ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ২৫ নভেম্বর ২০২০ ● ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার   বুধবার ● ২৫ নভেম্বর ২০২০
শিরোনাম: হাসপাতালে রূপবান’কন্যা সুজাতা       আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে        সব শ্রেণিতেই ভর্তি লটারিতে       মহাখালীর পর পুড়ল কালশীর বস্তি       এমপিওভুক্ত ৪৭ হাজার শিক্ষকের আর্তনাদ!       আইসিটি সেক্টরে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে ভারত        হাইস্কুলে ভর্তির সিদ্ধান্ত আজ       
প্রিন্ট সংস্করণ
কথা রাখলেন না আলু ব্যবসায়ীরা
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
Published : Tuesday, 27 October, 2020 at 2:26 AM


আলুর বাজারের অস্থিরতা কাটাতে ব্যবসায়ী, হিমাগার মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ- আলোচনা করেই দুই দফা মূল্য নির্ধারণ করে দেয় সরকার। খুচরায় প্রথমে ৩০ টাকা নির্ধারণ করলেও ব্যবসায়ীদের আপত্তি থাকায় পরে তা পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন এই দামে তাদেও আলু বেঁচতে অসুবিধা নেই এবং তার বাজারে এই দাম ঠিক রাখবেন।  কিন্তু ব্যবসায়ীরা তাদের সে কথা বাখলেন না। গতকাল সোমবার রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, ফকিরাপুল, মালিবাগ, সেগুন বাগিচা, মগবাজার ও কারওয়ান বাজারের খুচরা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তুলনামূলক ছোট, কাটা আলু এবং বড় আলু একত্রে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজিতে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইকারি বাজারে বেঁধে দেওয়া দাম না মানায় বাজার মনিটরিং জোরদারের কারণে ব্যবসায়ীরা এখন তা মেনে নিলেও বাধ সেধেছেন খুচরা বিক্রেতারা। আর নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ বিশিষ্টজনদের।
এ বিষয়ে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে আসুক, এটা সব ভোক্তা চায়। তবে দাম কেনো কমছে না এটা সবাই জেনেছেন। এ বিষয়ে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। তবেই দাম কমবে আলু, পেঁয়াজসহ অন্য পণ্যের।
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে আলুর দাম অনেক বেশি। প্রতি বস্তায় পাঁচ কেজি আলু নষ্ট (কাটা ও পঁচা) হয়, পরিবহণ ভাড়া, লেবার খরচ রয়েছে। এক্ষেত্রে দাম কমানো না হলে আমরা কম মূল্যে আলু দিতে পারবো না। এ বিষয়ে মগবাজার বাজারের খুচরা বিক্রেতা হানিফ বলেন, পাইকারি বাজারে আলুর দাম কমানো হয় না। সেখানে কমালে আমাদের এখানেও কমে আসবে। আমরাতো এখন বেশি আলু কিনতে পারি না, যদি বিক্রি না হয়। আবার বেশি দাম বলায় জরিমানাও গুনতে হয়।
কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা মতিয়ার বলেন, পাইকারি বাজারে দাম সব সময়ই বাড়তি থাকে। তবে মিডিয়ার গাড়ি কিংবা বাজার মনিটরিং হলেই পাইকারি বিক্রেতাদের চার্টে দামের পরিবর্তন করা হয়। বিক্রমপুর বাণিজ্যলয় ও আড়তদার ব্যবসায়ী হানিফ বলেন, আমাদের মূল সমস্যা তৈরি করছে হিমাগার। সেখান থেকে ন্যায্য মূল্যে আলু ছাড়া হয় না। তিনি বলেন, তার আড়তে ৩৫ টাকায় আলু এসেছে, এখন কত টাকায় বিক্রি করবে প্রশ্ন করেন তিনি। এরপরও লোকসান দিয়ে ৩০ থেকে ৩২ টাকার মধ্যে আলু ছেড়ে দেই, বিক্রি করতে হবে তাই।
বরিশাল:
আলু বেশি দামে ক্রয় করে খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়েছেন আড়তদাররা। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আলু ক্রয় করা বন্ধ রেখেছেন বরিশালের ৩৫ পাইকারি আড়তদার। যে কারণে দুইদিন ধরে বরিশালের আড়ত ও বাজার অনেকটাই আলু শূন্য রয়েছে। জানা গেছে, সরকার খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা দরে আলু বিক্রয়ের জন্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বরিশালের আড়তদাররা মুন্সীগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আলু কিনে আনে ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে। যাতে খরচসহ ৩৬ টাকা কেজি দর হয় আলুর। যে কারণে অভিযান এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি সম্ভব না হওয়ায় আলু ক্রয় বন্ধ রেখেছেন পাইকারি আড়তদাররা। বরিশালের পিঁয়াজপট্টি এলাকার পায়েল এন্টারপ্রাইজের মালিক এনায়েত হোসেন জানান, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আলু ক্রয় করে থাকি। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু কিনতে তাদের খরচ হয় ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলে তাদের প্রতিদিন লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়। এ কারণে বর্তমানে আলু ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে। বরিশালের পোর্ট রোড বাজারে আলু ক্রয় করতে আসা দীপক বলেন, পোর্ট রোড, ফরিয়া পট্টি, পিঁয়াজ পট্টি ও আলু পট্টি এলাকা ঘুরে কোথাও আলু পাইনি। পরে পোর্ট রোডের একটি মুদি দোকান থেকে তিন কেজি আলু ৪৫ টাকা কেজি দরে কিনেছি।
পেঁয়াজ পট্টি আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মোল্লা জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি আলু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রয় করেন বরিশালের পাইকারি আড়তদাররা। তবে বেশি দামে আলু কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তা বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে আলু ক্রয় বন্ধ রয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম অজিয়র রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে মজুদদাররা আলু মজুদ করে রাখছে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য। আশা করছি দুই থেকে চার দিনের মধ্যে এর সমাধান হবে।
সাতক্ষীরা:
সরকার খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা মানছে না কেউই। গত কয়েক দিনে দফায় দফায় আলুর দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা। জেলার সুলতানপুর বড় বাজার ও পাটকেলঘাটা বাজারের আলুর পাইকারি ও খুচরা বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আড়তে পর্যাপ্ত আলু মজুদ থাকলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা দরে।  সরকারিভাবে খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তা মানছেন না কেউই।
তবে আলুর দাম বাড়ার কারণ হিসাবে আড়তদার ও হিমাগারগুলোকে দায়ী করছেন ব্যবসায়িরা। তারা বলছে, নর্থবেঙ্গল থেকে হিমাগারগুলো আলুর দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে তাদের। তার উপর সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করলে কেজিপ্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে আট থেকে ১০ টাকা। আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্স, কয়েক দিনের মধ্যে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মার্কেটিং অফিসার।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com