ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  সোমবার ● ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার  সোমবার ● ৬ ডিসেম্বর ২০২১
শিরোনাম: তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিএনপির       ৫ম ধাপে সিলেট-চট্টগ্রাম বিভাগে নৌকা পেলেন যারা       কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধে দুই জন নিহত       স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনও নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে       বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে : বিশ্বব্যাংক       অর্থপাচারকারী প্রিন্স মুসা, মিন্টু-তাবিথদের তালিকা হাইকোর্টে       উপকূলে শঙ্কা কাটেনি, তিন নম্বর সংকেত বহাল      
সহনশীলতার দেশে সহিংসতা বেমানান
সাঈদ চৌধুরী
Published : Tuesday, 19 October, 2021 at 7:03 PM

দেশকে নিয়ে সবারই একটা ভাবনা থাকা দরকার। দেশের প্রতিটি উপাদানের প্রতিই তা থাকা দরকার। এই ভাবনার জায়গায় রাগ থাকবে, হিংসা থাকবে, মন খারাপ থাকবে, কাউকে ছেড়ে যাওয়ার তাড়না থাকবে, কৃষকের হাসি থাকবে, নদী থাকবে, শিল্পায়ন থাকবে, উপাসনা থাকবে, প্রাণী থাকবে, সরকার প্রথা থাকবে, কেউ বড়লোক থাকবে, গরীব থাকবে সব থাকবে। সবকিছুই আমাদের উপাদান। 
দেশ নিয়ে ভাবনায় যখন আমরা রাগের কথা ভাববো তখন আমাদের ভাবনায় থাকবে অন্য দেশ যদি আমাদের নিয়ে খারাপ কোনো কথা বলে তখন আমরা প্রচণ্ডভাবে রেগে যাবো, জবাব দেবো আন্তর্জাতিকভাবে, কথার পৃষ্ঠে কথা বলবো, আমরা জয় নিয়ে আসবো। 
হিংসা করবো তখনই দেখবো যখন আমাদের দেশকে ছাড়িয়ে অন্য কোনো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ছাড়িয়ে যাচ্ছে আমাদের! তখন ওই দেশকে নিয়ে আমরা হিংসা করে নিজেদের মধ্যে আত্মশক্তি অর্জন করবো এবং এগিয়ে যাওয়ার ব্রত নেবো । 
মন খারাপরে জায়গায়ও থাকবে অনেক কিছু। দেশের অভ্যন্তরে কেউ খেতে পাচ্ছে না, চিকিৎসা পাচ্ছে না, কেউ চেষ্টা করেও পেরে উঠছে না এগুলো দেখলে মন খারাপ করবো। মন খারাপ করবো আমাদের দেশ নিয়ে কেউ কথা বললেও!
অন্য দেশকে ছেড়ে যাওয়ার যেমনি তাড়না থাকবে আমাদের মধ্যে তেমনি তাড়না থাকবে নিজের দেশে কোনো ব্যক্তি আমার চেয়েও ভালো কাজ করে এগিয়ে যাচ্ছে কিনা এবং এগিয়ে গেলে তার চেয়ে আমি কি ভালো কাজ করতে পারি সেটি খোঁজার প্রত্যয়ী একটা তাড়না আমার মধ্যে থাকতে হবে। 
কৃষিপ্রধান এদেশে কৃষকের হাসি সবচেয়ে মূল্যবান। যখন কৃষক হাসে তখন এ দেশ হাসে। কৃষককে ভালো রাখার জন্য আমাদের সবার অনেক কাজ করতে হবে এবং আমরা করতে যাতে পারি সে বিষয়ে আমাদের একটা ভাবনা থাকা খুব দরকার। আমাদের নদী হল আমাদের প্রাণ, আমার রক্ত সঞ্চারণ, আমাদের বেঁচে থাকা। সুতরাং নদী নিয়ে আমাদের ভাবনার বিশালতা থাকতে হবে, থাকতে হবে প্রেম ও দ্রোহের সহাবস্থান। নদীকে আমরা হারাতে দেবো না আমাদের কাছ থেকে। নদীকে আমরা আমাদের বন্ধু ভাববো, আমাদের মা ভাববো। 
আগামী বিশ্বে শিল্পায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং আমাদের একটা টেকসই শিল্পায়ন ভাবনা থাকবে। আমরা কীভাবে উন্নত হবো, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসবো, কাদের সাথে নিজেদের ব্যবসা বাড়াবো, কারা আমাদের পার্টনার হবে সব বিষয় একীভূত করে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে কাজ করে যাওয়ার একটা ভাবনা মনে মনে রাখবো ।
আমাদের দেশের সবুজে অনেক প্রাণী ও বৃক্ষ আছে। তাদের নিয়ে আমাদের একটা ভাবনা আছে ও তাদের আমরা আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব মনে করার উপর জোর দেবো। আমরা বড়ই মায়ার জাতি, আমরা প্রাণীকে ভালোবাসি, আমরা প্রাণীর আনন্দে আনন্দিত হই বেশিরভাগ মানুষ। ছোট ছোট শিশুদেরও দেখেছি একটা গরু, একটা কবুতর, মুরগী নিয়ে তাদের কী আনন্দের সময় কাটে!
 দারুন একটি বিষয় সেটি হল একটি দেশের সরকার প্রথা। সরকার মানুষের জন্য কাজ করবে আর মানুষ সরকারের কাজের আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সরকার ও দেশ নিয়ে সকলের ভাবনা থাকতেই হবে কারণ পুরো দেশের সামগ্রিকতার মধ্যে নাগরিকত্ব ও রাষ্ট্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । 
দেশে কেউ অনেক অর্থশালী থাকবে আবার কেউ কম অর্থের মালিক থাকবে। এটা অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্য অনেক ক্ষেত্রে দক্ষতা ও সক্ষমতার একটি স্মারক বলা যেতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে ভাবনা, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব থাকবেই। এ ভাবনা প্রয়োজনীও!
এত সব ভাবনা থাকার পরও আমরা যে ভাবনাটি না ভেবে নিজেকে শুধু সপে দেওয়ার বিষয় মনে করি অর্থাৎ আমাদের ধর্ম ও ধর্মের ব্যবহার তা নিয়ে ভেবে দেশটাকে কেমন একটা ঘোর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। 
ধর্ম স¤পর্কে আমি আমার বাবাকে দেখেছি, দাদাকে দেখেছি, দেখেছি প্রবীণ অনেক মানুষকে । তাদের মধ্যে একটা বোধ খুব কাজ করে। সেটা হল তারা যে এবাদত করছেন সেটা মহান আল্লাহ কবুল করছেন কিনা, তারা পরপারের জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুত হতে পারছেন কিনা, সৃষ্টিকর্তা তাদের আপনা করে নিচ্ছে কিনা!
বাবাকে প্রায়ই দেখি কোরআন পড়ে তিনি কাঁদছেন। রাতে আমিও সন্তানদের নিয়ে বসে কোরআন শুনি। এতে মন পরিশুদ্ধ হয়, নিজেকে আরো বেশি সৃষ্টিকর্তার কাছের মনে হয়। ধর্ম ও ধর্ম অনুযায়ী কর্মে নিজেকে শুদ্ধ করা ও এ খবর পৌঁছে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু ভাববার অবকাশ নেই। 
পুরো বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে যা হচ্ছে এগুলো ধর্মের জন্য? হতে পারে এমন? ধর্মতো শান্তি শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ বার বার বলেছেন তিনি ক্ষমাশীল। আমরা কি মহান আল্লাহর এ কথাটি উপলব্ধির জায়গায় নিতে পেরেছি ? 
যার ঘর হারায়, আগুন লাগে, পুড়ে যায় স্বপ্নগুলো তাদের মনের অবস্থা বুঝতে হলে উপরের অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলোর বিষয়ে উপলব্ধির জায়গা থাকতে হবে। শান্তির ধর্মে এমন অগ্নি সংযোগ, এমন হুলিয়া নেই। মানুষের কষ্ট ¯পর্শ না করতে পারলে এ দেশটা নিয়ে আমাদের ভাবনা সত্যিই আছেতো ? আমরা কি একই দেশে থাকি, এটা সত্য তো? 
ধর্ম থেকে বিদ্বেষ রূপান্তরিত হয় রাজনীতিতে, একের পর এক খেলা শুরু হয়, মানুষগুলো আর্তনাদে আমরা খুব সাধারণ মানুষেরা পর্যদুস্ত হই। যে ঘরে ছোট্ট মনি কোল বালিশে পা তুলে খেলা করে বড় হচ্ছিলো, যে ঘরে মায়ের আদর মাখা একটি ছবি রেখে সারা জীবন সন্তানেরা মাকে ধারণ করছিলো এমন ঘর পুড়ে দেওয়ার জন্য রাতের আধারে যারা ছুটে যাচ্ছে তারা কি সত্যিই কোনো ধর্মকে বাঁচাতে ছুটলো নাকি স্বার্থের কড়াল গ্রাসে ফেলে ধর্ম ও রাষ্ট্রকে বিপদে ফেললো!
আমরা ভাবনার জায়গায় কেউই প্রথমে দেশটাকে আনতে পারিনি। আমরা ভাবতে পারিনি আমাদের এ দেশ সমগ্রটাই একটা মা যার স্তনে মুখ দিয়েই আমরা একেঅপরের ভাই, বন্ধু, স্বজন হয়ে উঠেছি। 
মহান আল্লাহ যেভাবে পবিত্র কোরআন প্রেরণ করেছেন তেমনি ভাবেই সে কোরআন রক্ষা করবেন এবং তিনি তা কথাও দিয়েছেন। এর বাইরে যা হল বা হচ্ছে তা যে বিভেদের জায়গায় নিয়ে গিয়ে পুরো ধর্মেরই বড় ক্ষতি করে ফেলা হল তা বোঝানোর মতো মানুষের দরকার। ইমামরা মসজিদে মসজিদে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করুন, ইসলামে রাষ্ট্র নিয়ে, মানুষের হক নিয়ে, পবিত্র গ্রন্থ নিয়ে, নদী নিয়ে, ব্যবসা নিয়ে এবং সমগ্র মানব জাতি নিয়ে কী ধরণের বিষয় তুলে ধরা আছে সে বিষয়গুলো আলোচনায় আনুন। 
দেশকে নিয়ে ভাবনা আমাদের থাকতেই হবে। এ ভাবনা ভাবলেই কেবল আমরা সৃষ্টিকর্তাকে চিনতে পারবো কারণ যে ভূমিতে তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন সে ভূমির জন্য আমার দায়িত্বের জায়গা তৈরি করা ও দেশপ্রেমের ব্রতকে গাঢ়ভাবে উপলব্ধি করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। 
একথাগুলো মানুষের মধ্যে পৌঁছানো দরকার। সহনশীলতাই ধর্ম এ কথাটির নৈতিক ছড়িয়ে পড়া বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ । 
কোরআনকে যারা অবমাননা করেছে ও যারা ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে নিজেদেরকে দায়িত্ববান ধার্মিক ভাবছে তারা ধার্মিকও হতে পারেনি, নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গাও চিনতে পারেনি। ভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দেশ নিয়ে ভাবনার জায়গা তৈরি করাই এখন বড় কাজ। আমরা কোনোভাবেই এমন নৃশংস ও গর্হিত কাজগুলোর স্বাক্ষী হতে চাই না।

লেখক : রসায়নবিদ ও কলাম লেখক। 
আজকালের খবর/আরইউ


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com