আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ- বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন এবারের নির্বাচনে ৩০ ভাগ মানুষ মার্কা নয়, প্রার্থী দেখে ভোট দিবেন। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন মার্কার (দলীয় প্রতীক) উপর চড়ে নির্বাচনের তরী পার হবে, সেটা হওয়ার কোনো সুযোগ নাই।
তিনি বুধবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শাখাইতি গ্রামের পূর্ব পাড়ায় নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন।
জনসভায় উপস্থিতি লোকজনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যোগ্য অভিভাবক যদি এলাকার অভিভাবকত্ব না নেয় তাহলে এলাকার উন্নয়ন অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে যোগ্য, শিক্ষিত, সৎ, যার কাজে অভিজ্ঞতা আছে এই রকম প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই করবেন।
তিনি আরো বলেন, ‘এইবার জরিপে বলছে ৩০ শতাংশ মানুষ মানে ১০০ জনের মধ্যে ৩০ জন মার্কা দেখবে না। তারা প্রার্থী খোঁজবে। প্রার্থী ঠিক আছে কি না। প্রার্থী যোগ্য কিনা, প্রার্থী শিক্ষিত কিনা, প্রার্থী সাহসী কিনা, প্রার্থী সৎ কিনা, প্রার্থী এলাকার উন্নয়ন করবে কিনা, প্রার্থীর অভিজ্ঞতা আছে কিনা- এই সবকিছু বিবেচনা করে এই ৩০ শতাংশ মানুষ এ নির্বাচনে ভোট দিবে। সুতরাং কেউ যদি মনে করে মার্কার উপর চড়ে নির্বাচনের তরী পার হবে সেটা হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। এইবারের নির্বাচন যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন, সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন।
জনসভা মঞ্চে উঠেই রুমিন ফারহানা তাঁর প্রতীক হাঁস মার্কাকে নিয়ে শ্লোগান ধরেন। তিনি এলাকার বিভিন্ন দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলে মেঘনার ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মান করবেন। পানিশ্বরের সকল রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করবেন। খালের উপর একটি ব্রীজ নির্মান করে দিবেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, পানিশ্বরের অনেক ভাই প্রবাসে থেকে কষ্ট করে টাকা পাঠান। তাদের টাকায় আমাদের দেশের অর্থনীতি সচল থাকে এবং এলাকায় স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। কিন্তু সংসদে তাদের কষ্ট, হয়রানি ও সমস্যার কথা বলার কেউ নেই।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ যদি আমাকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে সংসদে প্রবাসী ভাইদের সমস্যা তুলে ধরব। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে তাদের সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করব।
তিনি বলেন, আপনারা শুরু একদিন আমার হাঁসটাকে পাহারা দেন, নির্বাচিত হলে ৫ বছর আমি আপনাদেরকে পাহারা দিব। তিনি ভোট গণনা পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারার দাবি জানান।
কাওছার/অঅজকালের খবর