বুধবার ৬ মে ২০২৬
সৌদি ও আরব আমিরাতের দ্বন্দ্বের নেপথ্যে কী
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৯:৩৩ এএম   (ভিজিট : ১৮)
গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন এ পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল পারস্য উপসাগরের পরাশক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের একসময়ের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব ভেঙে গিয়ে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হওয়ার সর্বশেষ ইঙ্গিত। 

ঐতিহাসিকভাবে সৌদিই ছিল শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তারা তাদের বিশাল উৎপাদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী তেলের দামকে প্রভাবিত করেছে। তাই, এ সংস্থা থেকে আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এমন একটি ব্যবস্থার প্রতি গভীরতর প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয়, যেটিকে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্ব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করা হতো। চলতি মে মাস থেকে ওপেক ছাড়ার বিষয়টি কার্যকর হচ্ছে। 

মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, সৌদি ও আমিরাতের নেতাদের মধ্যে এ মতপার্থক্য রাতারাতি ঘটেনি। এক দশক আগে সৌদির ক্ষমতাধর নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে আদর্শগতভাবে একই মিত্র হিসেবে দেখা হতো। আরব বসন্তের অভ্যুত্থানগুলোকে তারা তাদের শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতেন। পরে অঞ্চলটিকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উভয়েই ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, দৃঢ়চেতা ও একমত। একসঙ্গে দুই নেতা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ তুলে তারা পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যও যৌথভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ অভিযোগ কাতার বরাবর অস্বীকার করে আসছে। একসময় ইরানের বিরোধিতায়ও তারা একজোট ছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আঞ্চলিক যুদ্ধে দেশ দুটি ক্রমেই পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছে; তারা পরস্পরবিরোধী জ্বালানি কৌশল অনুসরণ করছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।

কয়েক দশকে আমিরাতের দুবাই শহর মধ্যপ্রাচ্যে অর্থায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোর প্রধান কেন্দ্র হয়। কিন্তু গত ১০ বছরে সৌদিকে ব্যবসা ও পর্যটনের এক শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করতে যুবরাজ সালমানের ব্যাপক পরিকল্পনা দেশটিকে ক্রমবর্ধমানভাবে আমিরাতের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়েছে। এটা তো গেল বাণিজ্যের দিক। ভূরাজনৈতিক কৌশলও দ্বন্দ্ব বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দ্য নিউ আরবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি ও আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যকার দ্বন্দ্ব সূক্ষ্ম মতপার্থক্য ছাড়িয়ে আরও প্রকাশ্য ও গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়। যদিও শুরুটা হয়েছিল দক্ষিণ ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে উদীয়মান প্রক্সি যুদ্ধ দিয়ে, এখন তা হর্ন অব আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রতি তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করার প্রচেষ্টা একটি নীরব সমঝোতার দিকে ইঙ্গিত করলেও অন্তর্নিহিত প্রতিযোগিতা প্রশমিত হতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতীয় নিরাপত্তায় আগে কর্মরত সাবেক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ক্যামেরন হাডসন দ্য নিউ আরবকে বলেন, এ অঞ্চলে উভয় দেশেরই অনেক অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। প্রশ্ন হলো, তারা এই অভিন্ন স্বার্থগুলোর ওপর মনোযোগ দিয়ে এ অঞ্চলের জন্য, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতামূলক ও সমন্বিত একটি কর্মপন্থা তৈরি করতে পারবে কিনা। বিষয়টি স্পষ্ট নয়। হর্ন অব আফ্রিকায় সৌদি-আমিরাতের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নেপথ্যে রয়েছে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক ভিন্নতা, যা ইয়েমেন থেকে শুরু হয়ে সুদান, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও লিবিয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। এসব দেশে বিনিয়োগ ও স্বীকৃতি নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে। 


আজকালের খবর/ এমকে







আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft