শনিবার ২৭ জুন ২০২৬
পূর্বাঞ্চল চীফ কমান্ড্যান্টের মন্তব্য যেন ‘ক্ষতে নুনের ছিটে’: অপরাধ মানতে নারাজ
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:১১ পিএম   (ভিজিট : ০)
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলাম এবার বেফাঁস মন্তব্য করলেন গণমাধ্যম কর্মী ও রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটিকে নিয়ে। ৮৬৫ খালাসী চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রাম ও মামলার রায় শেষে চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় আছে খালাসী পদপ্রার্থীরা।

২৫ সালের ডিসেম্বরে উচ্চ আদালতের রায়ের শেষে একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে গত সাত মাস বিলম্বের পর চাকরিতে যোগ দিতে পারেনি ৮৬৫ খালাসী মামলায় জয়লাভ করা পোষ্য সদস্যরা৷ সাংগঠনিক কাজে ও মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে সারা দেশ থেকে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক এর বিভিন্ন অফিসে আসা যাওয়ার প্রয়োজন হয়। যা চক্ষুশুল হয় চীফ কমান্ড্যান্টের। 

চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই)'তে কর্মরত অপ্রতিরোধ্য দুলাল-কুতুব সিন্ডিকেটের অনিয়ম দূর্নীতি, দখলদারি চাঁদাবাজির বিষয়ে তথ্য দেয়া এবং সেখানে কর্মরতদের দুর্ভোগ, লোকবল সংকট, নষ্ট সিসি ক্যামেরা, চোরের উৎপাত, অনিরাপদ নিরাপত্তা বেষ্টনী সহ নানান সমস্যার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন করার জন্য সেখানকার সাব ইন্সপেক্টর পদধারী অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর আবু সুফিয়ানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সরাসরি একটি নিউজের মন্তব্য নিতে গিয়েই বাঁধে এই বিপত্তি। 

দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে নায়েক দুলাল ও হাবিলদার কুতুব উদ্দিন সিন্ডিকেটের অনিয়-দূর্নীতি, রেলের জায়গা ভাড়া খাটানো, বিভিন্ন গ্যারেজ, দোকান পাট, গরুর খামার, তেল-লোহা চোর চক্রের সাথে সখ্যতা, ভূয়া টিএ বিল, ভগবান ডিউটি, এস্কর্ট ডিউটি বেঁচাকেনা, দিন হারে ছুটি বেঁচাকেনা, স্টাফ নির্যাতন ও সিনিয়রদের সাথে অশোভন আচরণ সহ অন্যান্য দখলদারদের থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহন সহ বিনা পরিশ্রমে ভূয়া টিএ বিল তৈরীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়ে অনেকবার তথ্য দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

বস্তুত সিজিপিওয়াই টু সিপিএ এর সোনার ডিম পাড়া হাঁস খ্যাত দুলাল-কুতুব সিন্ডিকেট সদস্যদের সরিয়ে আনলে প্রতি মাসে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার অবৈধ আয়ের ভাগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়েই তাদের সেখান থেকে সরানো হয় না বলেই মন্তব্য করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্যরা। দীর্ঘ ১ যুগের বেশী সময় ধরে কুতুবউদ্দিন সেখানে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কর্মস্থল ত্যাগ না করেও এখন পর্যন্ত সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে নিজে সহ অন্যান্য স্টাফদের নামে। 

অন্যদের ভূয়া টিএ বিল তৈরীর করে দেয়া বাবদও কমিশন নিচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে। কুতুবউদ্দিন এর তৈরী করা দূর্নীতির সিক্রেট সিস্টেম ছড়িয়ে পড়েছে কোনো কোনো সার্কেলের ইনচার্জ, হাবিলদার, সিপাহি-অফিস স্টাফদের মাঝেও। 

এসব তথ্য তুলে ধরতেই জহিরুল ইসলাম শুরুতেই মেজাজ হারান পোষ্য সোসাইটির সাংগঠনিক কাজে সিআরবি'তে আসা সদস্যদের উপর। মুখের উপর বলে বসেন, আপনাদের এত কাজ কি সিআরবি'তে?

সাংগঠনিক কাজ এবং সমসাময়িক ৮৬৫ খালাসীর রায়ের পক্ষে সরজমিনে দাপ্তরিক কাজের নিন্দনীয় বিরোধিতার প্রতিবাদ জানালে তিনি দুলাল-কুতুবের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এটি কমাড্যান্টকে অবগত করুন তিনি ব্যবস্থা নিবে। 

উল্লেখ্য যে, গত দেড় বছরে প্রায় ৫০০ জনের কারণে অকারণে বদলী হলেও, সোনার ডিম পাড়া খ্যাত দুলাল-কুতুব সিন্ডিকেটের কারো বদলী হয়নি। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য তুলে ধরলে এরা গণমাধ্যম কর্মীদের গালাগালি সহ দেখে নেয়ার হুমকি দিতেও দ্বিধা বোধ করে না।

পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে একযোগে ২৫০ জন বদলীর বিষয়টি একটি গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। এতে বেশ কয়েকজন চীফ ইন্সপেক্টর, ইন্সপেক্টর, সাব ইন্সপেক্টর, হাবিলদার, সিপাহি সহ দক্ষ অবিজ্ঞ জনবলকে পশ্চিমাঞ্চলে বদলী এবং কিছু সদস্যদের ইচ্ছাকৃত প্রতিশোধ পরায়ণ ভাবে বদলীর গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে এদের বদলী করা হবে। সেই সাথে ৩ বছরের অধিক সময় ধরে যারা একই কর্মস্থলে আছেন তাদেরও বদলী করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুলাল-কুতুব সহ বেশ কয়েকজনের ৩ বছরের অধিক সময় হলেও এদের কেন বদলী করছেন না এবং সম্প্রতি এক মাসের মধ্যেই একজন সিপাহির আবারো চট্টগ্রাম অস্ত্র শাখায় ফিরে আসা সহ দায়িত্ব প্রাপ্ত কিছু পোষ্টিং হাবিলদারদের ৩ বছর হওয়ার আগেই তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও তথ্য উঠেছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে এবং মধ্যভোগীদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে বদলীর বিষয়ে খোদ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই ক্ষোভ বিরাজ করছে, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে এবার গণমাধ্যম কর্মীদের উপর ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি। 

সম্প্রতি একটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকে  'পূর্বাঞ্চলে ওপেন সিক্রেট বদলী বাণিজ্য' এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রায় গণমাধ্যম কর্মী ও তাদের প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন আছে নেই ইত্যাদি বিষয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি। এসময় তিনি তাঁর কাছে আসা বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে বিভিন্ন কটূক্তি মূলক মন্তব্যও করেন। 

নির্ভরযোগ্য কিছু সূত্র জানায়, গতবার চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীতে বদলীর আগে বেশ কিছু সদস্য'রা জহিরুল ইসলাম থেকে আনুমানিক অর্ধ কোটি পাওনা টাকা আদায়ে সিআরবি সদর দপ্তরে তাঁকে ঘেরাও করে।

এর মধ্যে ৫ সদস্য মিলে ১৮ লক্ষ টাকার চেক আদায় করেন সিসি আরএনবি (পূর্ব) দপ্তরের বড় বাবু ইমাম হোসেন উজ্জ্বলের মাধ্যমে এমন তথ্যের বিপরীতে তিনি বলেন বিষয়টি এমন নয়। তবে পাহাড়তলী স্টেশনে কর্মরত ইনচার্জ হাবিলদার কৃষ্ণ পদ চক্রবর্তী আমার দেড় লাখ টাকার ব্যাংক জমা স্লিপ নিজের কাছে রেখে দিয়ে পরে ব্লাকমেইল করে চেকের মাধ্যমে সেই টাকা আদায় করেন বলে জানান তিনি।

তবে গুঞ্জন উঠেছে, গতবার বাহিনীর কিছু সদস্য চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামের আস্থাশীল হওয়ার সুযোগে সুবিধামত জায়গায় বদলী করার নামে টাকা আত্মসাৎ করতেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হাবিলদার ও চীফ অফিসের বড়বাবুও রয়েছেন। এবারও একইভাবে চীফ কমান্ড্যান্টকে কন্ট্রোল করতে চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। 

তাদের মধ্যে কেউ কেউ আঞ্চলিক প্রভাব খাঁটিয়ে এবং চীফ কমান্ড্যান্টের সাথে পূর্বের লেনদেনের দেনা-পাওনাকে কাজে লাগিয়ে আগের মত অপরাধ রাজত্ব কায়েমে মরিয়া হয়ে আছেন। এসময় চীফ কমান্ড্যান্ট তাঁর অধীনস্থ কিছু সদস্যদের নাম ধরে বলেন, অনেকে বলে এরা আমার গ্রামের বাড়ির পরিচয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ নিচ্ছে। তবে আমি তাদের আর কোনো সুযোগ দিচ্ছি না। 

পোষ্য সোসাইটির সদস্যদের বিরুদ্ধে অযাচিত মন্তব্যের ফলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা। এবিষয়ে পোষ্য সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, পূর্বাঞ্চল রেলের কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ৮৬৫ খালাসি মামলার আদালতের রায়ের বিরোধিতা করছেন। মামলার রায়ে চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগ বিলম্ব করতে নানান কূটকৌশল অবলম্বন করছে। 

নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ কমান্ড্যান্টের এমন মন্তব্য স্পষ্টত সন্দেহজনক। ভবিষ্যতে পোষ্য সোসাইটির কোনো সদস্যদের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র, বাঁধাবিপত্তি, আস্ফালন মন্তব্য বা অন্য কারো মাধ্যম হয়ে হুমকি-ধমকির জন্য জহিরুল ইসলাম এর দায় এড়াতে পারেন না। আস্ফালন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নের সারথি হয়েছেন কিনা এবিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সমগ্র বিষয়ে সরাসরি মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) এর দপ্তরে গেলে প্রশাসনিক কাজে রেলভবন থাকায় তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আজকালের খবর/ এমকে







আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft