ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  রোববার ● ১৬ মে ২০২১ ● ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  রোববার ● ১৬ মে ২০২১
শিরোনাম: শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’       মহাকাশে সিনেমার শুটিং: প্রতিযোগিতা আমেরিকা-রাশিয়ার       গাজায় আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল       শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ মে খুলছে না       তিন দিনের রিমান্ডে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী       দুই মাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত: মৃত্যু ২২        ঢাকামুখী জনস্রোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে      
যেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে চিনিশিল্প
রবিউল ইসলাম
Published : Monday, 19 April, 2021 at 8:39 PM, Update: 19.04.2021 8:48:21 PM

মাথাব্যথা যদি পুরো শরীরটাকে অক্ষম করে দেয়, তাহলে মাথাটা কেটে বাদ দিলে সক্ষমতা ফিরবে- এটি নিশ্চয়ই হাস্যরসের খোরাক কিংবা কৌতুক। আর মাথাব্যথার কারণ চিহ্নিত করে তার উপশম করা বিজ্ঞান বা বাস্তব সত্য। অথচ আমাদের দেশে এই মাথাকাটার কৌতুক চলতে দেখে চক্ষু ছানাবড়া হলেও তা যেন মুহূর্তেই মিশিয়ে যায় চেতনা থেকে। ঠিক এমনিভাবে আমরা হারিয়ে ফেলছি নিজেদের সক্ষমতা, আর হয়ে উঠছি পরনির্ভরশীল। অথচ বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বাজার অর্থনীতি কোনো ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়। বাজার অর্থনীতির মোদ্দা কথাটাই হলো, পণ্যের মান ও মূল ভোক্তার চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া। আর তা করতে হলে সহজ-সরল ভাষাটা হলো ভোক্তার চাহিদা অনুয়ায়ী কম দামে ভালো পণ্য বাজারজাত করা। আর তা যদি না হয়, তাহলে নির্ঘাত হোঁচট খেতে হবে। আর তার মাশুল শুধু উৎপাদককে নয়, ভৌগোলিক সীমারেখার নির্ধারিত জাতিগোষ্ঠীকে দিতে হবে; যা আমাদের দিতে হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই। যেমন দেশের চিনিশিল্প।

একসময় আমাদের চিনিশিল্প লাভজনক ছিল। যেমন এক সময় আউশ কিংবা আমন জাতের ধান প্রতি বিঘায় উৎপাদন হতো সাত থেকে আট মণ। কিন্তু তখন যে লোকসংখ্যা ছিল, এখন তা দ্বিগুণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আড়াইগুণ হয়ে গেছে। আর এই বৃদ্ধি অব্যাহত আছে জ্যামিতিকহারে। সুতরাং আজ যদি সেই জাতের ধান চাষ হতো, তাহলে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বের অর্ধেক মানুষকে মরতে হতো না খেয়ে। একই অবস্থা গমচাষের ক্ষেত্রেও। আর এই দুটিই মূলত বিশ্ববাসীর প্রধান খাদ্যদ্রব্য। একই সমীকরণ মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদির। এসব ক্ষেত্রের সবগুলোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে হাইব্রিড জাত এবং প্রকৃতিনির্ভর না হয়ে নিজস্ব খামার ব্যবস্থায় চাষাবাদ পদ্ধতির পরিবর্তন করে। 

চিনি এমন একটি খাদ্যপণ্য, যার চাহিদা সম্ভবত মানবসভ্যতা যতদিন থাকবে ততদিনই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে নানা প্রয়োজনীয়তায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই শিল্পেরও নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে। যে কোনো শিল্পের প্রাণ হচ্ছে মূল উপাদান, অর্থাৎ যা থেকে পণ্যটি পরিবর্তিতরূপে উৎপাদন হয়। চিনিশিল্পে যার নাম আখ বা আখজাতীয় কৃষিজ পণ্য। বাজার অর্থনীতিতে শিল্পের মূল বিষয়টাই হলো অল্প সময়ে, অল্পশ্রমে বেশি পণ্য উৎপাদন করা। সময়, শ্রম এবং কাঁচামাল; অর্থাৎ মূল উপাদানের সমন্বয়ে মানসম্পন্ন পণ্য কম ব্যয়ে উৎপাদন করে কম দামে বাজারজাত করা। আর তা হলেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়া যাবে। 

অথচ আমাদের দেশে এই চিনিশিল্প চলছে সেই সনাতনী পদ্ধতিতে। বছরে একবার এক জমিতে আখচাষ করলে পরের বছর ফেলে রাখতে হয়, যে উৎপাদন হয় তা যেসব পুরনো যুগের মেশিনারিজ দিয়ে মিলে চিনি তৈরি করা হয়, তাতে বলতে গেলে বিশ্বের আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে রাত-দিন ফারাক। চিনিকল এলাকায় যে আখ উৎপাদন হয়, তা দিয়ে সেই এলাকার চিনিকল চলে মাত্র তিন মাস। বছরের বাকি তিন-চতুর্থাংশ সময় মিলগুলো বন্ধ থাকে। কিন্তু বন্ধ থাকে না কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, আবাসন এবং চিকিৎসা খরচসহ নানাবিধ ব্যয়। এরপর আবার যখন মিলগুলো চালু করা হয়, তখন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় তার মেইনটেন্যান্সে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। আখ মাড়াই থেকে শুরু করে চিনি বস্তাবন্দি হওয়া পর্যন্ত মিলের যতগুলো মেশিনারিজ ইউনিট আছে তা কিন্তু কমানো যায় না। ফলে কমানো যায় না লোকবল এবং জ্বালানি খরচও। 
তার ওপর চিনিকলগুলো সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চলে, তাই সেই ব্যাংকেরও সুদ দিতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় পাঁচ-ছয়গুণ। তাদের উৎপাদিত চিনির উৎপাদন খরচ পড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। যেখানে বাজারে চিনির বিক্রয়মূল্য ৬০ টাকা কেজি। ফলে চিনিকলগুলো প্রতি বছর প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। 

তেমনি আবার দীর্ঘমেয়াদি চাষের কারণে এবং কৃষকেরও সময় শ্রম এবং বীজ-সার ইত্যাদি খরচ বিক্রীত অর্থে ওঠে না। এ কারণে আখচাষ ছেড়ে কৃষক স্বল্পকালীন কৃষিপণ্যের দিকে ঝুঁকেছে। আর বিশেষ করে আখ বিপণন ব্যবস্থাতেও রয়েছে নানা জটিলতা। তাই কৃষক আখচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

লোকসান দুই দিকে। ফলে দেশের চিনিকলগুলো এখন অনেকটাই মৃত। ছয়টি চিনিকল বন্ধ করা হয়েছে এবং এভাবে চললে সরকারি বাকি চিনিকলগুলো বন্ধ হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই অবস্থায় আইসিউতে অক্সিজেনের মতো দেশের ভোক্তাদের চাহিদা মেটানোর সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি দুটি মাত্র চিনিকল। তা-ও আবার বিদেশ থেকে ‘র’ সুগার আমাদানি করে রিফাইনারির মাধ্যমে। এই প্রয়াসের একটি নাম দেশবন্ধু সুগার মিল। ২০০১ সালে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানধীন দুটি মিলের মধ্যে দেশবন্ধু সুগার মিল ছাড়া অপর মিল কালিয়া চাপড়া প্রথম দিকে শত চেষ্টা করেও কৃষকের আখ উৎপাদনে উৎসাহিত না করতে পেরে গত প্রায় ২০ বছর ধরে মিলটি বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে ওই জায়গায় একটি ইকোনমিক জোন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে ১৭টি চিনিকল রয়েছে। তার মধ্যে ১৫টি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীনে পরিচালিত হয়। আর দেশবন্ধু ও কালিয়াচাপড়া চিনিকল সরকার বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বেসরকারিভাবে পরিচালিত হতো। কালিয়াচাপড়া বন্ধ হয়ে পড়ায় এখন সবেধন নীলমণি দেশবন্ধু সুগারমিল।

বিএসএফআইসি অধীন ১৫টি সুগার মিলের অধিকাংশই দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। এসব চিনিকল চালু রাখতে বিদেশ থেকে ‘র’ সুগার আমদানি করে রিফাইন করে তা বাজারে সরবরাহ করলে হয়তো এই মিলগুলোও আইসিইউর মতো টিকে থাকবে। তবে এর সঙ্গে কৃষকের আখ উৎপাদনে আগ্রহী করতে প্রণোদনা প্যাকেজ এবং অল্প দিনে উৎপাদন হয় এমন আখ বীজচাষিদের বিতরণের ব্যবস্থা করলে স্থায়ী হয়ে উঠতে পারে এই শিল্প। এজন্য বিদেশ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে ৬০ থেকে ৭০ বছরের পুরনো মিলগুলো বিএমআরই (ব্যালান্সিং, আধুনিকায়ন, বিস্তার ও প্রতিস্থাপন) করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

দেশবন্ধু গ্রুপ সরকারের রুগ্ন শিল্প চালু করে এক অনন্য নিদর্শন সৃষ্টি করেছে। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও রেখে যাচ্ছে দেশবন্ধু সুগারমিল। ক্রমাগত লোকসানে ১৯৯৫ সালে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে। এরপর সরকারের বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০১ সালে দেশবন্ধু গ্রুপ মিলটি ক্রয় করে সরকারের বিক্রয় নীতিমালার আলোকে পুরনো শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ করে আখচাষিদের মাধ্যমে আখ ক্রয় করে মিলটি চালুর ব্যবস্থা করে। দীর্ঘদিন মিলটি বন্ধ থাকায় এবং ঢাকা শহরের নিকটস্থ (নরসিংদী) হওয়ায় আখচাষিরা ইতোমধ্যে আখের মতো দীর্ঘমেয়াদি কৃষিপণ্য চাষাবাদ বন্ধ করে অন্যান্য অর্থকরী এবং কম সময় প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য উৎপাদন শুরু করে। অনেক চেষ্টা করেও কৃষদের ভালো বীজ, কীটনাশক, সার ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও আখের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি কৃষিপণ্য উৎপাদনে ফেরেনি। কৃষকের আখ উৎপাদনে উৎসাহিত না করতে পেরে ২০০৫ সাল থেকে দেশবন্ধু সুগারমিল বিদেশ থেকে মিলটির কাঁচামাল আমদানি করে স্থানীয় বাজারে সুলভমূল্যে চিনি সরবরাহ করতে থাকে। উৎপাদিত চিনি ইউরোপসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এ বিষয়ে বলেন, সরকার বেসরকারিকরণের পর দেশবন্ধু সুগারমিল যেভাবে ব্যবসা করছে, সরকারের অন্য মিলগুলো সেভাবে কেন করতে পারছে না? সরকারি মিলগুলোতে দুর্নীতি কমাতে হবে। ‘র’ সুগার এনে মিলগুলো পরিশোধন করে বিক্রি করলেও লোকসান থাকবে না। সরকারকে আইনকানুন আর নিয়মনীতির মধ্যে না থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। মিলগুলো বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করব, কৃষিপণ্য হিসেবে আখচাষেও প্রণোদনা দেবে সরকার।

সরকারের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকালের খবরকে বলেন, চিনিকলগুলোর বাজার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। চিনিকলগুলো থেকে সারা বছর চিনি উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। ‘র’ সুগার পরিশোধন করার ব্যবস্থা করলে সারা বছর উৎপাদন করা সম্ভব। আর তখন সরকারি মিলের পাঁচ হাজার ডিলারের কাছ থেকে জামানত দ্বিগুণ করা যাবে; যা দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা অন্য কোনো বায়োপ্রডাক্ট উৎপাদন করা যাবে। এতে লোকসানের বোঝা আর থাকবে না। 

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, চিনিকলগুলো বিএমআরই করার জন্য বিদেশ থেকে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে হবে। বিদেশে এখন ঋণের সুদ মাইনাস। আর বাংলাদেশের উন্নয়নের কারণে সবাই এখানে ঋণ দিতে চায়। তাই এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এ ছাড়া ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের অনেক টাকাই অব্যবহৃত হয়ে আছে। সরকার উচ্চপর্যায় থেকে বললেই আমরা এই উদ্যোগ নিতে পারি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব জাতের আখচাষ হয়, তা থেকে গড়ে রিকভারি বা আখ থেকে চিনির পরিমাণ পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ রসের চিনি হয়। এভাবে রিকভারি  দিয়ে আর্থিকভাবে কোনো মিল লাভে থাকতে পারে না। এক হিসাবে দেখা যায়, এক টন আখে বাংলাদেশ চিনি হয় প্রায় ৫০ কেজি আর সেখানে ভারত, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ডসহ আখ উৎপাদনশীল দেশগুলো রিকভারি  প্রতি টনে ১০০ কেজির বেশি হয়। আবহাওয়া ও উন্নতমানের জাতের অভাবে আমাদের দেশে রিকভারি রেট কম। অন্যদিকে অন্যান্য আখ উৎপাদনকারী দেশে দেশে ১৮০ থেকে ২০০ দিনের মধ্যে আখ মাড়াই হয়। ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় সারা বছরই আখ উৎপাদন হয়। সেখানে ২০০ দিনের মধ্যেই হয়ে যায়। কারণ সেখানের উন্নত জাত, উপযোগী আবহাওয়া এবং জমির উর্বরতা। 

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন আজকালের খবরকে বলেন, আখের কারণে মিলগুলো চলতে পারছে না। ২০১৯ সালে পাবনা সুগার মিল ৪৭ দিন আর ২০২০ সালে ৪২ দিন চলছিল; তাহলে তো মিলগুলো লোকসানের মধ্যেই থাকবে। আমরা গবেষণা করে উন্নত জাতের আখের জাত আবিষ্কার করেছি; কিন্তু সেসব জাতের আখ চাষ করা হয় না। 

এই আখ গবেষক আরো বলেন, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৬ জাতের চারটি আখে চিনির রিকভারি ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ; কিন্তু দেশে যেসব জমিতে আখ চায় হয়, তার এক শতাংশ মাত্র এসব জাতের চাষাবাদ হয়। আমরা আখের জাত আবিষ্কার করে তার প্রযুক্তি দিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, মিলগুলো সময়মতো আখ নিতে পারে না, এতেও রিকভারি  কমে যায়। এখন আখ থেকে চিনি উৎপাদনে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ রিকভারি। মূলত আমাদের এই খাতে নানা সমস্যা রয়েছে। আখের চাষ যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি মিলগুলো সারা বছর বা অন্তত ছয় মাস চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিনির মতো একটি প্রয়োজনীয় পণ্য এখন আমদানিনির্ভর। কোনো প্রাকৃতিক কারণে বা ‘র’ সুগার উৎপাদনকারী দেশ রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশ সংকটে পড়ে যাবে। তাই দেশে আখচাষের সুযোগ আছে। সরকার উদ্যোগ নিলেই আখ উৎপাদন আরো বাড়ানো যাবে। এক্ষেত্রে দেশের যে এলাকায় যে ধরনের আখের চাষ করলে রিকভারি ভালো হবে, সেভাবে পরিকল্পনামাফিক আখচাষ করতে হবে। বিশেষ করে আখচাষের জন্য কৃষকদের নগদ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরকারকে সক্রিয় বিবেচনায় আনতে হবে। 

পঞ্চগড় চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম বলেন, সরকার সব খাতে প্রণোদনা দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের দিকে তাকাচ্ছে না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, আমাদের (শ্রমিক-কর্মচারী) বকেয়া বেতন পরিশোধ, অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচুইটির টাকা পরিশোধ করা হোক। আমাদের কথা চিন্তা করে সরকার মিলগুলো চালু করবে- এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। 

সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসান হাবীব আজকালের খবরকে বলেন, দেশে উৎপাদিত আখ দিয়ে কোনোভাবেই সুগারমিলের লাভ করা সম্ভব নয়। আর বাংলাদেশের মতো কোনো দেশে মাত্র দুই বা তিন মাস সুগার মিল চালু থাকে না। দুই বা তিন মাস মিল চালু রেখে কীভাবে লাভ করা সম্ভব। এজন্য সরকারকে বেশি কিছু প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

৬০ থেকে ৭০ বছরের পুরনো মিলগুলো বিএমআরই করতে হবে উল্লেখ করে আহসান হাবীব বলেন, মিলগুলো বিএমআরই (ব্যালান্সিং, আধুনিকায়ন, বিস্তার ও প্রতিস্থাপন) করতে হবে। তাহলে চিনি রিকভারি বাড়বে। বাংলাদেশে সব থেকে বেশি মেশিন আছে সেতাবগঞ্জ মিলে। কিন্তু এটা বন্ধ রেখে ঠাকুরগাঁও চিনিকল চালু রাখা হলো। আর বিএমআরই করার ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কারণ ঋণের বোঝার কারণে আমরা আজ ভয়াবহ লোকসানের মধ্যে আছি। প্রয়োজনে সরকারকে বিদেশ থেকে কম সুদের ঋণ নিতে হবে। আর কৃষকদের আখচাষের জন্য উৎসাহ দিতে সরকারকে প্রকল্প নিতে হবে। কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকিও দিতে হবে। 

ইক্ষু গবেষক মো. মোতালিব আজকালের খবরকে বলেন, দেশে আখ উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ চিনিতে আমরা বিদেশি ‘র’ সুগারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। আর সরকার এই খাতে উদ্যোগ না নিয়ে এই খাতকে ধ্বংস করছে। উন্নত জাতের আখচাষের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষককে প্রণোদনা দিতে হবে। আবহাওয়াভিত্তিক এবং এলাকাভিত্তিক ভালো মানের আখের চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষকদের বোঝাতে হবে, এখন আমাদের দেশেও ১০ মাসে বা ৩০০ দিনে আখ উৎপাদন করার জাত আবিষ্কার হয়েছে। 

এই গবেষক আরো বলেন, সুগারমিলগুলোকে লাভে নিয়ে আসতে হলে বিএমআরই করে ‘র’ সুগার আমদানি করতে হবে। বেসরকারি রিফাইনারি মিলগুলো লাভ করছে, সুগারমিলগুলোও ভালো টাকা লাভ করবে। সরকারকে নতুন করে রিফাইনারি অনুমোদন বন্ধ করতে হবে।

আজকালের খবর/এএসএস



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com