ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২০ ● ১২ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২০
শিরোনাম: রিফাত হত্যা মামলায় ১১ কিশোরের সাজা, খালাস ৩       কাউন্সিলর ইরফান কোয়ারেন্টিনে       রিফাত হত্যা : ১৪ কিশোরের রায় পড়া শুরু       দেশের ইতিহাসে প্রথম, তিন কার্যদিবসে হলো মামলার রায়       ফরাসি দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা       কাঁঠালবাগানে গলিতে পড়েছিল তরুণের লাশ       পাকিস্তানে মাদরাসায় বিস্ফোরণে নিহত ৭, আহত ৭০      
প্রিন্ট সংস্করণ
নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ: পুলিশ আপনার সঙ্গে
নিউজ ডেস্ক
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 2:29 AM


সারা দেশে নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় পুলিশের ছয় হাজার ৯১২টি বিটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি মো. সোহেল রানা জানান, শনিবার সকাল ১০টায় পুলিশের উদ্যোগে সারা দেশে ছয় হাজার ৯১২টি বিটে একযোগে নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের বিট পুলিশিং কেন্দ্রের ছয় হাজার ৯১২টি ফেসবুক পেজে। সারা দেশে লাখ লাখ নারী ও পুরুষ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং কোটি কোটি দর্শক ও সাধারণ মানুষ এই সমাবেশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন। নিঃসন্দেহে ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইতোমধ্যেই প্রতিটি বিটের নিজস্ব একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে।
নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী সমাবেশে পুলিশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, নারী ও শিশু অধিকারকর্মী, স্থানীয় নারী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে তারা ধর্ষণসহ যেকোনো প্রকার নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি করতে এবং নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পাশে থাকার আহ্বান জানান।
পুলিশের ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ পুলিশ জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ যেকোনো প্রকার অপরাধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ সোচ্চার রয়েছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং সমর্থনে এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ পুলিশ।

ঢাকা : পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ধর্ষণ প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর আছে। তবে তা ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতা দরকার। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় পুলিশের ধর্ষণবিরোধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকার ৫০ থানা এলাকায় অন্তত ৩০০ স্থানে সমাবেশ হয়েছে।
উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সারা দেশে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিট এলাকার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলে সমাবেশ। এতে পুলিশ সদস্যরা তাদের পোশাক পরে অংশ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নারী-পুরুষ অংশ নেন। নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধ করি, নারীবান্ধব দেশ গড়ি, বন্ধ হোক নারী নির্যাতন, নিশ্চিত হোক দেশের উন্নয়ন প্রভৃতি লেখা ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যায় তাদের হাতে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ধর্ষণবিরোধী সমাবেশে পুলিশসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রাজু ভাস্কর্যের সামনে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক, ছাত্রলীগ কর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম বলেন, নির্যাতিত মা-বোনদের পাশে আমরা আছি। ইতোমধ্যে আইন সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। একটি মামলায় এরই মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসির রায় হয়েছে। এতে আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। শিক্ষক হিসেবে আমরা বিবৃতি, বক্তব্যের মাধ্যমে জনমত সৃষ্টিতে কাজ করব।
সমাবেশে অংশ নিয়ে গৃহিণী লাবণী আক্তার বলেন, পুলিশের সহযোগিতা অনেক জায়গায় পাওয়া যায়, আবার অনেক জায়গায় যায় না। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় ধর্ষকরা ভয় পাবে।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে আধুনিকায়ন করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন : পলক
তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, নারী নির্যাতন, ধর্ষণের অভিযোগসহ যে কোনো ধরনের জরুরি প্রয়োজনে গত তিন বছরে ৯৯৯ নম্বরে ২ কোটি ১৬ লাখ ফোন কল এসেছে। পুলিশ জেগে থাকে বলেই বাংলাদেশের জনগণ ঘুমাতে পারে। এজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশকে আধুনিকায়ন করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে এক হাজার থানাকে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের আওতায় আনা হয়েছে। দুটি থানায় অনলাইন ডিজির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় নাটোরের সিংড়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে সিংড়া থানার আয়োজনে বিট পুলিশিং সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে দেশ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়, অপরাধ নিমূল করাই আমাদের লক্ষ। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড করার অনুমোদন দিয়েছেন যা আগামী সংসদীয় অধিবেশনে সকল সংসদ সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে পাস হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওহিদুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিংড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।

পুলিশ আপনার সঙ্গে থাকবে: এআইজি সহেলী
কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং শাখার এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেছেন, সারা বাংলাদেশে বিট পুলিশিংয়ের আওতায় ছয় হাজার ৯১২টি বিট রয়েছে।
আজ (শনিবার) আমরা একসঙ্গে, একই দিনে, একইসময় সারা দেশে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ করছি, কারণ বাংলাদেশ পুলিশ আপনার সঙ্গে আছে এই মেসেজটি দেওয়া।
যে কোনো জায়গায়, যে কোনো ঘটনা আপনারা শুনতে পান, দেখতে পান অথবা জানতে পারেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। যদি থানা পর্যন্ত যেতে না চান বা যেতে না পারেন তাহলে আপনার বিট অফিসারকে মোবাইলে ফোন দিয়ে জানান আপনার সমস্যার কথা। বাংলাদেশ পুলিশ আপনার সঙ্গে থাকবে। বিটের মাধ্যমে এলাকাগুলোকে ছোট ছোট ভাগ করার কারণ যাতে আমাদের অফিসার আপনাদের কাছে যেতে পারে। আর বিট অফিসারের নাম্বারও আপনারা রাখবেন।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় বরিশাল নগরের অশ্বিনী কুমার হলে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশে অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় এআইজি আরো বলেন, নারীর পাশে আমরা অর্থাৎ পুলিশ আছি। নিজেকে কখনো মনে মনে দুর্বল ভাববেন না। সবাই মিলে সোচ্চার হোন। সবাই মিলে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিকার, প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
পুরুষ অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পুরুষ ভাইয়েরা যারা আছেন, এই নারীদের রক্ষক হিসেবে কিংবা পালনকর্তা-গৃহকর্তার দায়িত্বে। তাদের অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের কাছে সমাজের একটা ডিমান্ড রয়েছে। আপনার ঘরের শিশুকন্যাটি যেন নিরাপদে বেড়ে ওঠে, সে যেন অন্যের ছায়ায় না থাকে, সে যেন নিশ্চিন্তে তার কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে আসতে পারে এই নিশ্চয়তা সবাইকে মিলে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা আছেন আমাদের জন্য, আপনারা আছেন নারীদের জন্য। আপনারা আছেন নারীর সুরক্ষার জন্য। আপনার ঘরের কন্যা শিশুটিকে যেভাবে দেখাভাল করবেন, সেই ভাবে প্রতিবেশীর শিশু ও নারীর জন্য সুরক্ষা বজায় রাখবেন। একজন নারী হিসেবে আমার অধিকার আছে নিশ্চিন্তে বাড়ির বাইরে যাবার, আবার আমার কাজ শেষ করে নিরাপদে বাড়িতে ফেরার। এ অধিকার আমাকে রাষ্ট্র দিয়েছে, আমার ধর্ম দিয়েছে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর, বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট এস এম ইকবাল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্যামেলিয়া খান প্রমুখ।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com