কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের আবুল খায়ের (৪৩) দীর্ঘ ২২ বছর ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর থেকে কোনো ধরনের উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর জীবন এখন চরম অসহায়ত্বে কাটছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আবুল খায়ের একসময় মাটিকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০০১ সালে বিয়ে করে ছোট একটি সংসারও গড়েছিলেন। তবে বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় তাঁর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, খায়েরের আচরণ ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ২০০৪ সালে তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর থেকেই তিনি ঘরের ভেতর বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। এরই মধ্যে মারা গেছেন তাঁর বাবা নুর মিয়া। বর্তমানে তাঁর চাচাতো ভাই আবদুর রহমান ও বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম কোনোভাবে খায়েরের দেখভাল করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের একটি ছোট অংশে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছেন আবুল খায়ের। দীর্ঘদিন বন্দি থাকায় তিনি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও পারেন না। কখনো কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন, আবার কখনো মাটিতে গড়াগড়ি করেন।
চাচাতো ভাই আবদুর রহমান বলেন, “পরিবারের আর কেউ নেই। আমরা সাধ্যমতো দেখাশোনা করছি। কিন্তু অর্থের অভাবে ভালো চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় পাঁচ বছর আগে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় ভর্তি করা যায়নি। সরকারিভাবে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতেন।”
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম সারোয়ার রাব্বী বলেন, "বিষয়টি জানার পর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে জানান, তিনি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এছাড়া জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম পাটোয়ারি জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তির জন্য প্রথমে চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি, পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব