বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত জনকল্যাণমূলক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গাজীপুর জেলায় চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি, সুফল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিস্তৃত প্রেস ব্রিফিং।
বুধবার (১৩ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির। সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের একটি বাস্তব কর্মপরিকল্পনা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ ও নিরাপদ করতে কাজ করছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক স্মার্ট কার্ড এবং খাল পুনঃখননের মতো প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।
স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি তুলে ধরে সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ই-হেলথ কার্ড, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী দ্রুত ও সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান জানান, সমাজের নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কৃষক স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ঋণ, ভর্তুকি, সারসহ ১০ ধরনের সরকারি সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বার্ষিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করতে সহায়ক হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সোহেল রানা জানান, জেলার লবণদহ নদীসহ চৌক্কার খাল, গাছা খাল, রাউতকোনা খাল ও চীলাই খালের পুনঃখনন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি খালের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় জেলার প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমিতে আড়াই লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
স্বাগত বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসার শামীমা নাসরিন জানান, সরকারের উন্নয়ন ও জনমুখী কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা তথ্য অফিস চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, উঠান বৈঠক, নারী সমাবেশ এবং গণসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গাজীপুর প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি গাজীপুরকে আরও আধুনিক ও উন্নত জেলায় রূপান্তরে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
আজকালের খবর/বিএস