বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬
নাসিরনগরে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন গরুর হাটের ইজারাদার
প্রকাশ: রোববার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:১৬ এএম   (ভিজিট : ৮৭৫)
তিনি ছিলেন গরুর হাটের ইজারাদার। ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদদ দেওয়াসহ নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। অথচ টাকার প্রভাবে তিনিই এখন এমপি প্রার্থী। সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিটি হলেন এম. এ. হান্নান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সারাদেশে এমপি প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করে। টাকার প্রভাবে এই মনোনয়ন দৌড়ে টিকে গেছেন এম. এ. হান্নান, এমনই অভিযোগ তৃণমূল থেকে কেন্দ্রের। 

অভিযোগ আছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী এম. এ. হান্নান নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
 
দলীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি বিএনপির উপজেলা সভাপতির পদকে ব্যবহার করে একাধিক অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তুলেছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর থেকে এম. এ. হান্নান দল থেকে বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি চাঁদাবাজ বাহিনী গঠন করেন এবং এলাকায় ‘চাঁদাভাই’ নামে পরিচিতি পান। 

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছেন। 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ব্যক্তিগত লাভের আশায় ফসলি জমি থেকে এক্সক্যাভেটর মেশিনে মাটি কেটে বিক্রি করেন। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে গত ঈদুল আজহায় নিজ নামেই উপজেলা সদর গরুর বাজারের ইজারা নেন। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
 
এ ছাড়া উপজেলার প্রায় সব ইটভাটা থেকে তিনি মাসিক মাসোহারা নেন এবং নিজের ভবন নির্মাণে বিনামূল্যে ইট ব্যবহার করেন। এসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

বিভিন্ন সরকারি হাটবাজার, খাসপুকুর ও জলাশয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজের লোকদের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, অপকর্মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন তিনি। 

জানা গেছে, এম. এ হান্নান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে পরাজিত হন; তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। 

গত ৩১ অক্টোবর ঢাকায় ৩১ দফা বাস্তবায়ন সভায় আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ ‘খোকা হলো জাতির পিতা’ বইয়ের রচয়িতা সাবেক অতিরিক্ত সচিব মফিজ আহমদের (ফরিদ) অর্থায়নে এম. এ. হান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের পক্ষে প্রচারণা চালান এম. এ. হান্নান। এমনকি তিনি সংগ্রামের কর্মীদের ফোনে উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘সংগ্রাম এমপি হলে নাসিরনগর কলেজ মোড়ে গরু জবাই করে খাওয়াবো।’
তার বিরুদ্ধে নাসিরনগর সদর বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে তার বাহিনী নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। 

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কৃষক দলের আহ্বায়ক আমিরুল হোসেন চকদারের প্রায় ৭৯ শতাংশ ভূমি (মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা) জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন এম. এ. হান্নান। এ ছাড়া, একটি ট্র্যাভেল এজেন্সিতে আমিরুল হোসেনের পাসপোর্টও তিনি আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এম. এ. হান্নানের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তারা মনে করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে এমন বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ ও অনৈতিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া বিএনপির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

অভিযোগ বিষয়ে জানতে এম. এ. হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

আজকালের খবর/এসআই









Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft