শনিবার ২৭ জুন ২০২৬
মালয়েশিয়ায় চার মাস ধরে বেতনহীন ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম   (ভিজিট : ৮)
মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক টানা চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, অ্যারোফোম কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ না করায় অনেকেই খাবার, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের আশায় তারা দ্বারস্থ হয়েছেন দেশটির শ্রম বিভাগের।

শুক্রবার (২৬ জুন) পোর্ট ক্লাং শ্রম বিভাগ-এ শ্রমিকদের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। শুনানির আগে ১০৭ জন শ্রমিক সম্মিলিতভাবে বিশিষ্ট আইনজীবী লতিফা কোয়াকে তাদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

শুনানির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হলেও নিয়োগকর্তা পক্ষ জানায়, বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তারা নতুন করে মধ্যস্থতার তারিখ নির্ধারণের আবেদন জানায়। তবে শ্রমিকদের আইনজীবী বিষয়টি আর বিলম্ব না করে সরাসরি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানান।

শেষ পর্যন্ত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্য, টানা চার মাস বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটানোর পরও আরও প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের দুর্ভোগকে আরও গভীর করবে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। কারও কাছে খাবার কেনার অর্থ নেই, আবার কেউ বাসাভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে উচ্ছেদের শঙ্কায় রয়েছেন। তারা বলছেন, শ্রম দিয়ে উপার্জিত ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় তাদের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

শুনানিতে আইনজীবী লতিফা কোয়া মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের যেন বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) করা না হয়, সে বিষয়ে আইনি সুরক্ষার প্রশ্নও উত্থাপন করেন। কারণ মামলা চলাকালে অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে শ্রমিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।

শুনানি শেষে শ্রমিক ও তাদের সমর্থকরা জেটিকে কার্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণ সংহতি কর্মসূচি পালন করেন। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তারা বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

পরে শ্রমিকদের আবাসস্থলে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তাদের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধ, দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য জরুরি সহায়তা এবং মামলা চলাকালে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজকরা বলেন, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও নথিপত্র সংরক্ষণ এবং সম্মিলিতভাবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করা।

চার মাস ধরে উপার্জনের একমাত্র উৎস বন্ধ থাকার পরও যদি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকে, তবে এটি শুধু শ্রম অধিকার নয়, মানবাধিকারের প্রশ্নও হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকালের খবর/ এমকে









Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft