে দফায় দফায় চলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, পেশী শক্তির মহড়া, হামলা, মারামারি এবং অস্ত্রের ঝনঝনানি। 

বেশ কিছু দিন আগে আলমগীর ও তার মাদক কারবারের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী গণআন্দোলন করলে আরিফ নামের স্থানীয় একজনকে ছুরি মেরে মারাত্মক আহত করা হয়। সেই ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতে আবারো আলমগীর খুঁটি গেড়ে বসেছে আমবাগান সহ ঝর্ণা পাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমবাগান রেললাইন ও ঝর্ণাপাড়া ছাড়াও শহরের আরো বেশ কিছু স্পটে আলমগীর তার মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আলমগীরের নামে মাদক সহ মোট ১৫ টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার মা রেণু বেগম, ছোট ভাই জাহাঙ্গীর, দুই বোন সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে রয়েছে প্রায় ৩ ডজনের মত মাদক সহ বিভিন্ন মামলা। সরকার আসে সরকার যায়। একই ভাবে থানার ওসি আসে ওসি যায়। সাথে এলাকা বাসী আন্দোলন সংগ্রাম করে যায়। কিন্ত কোনো ভাবেই আলমগীরের মাদক ব্যবসার কুফল থেকে রেহাই পাচ্ছে না এলাকাবাসী ও যুব সমাজ। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন চাইলে আলমগীরকে শুধু ধরাই নয়, স্থায়ী ভাবে নির্মূল করা যায় তার এই মাদকের ব্যবসা। কিন্তু আমরা একাধিকবার মানববন্ধন আন্দোলন সংগ্রাম করেও এই মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে পারছি না। বরং পুলিশ প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে হেল্প করার কারণে আমাদের উপরেই নেমে আসে নানান ঝুট-ঝামেলা। স্থানীয় আরো একজন সচেতন রাজনৈতিক কর্মী জানান, সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এই আলমগীর ও তার গ্যাং'কে এলাকা থেকে বিতারিত করার জন্য। কিন্তু আমাদের ভিতরেই কিছু দুষ্টু প্রকৃতির লোকজন আছে যারাই আবার আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে এই আলমগীরকে কাছে টেনে নেয়। 

পুলিশের অভিযানের সময় স্থানীয় এক যুবক জানান, এই এলাকায় আলমগীরের কম করে হলেও ২৫-৩০ জন পাহারাদার আছে। যারা মিনিটে মিনিটে আলমগীরকে খবর পৌঁছে দেয়। যার কারণেও তাকে ধরা সম্ভব হয় না। এছাড়া পুলিশের.........? পুরো বাক্য শেষ না করেই যুবক দ্রুত সরে যায়। 

সম্প্রতি আবারো এলাকায় আলমগীরের পায়চারী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখালিখি হওয়ার পরে থানা পুলিশের টনক নড়ে। গণমাধ্যম কর্মীদের সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন তথ্য থানা পুলিশকে দিলে ৩০ মে রাত ১০টার দিকেই খুলশী থানার একটি আভিযানিক দল দ্রুত অভিযানে নেমে পড়ে আলমগীরকে ধরার জন্য। এসময় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে আলমগীরের ভাড়া বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। এসময় অন্য একজন ভাড়াটিয়া জানান আলমগীর রেলের L 290/A নাম্বার ভাড়া বাসায় থাকে না, এখানে তার বোনেরা থাকে। আলমগীর মূলত আমবাগানের ঢাকা-চট্রগ্রাম রেললাইন সংলগ্ন বেশ কিছু ঝুপড়ি ঘরে থেকে এলাকায় ত্রাস চালায়। এসময় আগামী ২৪ ঘন্টার ভিতরে আলমগীরকে আত্মসমর্পণ করার জন্য একটি বার্তা দেয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

এরপর স্থানীয় এলাকায় জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা চালায় থানা পুলিশ। একই সময় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দোকানে দোকানে এবং স্থানীয়দের বলা হয়, যাতে উক্ত মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের কাছে কোনো দোকানদার কোনো বাজার সদাই বিক্রি না করেন, আর তাকে দেখলেই যেন ধরে পুলিশকে জানানো হয়। 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরকে আটক করতে গেলে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট মিলে সেসময় ৩ পুলিশ সদস্যকে মারাত্মক ভাবে আহত করে। ওইদিন তাকে মাদক আইনে কোর্টে চালান দিলে কিছু দিন তার মাদক কারবার বন্ধ থাকে। এরপর ছাড়া পেয়ে আবারো চালু করে দেয় রমরমা মাদকের ব্যবসা। 

১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ড এবং ১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত খুলশী থানা। দুই ওয়ার্ডেই মাদকের ভয়াবহতা কঠিন আকার ধারণ করেছে। ১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের রেল স্কুল সংলগ্ন শাহীর কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে রেলের একটি বাসায় আশ্রয় নেয়া নাজমা নামের আরো একজন মাদক ব্যবসায়ী আছে। সেও ধীরে ধীরে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। দিনে দুপুরে রাত বিরাতে সেখানে গেলে দেখা যায় স্থানীয় যুবক সহ নানান শ্রেনী পেশার লোকেরা মাদকদ্রব্য ক্রয় করার উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া আসা করে। কেউ কেউ বলছেন, সেখানে বসে মাদক সেবন করার মত পরিবেশও সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজমার ব্যবহারকৃত বাসা বাড়ি এবং দখলকৃত জায়গাটি রেলের হলেও এইদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। 

অন্যদিকে ১৪নং লাল খান বাজার ওয়ার্ডের মতি ঝর্ণা এলাকার ৪ ও ৫ নং গল্লি সহ বেশ কিছু চিহ্নিত জায়গায় ওপেন সিক্রেট মাদক ব্যবসা চলছে। পুলিশ প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান দিলেও আবারো কিছুদিন পর প্রকাশ্যে চলে যুব সমাজ ধ্বংসের এই কর্মযজ্ঞ। 

কিছুদিন পূর্বে আমবাগান এলাকায় স্থানীয়রা মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করলে সেখানে সিএমপি উত্তর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলাম নিজে এসে বলে গেছেন, যেভাবেই হোক তিনি আলমগীরকে আটক করবেন। বিষয়টিকে স্থানীয় জনগণ ইতিবাচক ভাবেই নিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবী, শুধু আটক করে জেল হাজতে চালান দিলেই হবে না। বরং যেই ভাবে হোক পুরো ওয়ার্ড সহ থানা এলাকা থেকে মাদক ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করে যুব সমাজকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করা যায়, তারা সেই আশাই করছে প্রশাসন থেকে। 

মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরকে ধরতে নতুন করে চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছে খুলশী থানা পুলিশ। অভিযানে যাওয়া থানা পুলিশের নেতৃত্বে থাকা (অপারেশন অফিসার) এস আই মনির হোসেন গণমাধ্যম সহ স্থানীয়দের বিষয়টি আশ্বস্ত করেন।

আজকালের খবর/ এমকে







আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft