শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬
মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বেশির ভাগ দাবিই মিথ্যা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম   (ভিজিট : ৪৫৩)
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তৃতায় মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে করা তার অধিকাংশ দাবিই বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। 

আল-জাজিরার এক বিশেষ তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, মূল্যস্ফীতি, ওষুধের দাম, শুল্ক নীতি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট যে সব পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, সেগুলোর সঙ্গে সরকারি দপ্তরের নথিপত্রের বড় ধরনের অমিল রয়েছে। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে এখন ‘কোনো মূল্যস্ফীতি নেই’ এবং ওষুধের দাম ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা গাণিতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, তিনি গত তিন মাসে মূল মূল্যস্ফীতি ১.৬ শতাংশের মধ্যে থাকার যে দাবি করেছেন তা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২.৬ শতাংশ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৭ শতাংশে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওষুধের দাম কমানোর দাবিটিও সমালোচনার মুখে পড়েছে। তিনি দাবি করেছেন তার ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ কর্মসূচির কারণে ওষুধের দাম ৩০০ থেকে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো পণ্যের দাম ১০০ শতাংশ কমার অর্থ হলো সেটি বিনামূল্যে পাওয়া যাওয়া, এর বেশি কমার অর্থ হলো কোম্পানিগুলো উল্টো ক্রেতাকে টাকা দিচ্ছে, যা অবাস্তব।

শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে বাইডেন কোনো শুল্ক আরোপ করেননি, অথচ তথ্য বলছে বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার ওপর ৩৫ শতাংশ, চীনের ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছিল।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন শুল্ক মামলার রায় নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আংশিক সঠিক হলেও তা অস্পষ্ট। আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে রায় দিলে সংগৃহীত শুল্কের সম্পূর্ণ অংশ নয়, বরং অর্ধেকের মতো আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হতে পারে বলে আগে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

শ্রম বাজারের চিত্র নিয়েও ট্রাম্পের তথ্যের ঘাটতি পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মচারীকে ছাঁটাই করলেও তার দাবি অনুযায়ী তারা বেসরকারি খাতে সহজে কাজ পাচ্ছেন না। বিএলএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫ লাখ ৮৪ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ। গাড়ি কারখানা তৈরির বিষয়ে ট্রাম্পের দাবিকে অতিরঞ্জিত বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্যমতে, পরিবহন সরঞ্জাম কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় কমে ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। এমনকি গ্যাসের দাম নিয়েও প্রেসিডেন্টের দাবি অমূলক প্রমাণিত হয়েছে; বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম গ্যালন প্রতি ২.৮২ ডলার, যা ট্রাম্পের দাবি করা ১.৯৯ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি।

সূত্র: আল জাজিরা।

আজকালের খবর/ এমকে









Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft