প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম (ভিজিট : )

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বলেছেন, আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। অতীতে উখিয়া-টেকনাফে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা দুর্নীতি করেছে; কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় জেলা জামায়াতের আমির হিসেবেও বক্তব্য রাখেন নুর আহমদ আনোয়ারী।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত জনপদের এই আসনে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট থাকবে না। ন্যায়বিচার ও মানুষের উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা নির্বাচিত হলে যেসব কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবেন বলে জানান, তার মধ্যে রয়েছে–টেকনাফ স্থলবন্দর ও শাহপরীরদ্বীপ করিডোর চালু, টেকনাফ পৌরসভার আধুনিকায়ন টেকনাফে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ, নাফ নদী খনন টেকনাফ কলেজে অনার্স কোর্স চালু পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সরকারীকরণ টেকনাফে মহিলা কলেজ স্থাপন, দমদমিয়া–সেন্টমার্টিন ঘাট চালু, খাস জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরকারীকরণ, টেকনাফে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপন ট্যুরিজম পার্ক চালুর কার্যকর ব্যবস্থা, এছাড়াও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধ, মাদক ও অপহরণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। আনোয়ারীর দাবি, এক বছরের মধ্যেই উখিয়া-টেকনাফের সার্বিক চিত্র বদলে যাবে।
নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি নয়, জনগণের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি আপনাদেরই সন্তান। জন্ম থেকেই এই এলাকাতেই আছি। গত ২২ বছর ধরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও উখিয়া-টেকনাফের মানুষের অধিকার আদায় ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে উখিয়া-টেকনাফ সিন্ডিকেটমুক্ত হবে। এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশাসকদের বিতাড়িত করার সুযোগ এসেছে। নতুন নেতৃত্বে এই সীমান্ত আসনে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ছিবগাতুল্লাহ ছিবগা, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট একেএম শাহজালাল চৌধুরী, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী, শাহপুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুল হোসাইন ছিদ্দিকী, টেকনাফ পৌরসভার সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র মোহাম্মদ ইসমাঈলসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সামনে রেখে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর