ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  শুক্রবার ● ২৮ জানুয়ারি ২০২২ ● ১৫ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার  শুক্রবার ● ২৮ জানুয়ারি ২০২২
শিরোনাম: রাত পোহালেই শিল্পী সমিতির নির্বাচন       লবিস্ট নিয়োগের ব্যাখ্যা বিএনপিকে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী       ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ ​ভিত্তিহীন : দীপু মনি       পত্রিকা খুললেই পরীমনি-খুকুমণি আর দীপু মনি       মাহবুব তালুকদারসহ ইসির প্রায় ২০ জন করোনায় আক্রান্ত       সবচেয়ে দূষিত শহর ঢাকা        ৬ মাস টি-টোয়েন্টি খেলবেন না তামিম      
করোনার ঊর্ধ্বগতি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চিন্তাভাবনা
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Thursday, 13 January, 2022 at 8:45 PM

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও শনাক্তের হার দ্রুত গতিতে বাড়লেও খোলা রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান থাকলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা টিকা কর্মসূচির বাইরে থাকায় এ স্তরের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কমে গেছে। এছাড়া অনেক অভিভাবক আক্রান্তের ভয়ে সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার করোনা আক্রান্তের হার ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রশাসনও শঙ্কিত। করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে দু-একদিনের মধ্যে সভা করে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা আজকালের খবরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেকজনক হারে বাড়ছে। আজকে (বৃহস্পতিবার) আক্রান্তের যে তথ্য দেখেছি তা আশঙ্কাজনক। তবে বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। আমরা দু-একদিনের মধ্যে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি আরো বলেন, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের কথা বলা হলেও তা মেনে চলছে না। অফিস-আদালত সবই চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা খুবই কম। করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১১ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। 

সারা দেশে বর্তমানে ১২ থেকে ১৭ বছয় বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকা কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। টিকা নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। অনেকে মাস্ক পরছে না। টিকা নিতে গিয়েও অনেক শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   

করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে গত সোমবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের অন্তত এক ডোজ টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের আপাতত স্কুলে যেতে নিষেধ করতে হবে। ১২ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হবে। যারা এরই মধ্যে টিকা নিতে পারবে না, তারা অনলাইনে বা টিভিতে ক্লাস করবে। আমরা অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থাও রাখব। ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, টিকা না পেলেও তারা স্কুলে যাবে। 

১২ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা কম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে তাদের টিকা দেওয়ার কথা বলা নেই। ফলে এসব শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ ছাড়াই স্কুলে যেতে পারছে। তবে যেসব শিক্ষার্থী ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য কোনো রোগে ভুগছে, অথবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা আছে, কিংবা কোভিডে আক্রান্ত হলে যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের আপাতত স্কুলে না গিয়ে অনলাইনে ক্লাসে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত না হলেও সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং তারা নিয়মিত আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এক সপ্তাহ পর আবারো কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বসবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল করোনা আরো বেড়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৩৫৯ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১২ জন। শনাক্তের হার ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আক্রান্তের হার পাঁচ শতাংশের বেশি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে বুয়েটসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে। আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন সিদ্বান্ত নিতে যাচ্ছে।  

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, এখনো বই বিতরণ চলছে। পুরোপুরি ক্লাস শুরু হয়নি। ১২ বছর বয়সের নিচের ছাত্রীদের টিকা না দেওয়ায় অভিভাবকরা আতঙ্কিত। এ বয়সী ছাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কমেছে। অনেক অভিভাবক মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের ক্লাস কার্যক্রম চলছে। 

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, করোনা বাড়তে থাকায় অভিভাবকরা সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখনই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মক বিঘ্নিত হয়েছে। ১২ বছরের ওপরের শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দেওয়া শেষ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ আরো বেড়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের সিদ্বান্ত নেওয়া উচিত।  

রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, গত সোমবার থেকে আমার ছেলের ক্লাস শুরু হলেও করোনা বেড়ে যাওয়ায় স্কুলে পাঠাইনি। সুস্থভাবে বেঁচে থাকলে পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেলের ১২ বছর না হওয়ায় টিকা দিতে পারিনি। শিক্ষকরা যতই বলুক স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা হচ্ছে, আসলে শ্রেণিকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠে। স্কুল থেকেও শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশি চিন্তিত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রথমে এ স্তরের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখে ভার্চুয়াল পাঠদান চালু রাখার কথা ভাবছেন তারা। তবে বর্তমানে ভর্তি কার্যক্রম চলমান থাকায় সিদ্বান্ত নিতে পারছে না মন্ত্রণালয়। আবার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বন্ধের পক্ষে থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা চালু রাখার পক্ষে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করা যাবে না। 

ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন নিজেই বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এখনো বই বিতরণ চলছে। পুরোপুরি ক্লাস শুরু হয়নি। প্রায় দুই বছর ধরে করোনা আতঙ্ক নিয়েই চলছি। করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ভার্চুয়াল ক্লাস পরিচালনা করা হলেও এটি তেমন কার্যকর হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনার বর্তমান ঊর্ধ্বগতিতে সবাই আতঙ্কিত। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে আমরা সেভাবে কার্যকর করবো। তিনি আরো বলেন, আমার স্কুলে ১২ থেকে ১৭ বছরের শতভাগ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে ১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা নেই। সরকারও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। যে কারণে ১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকরা শঙ্কিত। তবে শিক্ষার্থীরা অসুস্থতা অনুভব করলে স্কুলে না আসার জন্য বলা হয়েছে।  

রাজধানীর মিরপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শুভাশিষ বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে সেশন চার্জ নেওয়া যাবে না। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকায় কিন্ডারগার্টেনসহ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠা যাবে না। তিনি আরো বলেন, করোনাকালীন অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা গেছে। শতভাগ শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।   

একে


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com