স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কমিশনের সদস্যরা জানান, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, জবাবদিহিতা, নিরাপত্তা ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তারা ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল, তার অনেক বিষয়ই কমিশনের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর মতামত ও পরামর্শও প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে।
কমিশনের সদস্যরা বিশেষভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
তারা বলেন, শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে রোগীর চাপ, চিকিৎসা ব্যয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
এছাড়া কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশের সঙ্গে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক ইশতেহারেরও উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জবাবদিহিতা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কমিশনের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে এসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
এ সময় স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনসহ কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, এম এম রেজা, ডা. আজহারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। পরে কমিশন তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়।
আজকালের খবর/বিএস