গাজীপুরের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘গণবাণী ডট কম’-এর প্রকাশক-সম্পাদক ও দুটি জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ওপর হামলা, টাকা ছিনতাই এবং ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় নারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের হান্নান মোল্লা (৫১), মহানগরের পূর্ব চান্দনা এলাকার লতিফ সরকার টুটুল (৫০), কাপাসিয়া উপজেলার নজরুল ইসলাম আজহার (৫২) এবং একই এলাকার বাসিন্দা খাদিজা আক্তার (৩১)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিএমপি সদর মেট্রো থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. উজ্জ্বল হোসেন তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২৫ ধারায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে চার্জশিট (নং-২১২) দাখিল করেন।
আজ রোববার (২৪ মে) মামলাটির শুনানির দিনে আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান এবং জিএমপির কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ। একই সঙ্গে জামিনে থাকা আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
চার্জশিট ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিবাদী হান্নান মোল্লা, লতিফ সরকার ও নজরুলের সঙ্গে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর জেরে হান্নান মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে সাংবাদিক আসাদকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ নিয়ে পূর্বে একাধিক জিডি ও আদালতে দুই কোটি টাকার একটি মানহানি মামলাও করেন আসাদ, যা বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৪ মার্চ ২০২৬ সকাল সোয়া ১১টার দিকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান পেশাগত কাজে গাজীপুর মহানগরের হাবিবুল্লাহ সরণির অফিস থেকে নগর ভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে খাদিজা আক্তার কথা বলার অজুহাতে তাঁর পথরোধ করেন এবং শার্টের কলার ধরে মারধর শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, খাদিজার ইশারায় আগে থেকে ওত পেতে থাকা হান্নান মোল্লা, লতিফ সরকার ও নজরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন এসে আসাদের ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হান্নান মোল্লা তাঁর পকেট থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। অন্য দুই আসামি লতিফ ও নজরুল পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। আসাদ নিজেকে রক্ষায় পাশের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আশ্রয় নিলে আসামিরা সেখানে ঢুকেও তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার ভিডিওটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সাংবাদিক আসাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ১৬ পাতার স্ক্রিনশট ও সিডি আলামত হিসেবে জব্দ করে। সার্বিক তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব