মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ত্যাগের চেতনায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানী কুয়ালালামপুরের ঐতিহাসিক মসজিদ নেগারা-সহ দেশটির বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একযোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের জামাতে স্থানীয় মালয় মুসলিম, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান মুসলিম, চাইনিজ মুসলিম এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের হাজারো মুসল্লি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন। ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃশ্য দেখা যায় পুরো দেশজুড়ে।
নামাজ শেষে শুরু হয় পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা। গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানির পাশাপাশি কিছু এলাকায় উট ও দুম্বাও কোরবানি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের উদ্যোগে কোরবানির মাংস দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এদিকে, ঈদুল আযহা উপলক্ষে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাদের বাণীতে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করা হয়।
জাতীয় মসজিদ নেগারা-র গ্র্যান্ড ইমাম ড. আমরু আলহাজ্ব বিন আদনান খুতবায় কোরবানির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “কোরবানি হলো আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ-তিতীক্ষার অন্যতম মহান ইবাদত। যুগে যুগে সব নবী-রাসূলের জন্যই এটি বিধিবদ্ধ ছিল। হযরত ইবরাহিম (আ:)-এর আত্মত্যাগের আদর্শ আজও মুসলিম উম্মাহকে অনুপ্রাণিত করে।”
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ার পুত্রা মসজিদ-এ মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পুত্রা মসজিদের গ্র্যান্ড ইমাম ড. মোহাম্মদ জাকওয়ান রোদজালি নামাজের আগে মুসল্লিদের নিয়ে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করেন।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অনেক প্রবাসী মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলে দেশের প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরিবার থেকে দূরে থেকেও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দেখা যায় তাদের।
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মন্জুরুল করিম খাঁন চৌধুরী প্রবাসী বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ান নাগরিকদের পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন মালয়েশিয়া সরকারের নিয়ম-কানুন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করেন। পাশাপাশি তিনি সবার সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন।
উল্লেখ্য, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা মালয়েশিয়ায় প্রতি বছর সরকারি ছুটির দিনে পালিত হয়। ত্যাগ, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসা এই উৎসব বহু জাতি ও সংস্কৃতির দেশ মালয়েশিয়ায় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
আজকালের খবর/ এমকে