ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  রোববার ● ১৬ মে ২০২১ ● ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  রোববার ● ১৬ মে ২০২১
শিরোনাম: শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’       মহাকাশে সিনেমার শুটিং: প্রতিযোগিতা আমেরিকা-রাশিয়ার       গাজায় আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল       শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ মে খুলছে না       তিন দিনের রিমান্ডে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী       দুই মাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত: মৃত্যু ২২        ঢাকামুখী জনস্রোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে      
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হলুদ তরমুজ চাষে সফলতা
আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
Published : Tuesday, 4 May, 2021 at 2:17 PM

কোনোরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমের রাজধানীখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে হলুদ তরমুজ চাষে প্রথমবারের মতো সফলতা পেয়েছেন একজন কৃষক। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কালো তরমুজ চাষ করার পর এবছর হলুদ তরমুজে ভালো সাফল্য পেয়েছেন রহনপুর পৌরসভার বহিপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তাফার ছেলে শরিফুল ইসলাম। ফলে আগামী বছর ব্যাপক পরিমানে হলুদ তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলেও বাজার মূল্য বেশি থাকায় খুশি চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম হলুদ তরমুজ চাষী শরিফুল ইসলাম।

দীর্ঘদিন থেকে পেশায় কৃষক শরিফুল ইসলামের হঠাৎ তরমুজ চাষে আসার পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে ইউটিউব। গতবছর নিজের মুঠোফোনে ইউটিউব দেখতে দেখতে সামনে আসে কালো তরমুজ চাষের ভিডিও। সেই ভিডিও দেখেই উদ্বুদ্ধ হয়ে খোঁজ শুরু করেন কালো তরমুজের বীজের। এরপর বীজ সংগ্রহ করে কালো তরমুজে ১৫ কাঠা জমিতে এক বছরে দুই বারে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শরিফুল ইসলামকে। গতবছর কালো তরমুজ চাষে সফলতা পেয়ে এবছর চূড়াডাঙ্গা থেকে ৮০০০ টাকা দরে ১০০ গ্রাম চায়না জাতের বীজ নিয়ে এক বিঘা জমিতে শুরু করেন হলুদ তরমুজের চাষাবাদ। পাশাপাশি কালো তরমুজ রয়েছে আরো পাঁচ বিঘা জমিতে। প্রতি বছরে তিন বিঘা জমি ১২০০০ টাকা ও বাকি তিন বিঘা জমি ১৫০০০ টাকা হিসেবে ইজারা নিয়ে এসব চাষাবাদ করছেন তিনি। 

এবছর আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলেও বাজারে উচ্চ মূল্য থাকায় ভালো দাম পেয়ে খুশি শরিফুল ইসলাম। ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন তরমুজ বাজারজাতকরনের কাজ। প্রথমবার ফলন তুলে প্রায় এক লাখ টাকার বিক্রিও করেছেন তিনি। লকডাউনের কারণে জেলার বাইরে থেকে বেপারীরা আসতে না পারলেও জেলার পাইকারী ব্যবসায়ীরাই শরিফুলের জমি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন হলুদ তরমুজ। তাই সব মিলিয়ে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই কৃষক।

শরিফুল ইসলাম বলেন, চূড়াডাঙ্গা থেকে ১০০ গ্রাম বীজ ৮০০০ টাকায় এনে ৭০ গ্রাম বীজ এক বিঘায় চাষাবাদ করেছি। এবছর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করলেও আমি মনে করি, সফল হয়েছি। কারণ আবহাওয়া অনুকুলে না থাকার কারণে ফলন কম হলেও দাম ও চাহিদা ভালো রয়েছে। এমনকি প্রথম বছরেই হলুদ তরমুজ চাষ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা ও অভিজ্ঞতা পেয়েছি। মাত্র ৬০দিনেই ফল পাওয়া যাবে এবং দের লাখ টাকা আয় করা যাবে। অন্যদিকে, কালো তরমুজ পেতে সময় লাগবে ৭০ দিন এবং লাভও তুলনামূলক অনেক কম। 

তিনি আরো বলেন, তরমুজ চাষ একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফসল। সন্তানের মতো যত্ন করে চাষ করে ফসল ফলাতে হয়। সময়মতো সার-বিষ ও পানি দিতে হয়। এছাড়াও চলতি মৌসুমে এবার বৃষ্টি না হওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে। বাইরের ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি দিতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে। ধানচাষ করে তার সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন তরমুজ চাষ করে অধিক পরিমাণে আয় করতে পারায় সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের বিশ্বরোড মোড়ের ফল বিক্রেতা রুবেল আলী জানান, হলুদ তরমুজ এই জেলায় প্রথম। তাই স্বাভাবিকভাবে এর চাহিদাও অনেক বেশি। অন্য তরমুজের তুলনায় অধিক দামে হলুদ তরমুজ নিতে আগ্রহী ক্রেতারা। আগে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে এগুলো আমদানি করতাম। কিন্তু এবছর প্রথমবারের মতো শরিফুল চাষ করেছে, তাই সেখান থেকেই কিনে বিক্রি করছি। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. বিমল কুমার প্রামানিক জানান, গত কয়েক বছরে নায্য মূল্য না পেয়ে এই জেলার কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। হাতেগোনা দু-একটি জায়গায় ছাড়া চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তরমুজ চাষের পরিমান শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। তবে গোমস্তাপুরের শরিফুল ইসলাম প্রথমবারের মতো চায়না জাতের হলুদ তরমুজ চাষে ভালো সফলতা পেয়েছেন। আগামী বছর শরিফুল ইসলামকে দেখে এই হলুদ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হবে কৃষকরা।

আজকালের খবর/এএইস


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com