রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বস্ত্র ও পোশাক খাতের চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শনিবার (২ মে) শেষ হয়েছে। প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করে নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং ইনফোচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের সভাপতিত্বে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এছাড়া আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীর আহ্বায়ক ফজলে শামীম এহসান, ইনফোচেইনের নির্বাহী পরিচালক স্পেনসার লিনসহ উদ্যোক্তা ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন। চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীর তৃতীয় দিন শুক্রবার পরিদর্শন করেন দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা। তিনি চায়নার পোশাক খাতের একটি প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে দুইদেশের পোশাক খাতের উন্নয়নে তথ্য শেয়ার করেন। এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, কানাডা, চীন, জাপান, ভারত, তুরস্ক, ফ্রান্স, ভিয়েতনামসহ ২৮টি দেশের ৯০০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। আইসিসিবির প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এক হাজার ২০০টি বুথে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, ডাই ও কেমিক্যালস, নিটিং প্রযুক্তি, এমব্রয়ডারি ও সেলাই যন্ত্র, ওয়াশিং এবং ড্রাই ক্লিনিং প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
প্রদর্শনী সম্পর্কে মোহাম্মদ হাতেম জানান, তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে; যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি। তিনি বলেন, এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ১২-১৩ শতাংশ অবদান রাখছে এবং চার মিলিয়নের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিল্পকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও টেকসই উৎপাদনের দিকে যেতে হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সেই পথকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম বলেন এ মেলাটি আগে অন্য একটি সংগঠন আয়োজন করলেও চলতি বছর তা হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে উদ্যোক্তারা মনে করেছেন, ব্যবসা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বাংলাদেশ বাজার হারাবে এবং রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে সরে যাবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ফ্যাশন খাত দ্রুত ‘ফাস্ট ফ্যাশন’, রিসাইক্লিং ও সার্কুলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে—এ অবস্থায় নতুন প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তাই খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের এসব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। যদিও সাধারণত জানুয়ারিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়, নানা কারণে এবার এপ্রিল মাসে আয়োজন করা হয়েছে; আগামী বছর থেকে আবার জানুয়ারিতে ফেরার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ও বিকেটিজি ২০২৬-এর আহ্বায়ক ফজলে শামীম এহসান বলেন, চলমান সংকটের মধ্যেও এ ধরনের আয়োজন বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে। নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে; যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মেলার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও সক্ষমতা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো রপ্তানি করা যাচ্ছে না, ফলে এয়ার শিপমেন্ট বা ডিসকাউন্টের মতো অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় আরো বাড়ছে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে এতে, তিনি যোগ করেন।
আজকালের খবর/বিএস