শীত এলেই রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাসাবাড়িতে ঠিকমতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
এদিকে, এলপিজি গ্যাসের সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন নগরবাসী। মগবাজার, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, কাঁঠালবাগনসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখন এমন চিত্র স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মগবাজারের বাসিন্দা নাফিসা ইয়াসমিন ইফা জানান রান্নায় তার প্রচুর সমস্যা
পহাতে হচ্ছে।
রান্না বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনছেন অনেকে, কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন বিকল্প পথ।
গ্রাহকরা বলছেন, গ্যাস বিলও দিতে হচ্ছে, আবার বাড়তি দামে সিলিন্ডারও কিনতে হচ্ছে। হঠাৎ করে সিলিন্ডারের সংকট ও লাগামছাড়া দামে এখন বাইরে থেকে খাবার কিনে এনেও খেতে হচ্ছে।
গাড়িতে গ্যাস নিতে ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। গ্রাহকরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুই-তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সিলিন্ডার পূর্ণ হচ্ছে না। ফলে ডিউটি টাইম বাড়ছে এবং আয় কমছে।
নগরবাসী চরম সংকটে থাকলেও তিতাস বলছে, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বিবেচনায় আগে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় দেওয়া হচ্ছে গ্যাস।
তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী সাইদুল হাসান বলেন, প্রায়োরিটি বেজড যেখানে দরকার সেগুলোতে গ্যাস সরবরাহের পরই আবাসিক এলাকায় দেয়ার চেষ্টা করা হয়। ঢাকায় প্রতিদিন ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরও সংকট হচ্ছে, কারণ অবৈধ সংযোগ। প্রত্যেক বাড়িতে নজরদারি করা সম্ভব নয়; আমরা অবৈধ লাইন কাটলেও কয়েক দিন পর আবার তারা ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংকট নিরসনে যৌক্তিক দামে এলপি গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন। আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, প্রতিবছর জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। তাই সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় রোধে দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি।
এদিকে, এলপি গ্যাসের দাম নিয়েও বাজারে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এর মধ্যেই গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৫৩ টাকা। যদিও সরকারি মূল্য নির্ধারণের চেয়ে নগরবাসী দ্বিগুণ দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
আজকালের খবর/ এমকে