ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  রোববার ● ১৬ মে ২০২১ ● ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার  রোববার ● ১৬ মে ২০২১
শিরোনাম: শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’       মহাকাশে সিনেমার শুটিং: প্রতিযোগিতা আমেরিকা-রাশিয়ার       গাজায় আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল       শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ মে খুলছে না       তিন দিনের রিমান্ডে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী       দুই মাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত: মৃত্যু ২২        ঢাকামুখী জনস্রোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে      
হয়রানি চললে সেবা ব্যাহত হবে, সরকারকে চিঠি
নিউজ ডেস্ক
Published : Monday, 19 April, 2021 at 7:43 PM

লকডাউনে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে বা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় একের পর হেনস্থার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে চিকিৎসকরা। অন্তত পাঁচ জন চিকিৎসকের পরিচয় পাওয়ার পরও পুলিশ তাদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ আর জরিমানার ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সরকারকে চিঠিও দেয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন যোগাযোগ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গেও। নেতারা বলছেন, মহামারির এই সময়ে তারা কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে চান না। তবে এভাবে চলতে থাকলে প্রতীকী বিরতির কথাও ভাবা হচ্ছে।

গত ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হলেও সেটি আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।

এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া বাকিদের বাইরে গেলে নিতে হচ্ছে মুভমেন্ট পাস। তবে চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। তারা অনুমোদিত ব্যক্তিদের মধ্যেই পড়েন।

গত ছয় দিনে অন্তত পাঁচ জন চিকিৎসক হয়রানিতে পড়েছেন খোদ ঢাকা শহরে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। একজনের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের স্টিকার, গায়ে অ্যাপ্রোন থাকার পরেও পরিচয়পত্র দেখাতে জেদাজেদির এক পর্যায়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে।

এক চিকিৎসককে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেঁটে যেতে বলা হয়েছে। তবে আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না, কিন্তু তাদের জরিমানা দিতে হয়েছে।

তাদেরকে কর্মস্থলে নামিয়ে দিয়ে আসার পথে গাড়ি আটকে জরিমানা করা হয়েছে। কোনো কথাই শোনেনি। এক চিকিৎসক ফোনে পুলিশের সঙ্গে কথা বললে তাকে জেলে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন।

এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিকিৎসকদেরকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলেছে। তবে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ বলছে, সিংহভাগ চিকিৎসকেরই কোনো পরিচয়পত্র নেই। সেখানে কীভাবে তারা এটা সঙ্গে রাখবে।

চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ মহাসচিব ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘চিকিৎসকদের হয়রানি বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তুর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এভাবে চিকিৎসক হয়রানি চলতে থাকলে আমার ঠিকভাবে কাজ করতে পারব না, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হবে। এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এটা দুঃখজনক।’

পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা পালন করা কঠিন উল্লেখ করে এই চিকিৎসক নেতা বলেন, ‘অধিদপ্তরের জানা উচিত দেশের ৮০ শতাংশ চিকিৎসকের কাছে কোনো ডাক্তরি পরিচয়পত্র নেই।’

যা যা ঘটেছে

মুভমেন্ট পাসের আওতামুক্ত হওয়া সত্ত্বেও লকডাউন শুরুর দিন বুধবার সকালে কর্মস্থলে যেতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক চিকিৎসক।

স্কয়ার হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কর্মরত নাজমুল ইসলাম হৃদয় পরিচয়পত্র দেখানোর পরও মুভমেন্ট পাস না থাকায় জরিমানা করা হয়। বিষয়টি জানিয়ে তার স্ত্রী ইসরাত জাহান ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার সেই টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

একইভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন চিকিৎসক দম্পতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার কামরুন নাহার মুক্তা ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার এনামুল কবির খান।

ডা. মুক্তা জানান, তার বাসা এলিফ্যান্ট রোডেই। সকালে তাকে হাসপাতালে নামিয়ে গাড়ি নিয়ে চালক ফিরছিলেন। তিনি তাকে তার আইডি কার্ড দিয়ে পুলিশকে দেখাতে বলেন।

পুলিশ আটকালে চালক জানান, চিকিৎসককে হাসপাতালে দিয়ে এসেছেন। প্রমাণ স্বরূপ তিনি চিকিৎসকের আইডি কার্ড দেখান। পুলিশ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করলে চালক কথা বলার জন্য ফোনে ওই চিকিৎসককে ধরিয়ে দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

ডা. মুক্তা বলেন, ‘পুলিশি ঝামেলা এড়াতে ড্রাইভারকে আমার আইডি কার্ড দিয়ে দিই। পুলিশ আমার আইডি কার্ড দেখানোর পরেও সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মামলা দেয়। এমনকি বেশি কথা বললে ছয় মাসের জেল দেয়ার হুমকি দেয়।

এনামুল কবির খান আরো কিছু ঘটনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হেমাটোলজি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হাবিব রাজু ডিউটি সেরে সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে পুলিশ তাকে নামিয়ে সিএনজি রেখে বাসায় যেতে বলে।’

ডা. মুক্তা ও এনামুল কবির খানের মতো হয়রানির শিকার হয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুজরাত আরফিনও।

এই চিকিৎসককেও ঢাকা মেডিক্যালে নামিয়ে বাসায় ফিরছিল গাড়িচালক। শাহবাগ মোড়ে গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করা হয়। চিকিৎসকের গাড়ি শোনার পরেও ভ্রুক্ষেপ ছিল না পুলিশের।

এনামুল কবির খান বলেন, ‘আমরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে বের হই। তবে কেন এই হেনস্থা? কেন এই হয়রানি? এটার সুষ্ঠ সমধান না হলে আমাদের পক্ষে কাজ করা কষ্ট হয়ে যাবে। এভাবে চলতে পারে না।’

এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড়ে রোববার হেনস্থার শিকার হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (রেডিওলজিস্ট) সাঈদা শওকত জেনি।

তার গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার, গায়ে অ্যাপ্রোর থাকার পরেও নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এ কাইয়ুম জেদ ধরেন পরিচয়পত্র দেখানোর। পরে এ নিয়ে তুলকালাম হয়।

ওই চিকিৎসককে অবৈধ যৌন ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার শামীমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ডা. জেনি।

আজকালের খবর/এএইস


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com