জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির নামে ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এতে করে সব মামলায় জামিন পেলেও আপাতত আটকে গেল কারামুক্তি।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তর পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সাঈদ গত ২৮ জুলাই আসামি কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্তি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওই আবেদনে বলা হয়, হাজতি আসামি কলিমউল্লাহ এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে আটক থাকায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের মামলায় এক লাখ টাকা মুচলেকায় পাসপোর্ট জমার শর্তে কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল করেন তার আইনজীবীরা।
কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা বলেন, গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার সাপেক্ষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন আদালত। আমরা জামিননামা দাখিল করেছি। অন্য কোনো মামলা না থাকায় তার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।
তবে নতুন মামলায় গ্রেপ্তারের আবেদন থাকায় কারামুক্তি আপাতত আটকে গেল কলিমউল্লাহর।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভুক্তভোগী মুস্তাঈন বিল্লা সাব্বির অংশ নেন। সে বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরার রবীন্দ্র সরণি রোড এলাকায় অবস্থানকালে আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অন্যান্য আসামির সহায়তায় ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এসময় একটি গুলি বাদীর বাঁ হাতের কুনইয়ের মাঝখানে লেগে বিপরীত পাশে বের হয়ে যায় এবং গুরুতর জখম হন এবং আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। উপস্থিত লোকজন বাদীকে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
আজকালের খবর/বিএস