প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৯ পিএম (ভিজিট : )

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসন। ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও নগর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে এ আসন ঘিরে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর লড়াইয়ে ভোটের মাঠ ছিল উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
এবার এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আবু সুফিয়ান এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সমাজসেবক ও চিকিৎসক ডাঃ একে এম ফজলুল হক। নির্বাচনের আগে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ছিল—ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও চিকিৎসক পরিচয়ের কারণে ফজলুল হক উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, আবু সুফিয়ান প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করেন। এ ব্যবধান শুধু ব্যক্তিগত জয়ই নয়, বরং এ আসনে জামায়াতের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটের মাঠে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচারণায় সক্রিয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল ঘরে তুলতে পারেননি ডাঃ ফজলুল হক।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ফজলুল হকের পরাজয়ে প্রভাব ফেলেছে।
সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের দিক থেকে বিএনপি প্রার্থী স্পষ্টতই এগিয়ে ছিলেন। দীর্ঘদিন নগর রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান আবু সুফিয়ানের পক্ষে কাজ করেছে। কেন্দ্রভিত্তিক ভোট ব্যবস্থাপনায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। ভোটারদের কেন্দ্রে আনা, ভোট সুরক্ষা ও সমন্বয় কার্যক্রমে তারা সুসংগঠিত ভূমিকা পালন করেন। এক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে ছিলেন জামায়াত কর্মীরা।
এছাড়া নগর রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রতি আস্থাই অনেক ভোটারকে বিএনপির দিকে ঝুঁকিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরিবর্তনের বার্তার চেয়ে পরিচিত ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক কাঠামোকেই বড় অংশের ভোটার প্রাধান্য।
এছাড়া নির্বাচনের আগে মনোনয়ন ঘিরে আলোচনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ভোটকেন্দ্রে প্রত্যাশিত মাত্রায় সমন্বয় ও সক্রিয়তা দেখা যায়নি। এছারা বিভিন্ন কেন্দ্রে জামায়াত কর্মীদরে ভোটারদের অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে, যা সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে
বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভিত্তিরই প্রতিফলন। অন্যদিকে জামায়াতের জন্য এটি ভবিষ্যৎ কৌশল পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত বহন করছে। ব্যক্তিগত ইমেজ ও পেশাগত পরিচয় যথেষ্ট হলেও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়া নগরভিত্তিক এ ধরনের আসনে সাফল্য অর্জন কঠিন—এ নির্বাচন তারই প্রমাণ।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর