আসন্ন নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থী ও নেতৃত্বের প্রশ্নে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমনের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ তাঁকে ভবিষ্যৎ মেয়র হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা শফিউল আলম সুমন রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। দিনদিন তাঁর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের সুখেদুঃখে পাশে দাঁড়ানো, দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা এবং এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি বর্তমানে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের শুরু থেকেই তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়েও তিনি রাজপথে অবস্থান করেছেন এবং নেতাকর্মীদের সাহস ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নানা বাঁধা-বিপত্তিসহ রাজনৈতিক মামলার চাপের মধ্যেও তিনি দলীয় কার্যক্রম থেকে সরে যাননি। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, শফিউল আলম সুমন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি সংগঠনের একজন অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করেন। সঙ্কটময় সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁর প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা অনেক বেশি। দলের দুঃসময়ে তাঁর ভূমিকা নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে। রাজনীতির বাইরে উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন শফিউল আলম সুমন। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয়, সামাজিক, ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা। যে কারণে নন্দীগ্রাম পৌরবাসীর হৃদয়ে ঠাঁই পেয়েছেন এই তরুণ জননেতা শফিউল আলম সুমন। জনমত জরিপে দেখা যায় যে, জনপ্রিয়তার দৌড়ে শফিউল আলম সুমনই এগিয়ে রয়েছে। সেদিকটা ভেবে থেমে অন্য প্রার্থীরা। সব প্রার্থীই নিজের ইমেজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে।
বর্তমান তরুণ থেকে বৃদ্ধদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। এলাকার বিশ্লেষকদের মতে, শফিউল আলম সুমনের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন, ত্যাগী মনোভাব ও সাংগঠনিক দক্ষতাসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ। তিনি মানুষের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমাধানের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেন বলেই সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দিনদিন বাড়ছে। এদিকে নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনেকে সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও নির্বাচনী ভাবনা শুরু হয়েছে। পাড়া, মহল্লা, হাট-বাজার ও চা স্টল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সবখানেই আলোচনা হচ্ছে এবার নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র কে হচ্ছেন? এমন প্রশ্নে বেশিরভাগ উত্তর আসে শফিউল আলম সুমনের পক্ষে। এলাকার অনেকেরই মতে, সততা, সাহস, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি নন্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র হবার যোগ্য। তাঁদের বিশ্বাস, সুযোগ পেলে তিনি নন্দীগ্রাম পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। আসন্ন নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটারদের মধ্যে চলছে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা।
নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছি। সেই সূত্রে দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণের সুখেদুঃখে পাশে থাকার সুযোগ হয়েছে। আর দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণের সমর্থন নিয়েই আমি আসন্ন নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হবার প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলে নন্দীগ্রাম পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডেই ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি সেবামূলক কাজে গুরুত্ব দিবো ইনশাআল্লাহ।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব