ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২০ ● ১২ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২০
শিরোনাম: রিফাত হত্যা মামলায় ১১ কিশোরের সাজা, খালাস ৩       কাউন্সিলর ইরফান কোয়ারেন্টিনে       রিফাত হত্যা : ১৪ কিশোরের রায় পড়া শুরু       দেশের ইতিহাসে প্রথম, তিন কার্যদিবসে হলো মামলার রায়       ফরাসি দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা       কাঁঠালবাগানে গলিতে পড়েছিল তরুণের লাশ       পাকিস্তানে মাদরাসায় বিস্ফোরণে নিহত ৭, আহত ৭০      
প্রিন্ট সংস্করণ
নিপীড়নবিরোধী লংমার্চে হামলা আহত ২৭ জন হাসপাতালে
# সোমবার বিক্ষোভ ও বুধবার রাজপথ অবরোধ
এ কে এম হাসান মাহমুদ, ফেনী
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 2:33 AM, Update: 18.10.2020 2:36:54 AM


ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে ঢাকা থেকে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ ফেনীতে হামলার শিকার হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। এদের মধ্যে ২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লংমার্চেও আয়োজকরা এ হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করলেও ছাত্রলীগ তা অস্বীকার করেছে।
এদিকে গতকাল বিকালে নোয়াখালীর জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রাঙ্গণে সমাপনী সমাবেশ ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে লংমার্চ সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা। এ সময় লংমার্চে হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও বুধবার সারা দেশে রাজপথ অবরোধের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।  এর আগে ফেনীতে দু’দফা হামলার শিকার হন লংমার্চে অংশ নেওয়া কর্মীরা। আয়োজকদের অভিযোগ স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা হামলা চালায়। হামলায় লংমার্চে অংশ নেওয়া এতে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে চৌমুহনী লাইফ কেয়ার হাসপাতাল ও ১১ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেনী জেলা ছাত্রলীগ বলেছে, ‘আমরা হামলা করিনি।’ অন্যদিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, ‘লংমার্চে হামলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ গতকাল বিকালে ঘটনাস্থল ফেনী শহরের দোয়েল চত্বর এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই কথা বলেছেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন।’
আয়োজকরা জানান, ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে রওনা হয়ে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে শুক্রবার কুমিল্লাতে অবস্থান নিয়েছিল ৫ শতাধিক লংমার্চকারীরা; সেখানে থেকে গতকাল শনিবার সকালে ফেনীতে আসে লংমার্চকারীরা। সকাল পৌনে ১০টায় লংমার্চ বহরটি ফেনীর শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক হয়ে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শহীদ বেদিতে তারা গণসংগীত ও পথনাটক উপস্থাপন করে। সেখানে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আরেক অংশের সভাপতি আল কাদরী জয় প্রমুখ।
ছাত্রফ্রন্ট নেতা আল কাদেরী জয় বলেন, ‘সমাবেশ শেষ করে দুপুর ১২টার দিকে তারা লংমার্চ নিয়ে শহরের শান্তি কোম্পানি মোড় এলাকায় যেতে চাইলে বাধা দেয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তারা হামলা চালায়। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, হামলাকারী বাসও ভাংচুর করে। এ সময় অনেকে আহত হন। পুলিশ এ সময় নীরব ভূমিকায় ছিল। হামলায় ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন বলে লংমার্চে থাকা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন জানিয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে আমরা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শুরু করি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশ শেষ হয়। তারপর আমরা যখন বেগমগঞ্জের উদ্দেশে বাসে উঠতে যাই, তখন একদল যুবক, যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের, তারা আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা করে। তাদের সঙ্গে পুলিশও যোগ দেয়।’ আহতদের মধ্যে সামিয়া জামান ইমা (২১), আসমাউল হুসনা (২০), মাহি (২১), মাহমুদা দিপা (২০), ফিতন ফকির (২৮), ইমতিয়াজ আহম্মেদ রাকিব (২৪), কৃজম ফকির (২৫), মিরাজ হোসেন (২২), মারিয়া আক্তার (২০), এইচ এম রিয়াদ হোসেন (২৭), মাহির শাহরিয়ার রেজা (২৫) নাম জানা গেছে। ফেনী ছেড়ে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে এসে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে বলে তপন জানান। আহত ছাত্র ইউনিয়নকর্মী ইমা বলেন, ‘ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত একজন আমাকে পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে আমি পড়ে কোমরে আঘাত পাই। পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা করে। পুলিশ নিশ্চুপ ছিল।”
আহত ছাত্র ইউনিয়নকর্মী আসমানি আশা বলেন, ‘পুলিশের ইশারায় ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হামলা করে। মিছিলের পেছন থেকে ইট, লোহার টুল ছুড়ে মারে। পুলিশ কিছুই করেনি।’ ফেনীর এক ছাত্রফ্রন্ট নেতা বলেন, ‘ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক শুশেন চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রথমে ধাওয়া করা হয়। ওই মিছিল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করে।’ তবে হামলায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুশেন চন্দ্র শীল বলেন, ‘লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা শহরের জিরো পয়েন্টে এলাকায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি নিজাম হাজারীর ছবি সম্বলিত ফেস্টুনে বিরূপ মন্তব্য লিখে চিকা মারে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।’
বিকালে ফেনী জেলা ছাত্রলীগও সংবাদ সম্মেলন করে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন ফেনী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এন সালাউদ্দিন ফিরোজ বলেন, ‘লংমার্চ কর্মসূচি আমরাও সমর্থন করি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তারা লংমার্চের নামে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারীর ছবি সম্বলিত ফেস্টুনে বিভিন্ন অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য লেখায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এতে ছাত্রলীগ অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে। এর প্রতিবাদে ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল করে। কিন্তু কোনো হামলায় ছাত্রলীগ জড়িত নয়।’
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘লংমার্চ’র সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা ফেনী ত্যাগ করতে পুলিশ সহায়তা করেছে। এসময় বহিরাগত লোকজন লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।’
ফেনীর পর লংমার্চকারীদের দাগনভূঞায় সমাবেশের কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বাম জোটের সমাবেশে হামলা হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। গতকাল দুপুরে পৌরসভার জিরো পয়েন্টে আতার্তুক স্কুল মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দাগনভূঞা উপজেলা বাম জোটের সমন্বয়ক ডা. হারাধন চক্রবর্তী বলেন, ‘পুলিশের সামনে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা করলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।’ দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু নাসের চৌধুরী বলেন, ‘হামলার ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নেই।’ আর দাগনভূঞা থানার ওসি আসলাম সিকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এনএমএস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com