বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন “BD Intervention 2026”। বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশনস (BSCI) আয়োজিত দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল-এ শুরু হয়।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, হৃদরোগ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। সরকার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিশ্বমানের কার্ডিয়াক সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। তিনি নারী ও শিশুদের কার্ডিয়াক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে চিকিৎসকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, “BD Intervention 2026” এর মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলন তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশকে হৃদরোগ চিকিৎসায় আরও এগিয়ে নেবে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সর্বশেষ গবেষণা ও প্রযুক্তির সঙ্গে দেশের চিকিৎসকরা পরিচিত হচ্ছেন, যা কার্ডিয়াক কেয়ারের মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, তরুণ চিকিৎসকদের জন্য ট্রেনিং ভিলেজ ও ফেলোস কোর্স সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা ভবিষ্যৎ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে BSCI সভাপতি অধ্যাপক ডা. খালেকুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক প্রযুক্তির সঙ্গে দেশের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা ডা. আসাদুজ্জামান জানান, লাইভ কেস ট্রান্সমিশন, স্ট্রাকচারাল হার্ট সেশন এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাকাল্টির লেকচার এবারের সম্মেলনকে অনন্য করে তুলেছে।
সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ঢাকা ও চীন থেকে লাইভ কেস ট্রান্সমিশন, চারটি মহাদেশের খ্যাতনামা কার্ডিওলজিস্টদের লেকচার, তরুণ চিকিৎসকদের জন্য হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং ভিলেজ, স্ট্রাকচারাল হার্ট ডিজিজ, করোনারি ও পেরিফেরাল ইন্টারভেনশন বিষয়ক আলোচনা, ফেলোস কোর্স এবং কেস প্রতিযোগিতা।
আয়োজকরা জানান, ১১০০ জনের বেশি দেশি-বিদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এ মেগা ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন। ২ মে পর্যন্ত চলমান এ সম্মেলন দেশের হৃদরোগ চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজকালের খবর/ এমকে