![]() |

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমন অভিমত উঠে এসেছে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের ভারতি বিদ্যাপীঠ এডুকেশনাল কমপ্লেক্সের নিউ দিল্লি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের বিষয় ছিল—“দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে শান্তি রক্ষা ও সহযোগিতায় সাংবাদিকতার ভূমিকা” (Role of Journalism in Peace Making and Cooperation in South Asian Countries)।
সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. এম হুদা। প্রধান অতিথি ছিলেন এসজেএফ প্রেসিডেন্ট রাজু লামা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রহমান, ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড. অনিরুদ্ধ শুধাংশু, সদস্য ড. স্মিতা মিশ্র এবং বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবী।
এতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিক, গবেষক, মানবাধিকারকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাপীঠের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবী। তিনি বলেন, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং জনমানুষের মধ্যে আস্থার সেতু তৈরিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শান্তি নির্মাণ ও জনমত গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। দায়িত্বহীন রিপোর্টিং যেমন উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সংলাপ ও আস্থা গড়ে তুলতে পারে।
ডিজিটাল যুগে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার আঞ্চলিক শান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের তথ্য যাচাই, পেশাগত নৈতিকতা এবং সংযত ভাষা ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আলোচকরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিয়মিত সংলাপ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক হতে পারে। সেমিনার থেকে পিস জার্নালিজম চর্চা জোরদার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।