মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের হাতে বৃদ্ধা মা খুন হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্যধুসুরিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নিহত বৃদ্ধার নাম রেজিয়া বেগম (৯৮) তিনি ওই গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। অভিযুক্ত মেয়ের নাম রোকেয়া বেগম (৬৫)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার মৃত মালেকের স্ত্রী এবং নিহতের বড় মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নিজ ঘরের ভেতর থাকা একটি বটি দিয়ে মা রেজিয়া বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন রোকেয়া বেগম। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরপরই তিনি তার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে (ভাতিজা) রাসেলকে ডেকে বলেন, তোর দাদি মারা গেছেন, পুলিশে খবর দে।
রাসেল ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে খাটের ওপর রেজিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
স্থানীয়দের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন রোকেয়া বেগম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং মায়ের সাথেই বসবাস করছিলেন। ফুফু আমাকে ডেকে হঠাৎ করেই বলেন যে তিনি দাদিকে হত্যা করেছেন এবং পুলিশে খবর দিতে বলেন। ঘরে গিয়ে দেখি দাদির রক্তাক্ত দেহ খাটের ওপর পড়ে আছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হরিরামপুর থানা পুলিশ। তারা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান: মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রোকেয়া আক্তারকে (বেগম) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আজকালের খবর / রাশেদুল মিলন