ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  রোববার ● ১৬ মে ২০২১ ● ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  রোববার ● ১৬ মে ২০২১
শিরোনাম: শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’       মহাকাশে সিনেমার শুটিং: প্রতিযোগিতা আমেরিকা-রাশিয়ার       গাজায় আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল       শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ মে খুলছে না       তিন দিনের রিমান্ডে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী       দুই মাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত: মৃত্যু ২২        ঢাকামুখী জনস্রোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে      
ব্যক্তি সচেতনতাই হোক মহামারি মুক্তির পথ
রাশেদা আক্তার
Published : Monday, 3 May, 2021 at 8:40 PM

প্রাণঘাতী করোনা মহামারীতে জর্জরিত তামাম বিশ্বের মানুষের জীবন। বিশ্বের উন্নত-অনুন্নত-উন্নয়নশীল সব রাষ্ট্র যেন আজ অদৃশ্য এক পরজীবির আক্রমণে করুণ অবস্থা। দেশে প্রথমদিকে সংক্রমণের হার কম থাকলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়তে থাকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও। পরে লকডাউন ও অন্যান্য বিধি-নিষেধ জারির ফলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু চলতি বছরের মার্চের দিকে আবার তা বাড়তে থাকে। যা এখনো অব্যাহত আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পার করছে। এই দ্বিতীয় ঢেউ সংক্রমণের হার আশংঙ্কাজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। প্রতিদিন সনাক্ত রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আর মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এ বছরের শুরুতে দেশজুড়ে করোনার টিকাদান শুরু হয়। ভারতের সাথে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ছয় মাসে ৩ কোটি ডোজ পাওয়ার কথা বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৫৪ লাখ মানুষ টিকা পেয়েছে আর ইচ্ছুক ৬৮ লাখেরও বেশী মানুষ টিকা নিতে পারেনি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মাত্র টিকা গ্রহন করে সম্পূর্ণ করোনা নির্মূল হবে এমনটি নয়। তাই ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও করোনার প্রকোপ এড়াতে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে করোনা পরিস্থিতি মারাত্ন আকার ধারন করেছে। র করুন পরিনতি বাংলাদেশের জন্য খুবই ভয়ংকর। আর  দেশটিতে দিনে প্রায় চার লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। সেখানে মৃত্যুর সংখ্যাও এতো বেশি শেষকৃত্যের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। আর হাসপাতাল গুলোতে অক্সিজেন পাওয়া যেন সোনার হরিণ। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মেডিকেল অক্সিজেন প্রস্তুতকারক লিন্ডের দুটি প্লান্ট রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের অক্সিজেনের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ এ দুটি লিন্ড থেকে সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে দেশে বর্তমানে অক্সিজেনের চাহিদা ১৫০ টন। এর মধ্যে লিন্ড থেকে ৮০ টন এবং স্পেকট্র সরবরাহ করছে ৩৮ টন। সব মিলিয়ে ১১৮ টন। করোনা পরিস্থিতির আগে দেশে মেডিকেল অক্সিজেনের চাহিদা ছিল ১০০ টন।  রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাইফ্লো, নেজাল ক্যানুলা, ভেন্টিলেটর ও আইসিইউর চাহিদা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেনের চাহিদাও বাড়ছে। যা বর্তমানে ১৫০ টনে পৌঁছেছে। এদিকে স্পেকট্র ৩৮ টন দৈনিক সরবরাহ করে তার মধ্যে মাত্র ২০ টন নিজেরা উৎপাদন করে। বাকী ১৮ টন ভারত তথা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমদানি করা হয়। অর্থাৎ  বাংলাদেশে ২০ শতাংশ অক্সিজেন ভারত থেকেই আসে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে হাসপাতালে বেডসহ মেডিকেল অক্সিজেনের সংকট দেখা দিয়েছে। এর থেকে অনুমেয় বাংলাদেশের অবস্থা যদি ভারতের মতো হয় তখন দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা কল্পনাতীত।
বর্তমানে ভারতের বেসামাল করোনা পরিস্থিতি এতই ঊর্ধ্বমুখী ও ভয়াবহ যার; জন্য পুরো দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলো শঙ্কিত। আক্রান্তের সংখ্যা বেশী বৃদ্ধি  পাওয়ায় মহাখালীতে স্থপিত হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতাল আর চট্টগ্রামে স্থপিত হয়েছে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল। আবার অনেকে হাসপাতালে বেড না পেয়ে ঘরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আর অক্সিজেন পাওয়াও দুষ্কর হয়ে উঠেছে। করোনা ভাইরাসের গণসংক্রমণ বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার গত ৭ এপ্রিল থেকে লকডাউন ও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করছে। এখন থেকে আমাদের দেশে চিকিৎসা সেবায় আইসিউ সহ চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে আর এ পরিস্থিতির শেষ কোথায় তা আগাম বলে যাচ্ছে না। ক্রমবর্ধমান করোনায় আক্রান্ত ও কোভিড মৃত্যুর মধ্যে চলমান ঘোষিত লকডাউনে দেশের থমথমে পরিস্থিতিতে শপিংমল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেয়া আমাদের সামগ্রিক পরিকল্পনাহীনতা ও নির্বুদ্ধিতারই প্রতিচ্ছবি হয়ে ফুটে উঠেছে। 
শুধু মাত্র গণপরিবহন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেই লকডাউন ঘোষণার মাধ্যমে করোনার ভয়াবহ প্রকোপ এড়ানো কখনও সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাজার ও  শপিংমলসহ বিভিন্ন জায়গায় পঙ্গপালের মতো জনসমাগমে করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা প্রতিরোধে সর্বনিম্ন ৩ হাত সামাজিক  দূরত্ব বজায় রাখতে যা আমাদের দেশে মেনে চলার কোন চিহ্নও নেই। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও মিডিয়ায়  প্রকাশিত দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধিহীন যে জন সমাগমের ছবি দেখা গেছে তার প্রেক্ষিতে বলা যায়, দেশে করোনা পরিস্থিতি বেসামল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যেন শুধু সময়ের ব্যাপার। অন্যদিকে ভারত নিজেদের দেশে অক্সিজেন সরবরাহে সংকট পরিস্থিতির শিকার হওয়ায় ভারত অক্সিজেন রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। যার কারণে আগামিতে বাংলাদেশে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দিল্লির মতো নাজুক পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বললেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরা স্বাস্থ্যবিধি তথা মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড গ্লাভস, স্যানিটাইজার ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘন ঘন হাত ধোয়া ও প্রয়োজন ব্যতীত বাইরে যাওয়া কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। বরং আগের চেয়েও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি আরো অনীহা ও বেখেয়ালিপনা দেখা দিয়েছে। আর বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি প্রশাসনের কড়াকড়ি ও জোর সচেতনতাও কমে গেছে। ফলে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা। এভাবে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা যদি চলমান থাকে বাংলাদেশকে বরণ করে নিতে হবে দিল্লির মতো করুন পরিনতি। বর্তমানে আমরা একুশ শতাব্দীতে পা দিয়েছি দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হয়েছে, গড় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে  আর উন্নয়নশীল থেকে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা মানুষ হিসাবে কিংবা জাতি হিসাবে নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সচেতন হতে পারিনি। বর্তমানে দেশের করোনা পরিস্থিতি দিল্লির মতো নাজুক না সত্য। তবে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টগুলো যদি ব্যাপকহারে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাহলে দেশের অবস্থা কতোটা ভয়াবহ হবে তা সহজেই অনুমেয়। ভারতের আগে শীর্ষ করোনা আক্রান্ত ও মৃতুর রেকর্ড গড়া দেশ ইতালির পাশ্ববর্তী দেশ স্পেন, স্পেন তথা ফ্রান্সের পাশ্ববর্তী দেশ ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার পাশ্ববর্তী দেশ মেক্সিকো প্রভৃতি কোভিড  আক্রান্ত দেশের পাশ্ববর্তী দেশ গুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে সেখানকার মৃত মানুষের শেষকৃত্য করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।
 তাই ভারত জুড়ে করোনার ট্রিপল মিউটেশনের বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। কোভিড ১৯ এর সঙ্গে মানুষের লড়াই চলছে বছরজুড়ে। সেখানে মানুষের চেয়েও অদৃশ্য করোনা শক্তিময়। কোভিড ১৯ এখনও পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়নি বরং এটি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই আমাদেরকে করোনার তীব্রতা কমাতে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই  মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে মারাত্মক ছোঁয়াচে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার হার অনেকাংশে কমানো যায়। সব সময় মাস্ক পরিধান করতে হবে,জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে,ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করতে হবে, স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে, ফলমূল ও খাবার সব সময় জীবানু  মুক্ত করে খেতে হবে। নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে আশপাশে পরিষ্কার রাখতে হবে।পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের বিশেষ যত্ন নিন। শপিংমল না গিয়ে  প্রয়োজনে  অনলাইনে কেনাকাটা করতে হবে। ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে  পাশাপাশি জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও পরিসংখ্যান বলছে গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলে করোনার আক্রমণ বেশী তাই শহরাঞ্চলের মানুষদের জোর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। 
সর্বোপরি  সবাইকে অবশ্যই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হবে। কেননা করোনা প্রতিরোধে ব্যক্তিসচেতনতার বিকল্প নেই। জনসাধারণের মাঝে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাতে প্রশাসনেরও বিশেষ জোর দেওয়া আবশ্যক। সরকার তথা প্রশাসন কতৃপক্ষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের  কম পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ  মানুষকে ঠিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।একইভাবে বর্তমান ভারতের পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনকল্যাণমুখী যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ও মেডিকেল অক্সিজেনের পর্যাপ্ত মজুদ সহ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাহলে বেঁচে যাবে অনেক প্রাণ, দিল্লির মতো স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হবে না বাংলার আকাশ। চলুন সবাই করোনা মহামারী প্রতিরোধে নিজেদের ও দেশের কল্যাণে নিজে সচেতন হই। এবং অন্যকে সচেতন হতে উৎসাহিত করি। তাহলে করোনার ভয়াবহতার ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবো আমরা ও আমাদের দেশ।
 লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

আজকালেরখবর/টিআর



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com