ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ৩ ডিসেম্বর ২০২০ ● ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার  বৃহস্পতিবার ● ৩ ডিসেম্বর ২০২০
শিরোনাম: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা তারিক আনাম, অভিনেত্রী সুনেরাহ       আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি       আবরার হত্যা : বিচারকের প্রতি অনাস্থা আসামিপক্ষের       ভারতে আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় বুরেভি       ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতা রিমান্ডে       রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রথম দলের ভাসানচরে যাত্রা       চীনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়েছে করোনা : গবেষণা      
প্রিন্ট সংস্করণ
উদ্যোক্তা পল্লী ভাগ্য ফেরাবে তাঁতিদের
জাকির হুসাইন
Published : Wednesday, 18 November, 2020 at 1:18 AM


দেশের শতকরা ৯০ ভাগই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। এর মধ্যে তাঁতশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং অপার সম্ভাবনাময়। দেশের মানুষের পোশাকের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করছেন তাঁতিরা। কিন্তু নানা কারণে সম্ভাবনাময় সেই খাত আজ খাদের কিনারে। তবে টেনে তুলতে চায় সরকার। তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মূলধন যোগানের কষ্ট দূর করার জন্য সরকার উদ্যোক্তা পল্লী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যা বাস্তবায়িত হলে আবারো ভাগ্য ফিরবে তাঁতিদের। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রণোদনাসহ নানাভাবে চেষ্টা করছে তাঁতশিল্পের উন্নতি করার জন্য।
এ প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, দেশের তাঁতশিল্পে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কাজ করা হবে। তাঁত বোর্ডের নিজস্ব জমিতে তাঁতিদের জন্য আলাদা করে একটি পল্লী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ পল্লীতে একই স্থানে মেলা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে।  
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, তাঁতবস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাগণের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ব্যবসার স্থান সংকুলান করা হবে। তাঁতবস্ত্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রপ্তানির জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হবে। তাঁতপণ্যের বাজারজাতকরণ সুবিধা সৃষ্টি করা হবে এবং পরিবর্তিত বাজারে ভোক্তার চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন নতুন ডিজাইন উদ্ভাবন এবং দক্ষ ডিজাইনার ও মানবসম্পদ তৈরি করতে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, তাঁতশিল্প এবং তাঁতিদের উন্নয়ন করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। যেসব পরিকল্পনা বা নীতিমালা প্রণয়ন করলে তাঁতিদের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সেরূপ নীতিমালা প্রণয়ন করবে। একই সঙ্গে তাঁতিদের জন্য যুগোপযোগী, কার্যকর ও সহায়ক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ফার্মগেটের জেডিপিসির সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড আয়োজিত ‘তাঁত নীতিমালা-২০২০’ বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম, এনডিসি এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য রেজাউল করিমসহ অন্যরা।
মানুষের প্রধান পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম হলো বস্ত্র। বাংলাদেশের বস্ত্রখাতের অধিকাংশ যোগান আসে তাঁতশিল্প থেকে। তাঁতশিল্প বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কুটির শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁতশিল্পের ভূমিকা অপরিসীম।
সর্বশেষ তাঁত শুমারি অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ বস্ত্র চাহিদার ৪০ শতাংশ তাঁতশিল্প যোগান দিয়ে থাকে। এ শিল্পের বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ ৬৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনের দিক থেকে তাঁতশিল্প খাতের অবদান এক হাজার ২২৭ কোটি টাকার বেশি। এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ লাখ মানুষ জড়িত। জানা গেছে, দেশে বিদ্যমান এক লাখ ৮৩ হাজার ৫১২টি তাঁত ইউনিটে মোট হস্তচালিত তাঁতের সংখ্যা পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৫৫৬টি। এর মধ্যে চালু তাঁতের সংখ্যা তিন লাখ ১১ হাজার ৮৫১টি।       
জানা গেছে, বাংলাদেশের বৃহত্তম কুটির শিল্প হস্তচালিত তাঁতশিল্প, আর এর ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হলো পাবনা-সিরাজগঞ্জ। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ তাঁত থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। তাছাড়া, এবারের কয়েক-দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প। তাঁতিরা জানিয়েছেন, একে তো করোনা সংকট তার মধ্যে আবার কয়েকগুণ বেড়েছে রং, সুতাসহ কাঁচামালের দাম। যে সুতার রোলের দাম আগে তিন হাজার ছিল বর্তমানে সেই রোলের দাম পড়ছে নয় থেকে ১০ হাজার টাকা। এ অবস্থায়  তাঁত মালিকরা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ায় কর্মহীন শ্রমিকেরা। অল্পসংখ্যক শ্রমিক নিয়ে কোনোভাবে টেনেটুনে চলছে এ রকম কারখানায় যে অল্পসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছে তারাও যেকোনো সময় কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।  
বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি মহম্মদ মনোয়ার হোসেন জানান, ছোট ছোট তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা দারুণ সংকটে পড়েছে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে লিপ্ত মালিকরা জানান, তারা আর্থিক সংকট কাটাতে ব্যাংকে গেলে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এবং জায়গা-জমির দলিলসহ নানা রকম চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা কোনো ঋণ পান না। এমনকি করোনার সংকট মোকাবিলায় সরকার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের স্বার্থে সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে তাও তারা পাননি বলে মালিক পক্ষের অভিযোগ।
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় তাঁত, বস্ত্র ও কারুশিল্প বিকশিত হয়েছে, দেশীয় বাজারের ক্রেতাদের নিকট সেগুলোকে আরো বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) সব পণ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করছে। পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা বিসিকের মাধ্যমে নকশা তৈরি ও উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে রুচিশীল ও উন্নত মানসমপন্ন পণ্যের চাহিদা শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বেড়েছে। তিনি বৈচিত্র্যময় দেশীয় তাঁত ও বস্ত্রের বাজার সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশীয় বাজারের প্রতি আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেন। শিল্পমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সম্ভাবনাময় বিভিন্ন দেশীয় তাঁত ও বস্ত্রপণ্যের মান উন্নয়নে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা পৌঁছে দিতে এএফডিবির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী বটতলার মেলা, মাজার ও স্থানীয় বিভিন্ন আয়োজন ও উৎসবকেন্দ্রিক মেলাগুলোকে পুনরায় চালু করা হবে।       এনএমএস।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com