শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ, দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা-নিপীড়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ আল-হেরা মডেল একাডেমির উদ্যোগে জেলা শহরের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদ চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-হেরা মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মাওলানা বশির আহমদ, শিক্ষক মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ, হৃদিতা আফরিন, মাওলানা আব্দুল জলিল প্রমুখ।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা এবং সামাজিক অস্থিরতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে “রামিসার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই”,“নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ কর”, “ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত কর”সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেখা যায়। মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ এবং নারীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে স্লোগান দেন।
বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা দ্রুত বিচারের আওতায় আসে না। ফলে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। শিশু রামিসার মতো নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে এ ধরনের নির্মমতার শিকার হতে না হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চান, যেখানে নারী ও শিশুরা ভয় ছাড়া চলাফেরা করতে পারবে। রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।
আজকালের খবর / রাশেদুল মিলন