গাজীপুরে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগ, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর ৯ মাস বয়সী রাইহান এবং ৫ মাস বয়সী সিফাত নামে দুই শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে আরও ২১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং বর্তমানে শুধুমাত্র এই হাসপাতালেই ৪৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জেলার ছয়টি সরকারি হাসপাতালে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এখন পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৫৯১ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে রোগীর চাপ মূলত শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই বেশি।
অন্যদিকে, মৃত শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও নজরদারির ঘাটতির কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, ভর্তি করার পরপরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া যায়নি, ফলে শিশুর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, প্রতিটি রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও হামের চিকিৎসা কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কাপাসিয়ায় ১৪ জন, কালিয়াকৈরে ১৫ জন এবং শ্রীপুরে ভর্তি হওয়া ১ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এতে করে তুলনামূলকভাবে উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা গ্রহণে ঘাটতি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিতে দেরি-এই তিনটি কারণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
গাজীপুরে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুই শিশুর মৃত্যু স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস