সোমবার ১৫ জুন ২০২৬
প্রাণঘাতী ইবোলার টিকা আসতে সময় লাগতে পারে ৯ মাস : ডব্লিউএইচও
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম   (ভিজিট : ৫৯)
ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ ইবোলার টিকা বাজারে আসতে আর ৯ মাস সময় লাগতে পারে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গসংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার জেনেভায় ডব্লিউএইচও’র সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. ভাসী মূর্তি বলেন, ইবোলা ভাইরাসের বুন্ডিবুগিও প্রজাতি বা ধরনের বিস্তার থামাতে দু’টি সম্ভাব্য ক্যা‘ন্ডিডেট ভ্যাকসিন’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে টিকা দু’টি এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। টিকা সম্পূর্ণভাবে তৈরি এবং তারপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হতে ৯ মাস সময় লাগতে পারে।

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (ডি আর) কঙ্গোতে প্রায় মহামারি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা। আগের দিন মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলার উপসর্গ জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ১৩৯ জনের এবং আরও ৬০০ জনের মধ্যে এই রোগের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ড. ভাসি মূর্তি বলেন, কঙ্গোতে যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে ৫১ জন ইবোলাতে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া প্রতিবেশি উগান্ডাতেও ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন।

কঙ্গোতে যে ৫১ জন নিশ্চিতভাবে ‘ইবোলায় আক্রান্ত রোগী’ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন তারা সবাই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দুই প্রদেশ ইতুরি এবং উত্তর কিভু’র বাসিন্দা। আর উগান্ডায় যে ২ জন ইবোলায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, তারা থাকেন দেশটির রাজধানী কামপালায়।

কঙ্গোতে ইবোলার বিধ্বংসী প্রাদুর্ভাবের জেরে গত ১৭ মে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। তবে সঙ্গে এ-ও জানায় যে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি এখনও বৈশ্বিক মহামারি পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

গত মঙ্গলবার এক বৈঠক শেষে তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সাংবাদিকদের বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যালোচনা অনুযায়ী, কঙ্গোতে ইবোলার যে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে— তা আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে উচ্চমাত্রার মহামারি হলেও এখনও বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে উন্নীত হয়নি।”

কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে ইতোমধ্যে ২ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মদের ভাতা, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ এবং এই রোগটিকে নজরদারির মধ্যে রাখা সংক্রান্ত খাতগুলোতে ব্যয় করা হবে এই অর্থ।

ইবোলা ভাইরাস

ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে ‘জাইর’ প্রজাতিটি। তবে কঙ্গো এবং উগান্ডায় বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য ইবোলার যে ভাইরাসটিকে দায়ী করা হয়েছে, সেটি বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বলে জানা গেছে।

ইবোলার প্রধান শিকার মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রানী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতি। এটি বাহুবাহিত কোনো রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে, এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার-অনুষ্ঠানের সময় মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে ভাইরাসটি।

ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না। কেবলমাত্র ভাইরাসটি বহন করে। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারু এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইবোলার উপসর্গগুলো হলো—হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং তার সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা-ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া, এবং শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ কিংবা মলদ্বার দিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকেই এসব উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে।

বাতাসের মাধ্যমে না ছড়ানোর কারণে ইবোলা এটি অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের তুলনায় কম সংক্রামক। কিন্তু আক্রান্তদের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। রোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে নাক-মুখ ও মলদ্বার দিয়ে অব্যাহত রক্তপাতের জেরে মৃত্যু হয় রোগীর। এজন্য ইবোলাকে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়।

গড় হিসেবে ইবোলায় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়েছে।

বর্তমানে কঙ্গোতে যে ২৪৬ জন ইবোলা কিংবা ইবোলার উপসর্গে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তাদের মধ্যে ৬ জন মার্কিন নাগরিকও আছেন। তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর বলে গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি। আক্রান্তদের কঙ্গো থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র : বিবিসি

আজকালের খবর/ এমকে







আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft