ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন ঘিরে শুক্রবার দিনভর চলেছে তীব্র রাজনৈতিক নাটক। একদিকে জোট সমর্থনের ঘোষণা, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানো দল সব মিলিয়ে মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে যায় রাজনৈতিক সমীকরণ। ফলে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়ার দৌড়ে আবারও আটকে গেলেন বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথ গ্রহণ আবারও স্থগিত হয়ে গেল।
নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসা তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রথমে কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় সরকার গঠনের পথ সহজ মনে হচ্ছিল। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস–এর পাশাপাশি বামপন্থি দল সিপিআই ও সিপিএমও সমর্থনের ঘোষণা দেয়। তবে শেষ মুহূর্তে জোট রাজনীতির জটিলতায় সেই সমীকরণ ভেঙে পড়ে।
রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার জানান, টিভিকে এখনো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তের কারণেই শনিবার বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়।
২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। নির্বাচনে টিভিকে ১০৮টি আসন পেলেও কংগ্রেসের পাঁচটি এবং বাম দলের চারটি আসন যোগ হয়ে জোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৭–এর আশেপাশে। এরপর আরও কিছু ছোট দলের সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চললেও শেষ মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ দল অবস্থান স্পষ্ট না করায় জটিলতা তৈরি হয়।
সূত্র অনুযায়ী, ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) শেষ মুহূর্তে জোট থেকে সরে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে অন্য একটি আঞ্চলিক দল ভিসিকে-র অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব ভেঙে পড়ে।
কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন থাকলেও বিজয়ের দল ম্যাজিক অঙ্ক থেকে সামান্য দূরেই আটকে গেছেন। বিজয় নিজে দুটি আসনে লড়ে দুটিতেই জিতেছেন। নিয়ম মেনে ফল ঘোষণার ১৪ দিনের মধ্যে একটি আসন তাকে ছাড়তে হবে।
ফলে শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিজয়ের জোটের ঝুলিতে রয়েছেন ১১৭ জন বিধায়ক। ভিসিকের দুই বিধায়ক যোগ দিলে সেই সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৮—যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঠিক উপরে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দিতে রাজি ছিল, যার মধ্যে মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগির বিষয়ও ছিল। বাম দলগুলো জানিয়েছে, তারা বাইরে থেকে সমর্থন দেবে, তবে সরকারে সরাসরি অংশ নেবে না।
তবে ভিসিকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও দলের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি ভান্নি আরাসু সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেছেন, তাদের দলের জন্য উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ ও একটি মন্ত্রিত্ব চাওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ দশকের দ্রাবিড় রাজনীতির প্রভাব ভেঙে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও জোট রাজনীতির বাস্তবতা এখন বিজয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শক্ত জনসমর্থন থাকলেও বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ না করতে পারলে সরকার গঠন অনিশ্চিতই থেকে যাবে।
এখন সব চোখ রাজ্যপালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। কখন এবং কীভাবে নতুন করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, সেই উত্তরই এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আজকালের খবর/ এমকে