জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ।
গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন অনু জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের-বিআরডিবি আড়াইহাজার উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন।
পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, “এক নারীর বাড়িঘরে হামলা ও চব্বিশের আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা লুটের অভিযোগে করা দুটি মামলায় ১৫ মে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।”
পরে খাগকান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও লুটপাটের মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। তবে মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন বলেও জানান পুলিশ পরিদর্শক সামাদ।
মামলা তিনটির এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকালে আড়াইহাজার থানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের পর আগুন দেওয়া হয়। পরে ২৩ অগাস্ট থানার এসআই রিপন মৃধা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২৫ থেকে ৩০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
একই বছরের ৬ অগাস্ট খাগকান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়িতেও হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। এত পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭০০ থেকে ৮০০ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করে।
এদিকে ১৩ মে উপজেলার মুকুন্দি এলাকায় চাঁদা না পেয়ে বাড়িঘরে হামলার অভিযোগে সীমা আক্তার নামে এক নারী মামলা করেন। ওই মামলায় আনোয়ার হোসেন অনু, তার স্ত্রী ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তারসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
এর দুই দিন পর ভোরে নিজ বাড়ি থেকে আনোয়ার হোসেনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। পরে তাকে সীমা আক্তারের করা বাড়িঘরে হামলা ও ২০২৪ সালের অগাস্টে থানায় আগুন ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আনোয়ারের বিরুদ্ধে নিয়মিত একটি মামলা ছিল এবং তাকে আড়াইহাজার থানায় হামলার মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তাই এই মামলাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”
তবে আনোয়ারের স্ত্রী পারভীন আক্তার অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তার স্বামীকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আওয়ামী লীগ আমলে অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। জুলাই আন্দোলনে আমরা সক্রিয় ছিলাম। এমনকি আড়াইহাজার থানায় হামলার দিনও আমরা ঝাপিয়ে পড়েছিলাম থানা ও থানা পুলিশের সদস্যদের বাঁচাতে। তৎকালীন ওসি আহসান উল্লাহসহ অনেক পুলিশ সদস্যকে আমার স্বামী আনোয়ার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু ওই থানায় হামলার মামলাতেই পুলিশ আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।”
তিনি বলেন, তার স্বামী অসুস্থ এবং তিনবার স্ট্রোক করেছেন।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে পারভীন আক্তারের সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জেরেও তার স্বামীকে মামলায় জড়ানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন পারভীন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আলাউদ্দিন। তার ভাষ্য, “তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
আজকালের খবর/ এমকে