ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বুধবার ● ২০ অক্টোবর ২০২১ ● ৫ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার   বুধবার ● ২০ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম: ওমানকে হারিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ       ইভ্যালির বিষয়ে তদন্ত করতে চায় না দুদক       টিকে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের পুঁজি ১৫৩ রান        মাসে তিন কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হবে        সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে জড়িতদের দ্রুত ধরার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর        পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে ১০ বছর জেল        শনাক্তের হার আজো দুই শতাংশের নিচে      
সিনেমার স্বর্ণোজ্জ্বল দিনগুলি
এস এম মুকুল
Published : Wednesday, 13 October, 2021 at 7:06 PM, Update: 13.10.2021 7:10:47 PM

একটা সময় ছিলো যখন সিনেমা ছিলো গ্রামবাংলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম উৎস। সিনেমা মানুষের মনে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আলোড়িত করতো।  সে সময়ের সিনেমাগুলো মানুষের জীবনে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করত। সামাজিকভাবে সিনেমা ছিলো সুস্থ্য বিনোদনের কেন্দ্র। আলোচনা হতো সিনেমা নিয়ে। সেইসব দিন এখন আর নেই। স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখেছি আমরা। মুখে মুখে ছিলো সিনেমার গান, গল্প। মাইকে সিনেমার ক্যানভাস, আকর্ষনীয় পোস্টার, রেডিও টিভি আর পত্রিকা, ম্যাগাজিনে সিনেমার বিজ্ঞাপন ছেয়ে থাকতো। সেই সময় অর্থাৎ ষাটের দশক থেকে আশির দশক ছিল বাংলা সিনেমার স্বর্ণালি যুগ। 
বাংলা সিনেমার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট : ১৯২৭ সালে এ  দেশে (পূর্ববঙ্গ) প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের নির্বাক ছবি ‘সুকুমারি’ নির্মিত হয়। তবে ১৯৩১ সালে মুক্তি পায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য নির্বাক ছবি ছিল ‘দ্য লাস্ট কিস’। হিমাদ্রী চৌধুরী ছদ্মনামে বিশিষ্ট সাংবাদিক ওবায়েদ-উল হক দুঃখে যাদের জীবন গড়া সিনেমাটি (১৯৪৬) প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন। ছবিটি কলকাতায় নির্মিত হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ বাংলাদেশী মুসলিম পরিচালকের হাতে নির্মিত এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। ১৯৪৭ সালে উদয়ন চৌধুরী ছদ্মনামে ইসমাইল মোহাম্মদ নির্মাণ করেন সিনেমা ‘মানুষের ভগবান’। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরের বছর সরকারি প্রচারচিত্র নির্মাণের জন্য জনসংযোগ বিভাগের অধীনে চলচ্চিত্র ইউনিট (১৯৫৩) গঠিত হয়। ১৯৫৪ সালে এখান থেকে নাজীর আহমদের পরিচালনায় নির্মিত হয় প্রামাণ্য চিত্র ‘সালামত’। ১৯৫৪ সালে ইকবাল ফিল্মসের ব্যানারে এই ভূখণ্ডের প্রথম চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এর কাজ শুরু করেন আবদুল জব্বার খান। ১৯৫৫ সালে নাজীর আহমদের উদ্যোগে ঢাকায় প্রথম ফিল্ম ল্যাবরেটরি এবং স্টুডিও চালু হয়। ১৯৬০ সালে নাজীর আহমদের কাহিনী থেকে ফতেহ লোহানী নির্মাণ করেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘আসিয়া’। ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট আবদুল জব্বার খান পরিচালিত বাংলাদেশের প্রথম সবাক বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি পায়। চট্টগ্রামের পূর্ণিমা সেন নায়িকা এবং পরিচালক নিজেই নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। তারপর থেকে বাংলা সিনেমার পটপরিবর্তন ঘটতে থাকে। একের পর এক যুগান্তকারী ছবি নির্মিত হয়। যা দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীণ শিল্পমন্ত্রী  শেখ মুজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধু, পরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি) উত্থাপিত বিলের মাধ্যমে পূর্বপাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (ইপিএফডিসি) প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৫৯ সালে থেকে প্রতিবছর চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে থাকে। এফডিসি ছাড়াও পপুলার স্টুডিও, বারী স্টুডিও এবং বেঙ্গল স্টুডিও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ভিত্তি স্থাপনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।
বাংলা সিনেমার কালপরিক্রমা : ১৯৫৯ সালে মুক্তি পায় বাংলা ছায়াছবি আকাশ আর মাটি, এ দেশ তোমার আমার, মাটির পাহাড়। ১৯৬০ সালে মুক্তি পায়
রাজধানীর বুকে, আসিয়া। ১৯৬১ সালে মুক্তি পায় হারানো দিন, যে নদী মরু পথে, কখনও আসেনি, তোমার আমার। ১৯৬২ সালে মুক্তি পায় জোয়ার এলো, নতুন সুর, সোনার কাজল, সূর্যস্নান। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পায় ধারাপাত, কাঁচের দেওয়াল। ১৯৬৪ সালে মুক্তি পায় দুই দিগন্ত, এই তো জীবন, মেঘ ভাঙ্গা রোদ, অনেক দিনের চেনা, রাজা এলো শহরে, সুতরাং, শীত বিকেল। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পায় একালের রূপকথা, গোধূলির প্রেম, জানাজানি, রূপবান। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় আবার বনবাসে রূপবান, আপন দুলাল, বেহুলা, ডাক বাবু, গুনাই বিবি, কাগজের নৌকা, কার বউ, মহুয়া, রহিম বাদশা ও রূপবান, রাজা সন্ন্যাসী, ভাওয়াল সন্ন্যাসী, জরিনা সুন্দরী,। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় আগুন নিয়ে খেলা, আলীবাবা, আনোয়ারা, আয়না ও অবশিষ্ট, বালা, চাওয়া পাওয়া, হীরামন, জংলী মেয়ে, জুলেখা, কাঞ্চন মালা, ময়ূরপঙ্খী, নয়নতারা, অভিশাপ, অপরাজেয়। ১৯৬৮ সালে মুক্তি পায় আবীর্ভাব, অরুণ বরুণ কিরণমালা, এতটুকু আশা, বাল্যবন্ধু, বাঁশরী, ভাগ্যচক্র, চেনা-অচেনা, চম্পাকলি, চোরাবালি, দুই ভাই, কুঁচ বরণ কন্যা, মধুমালা, রাখাল বন্ধু, সখিনা, সংসার, সপ্তডিঙ্গা, সুয়োরাণি দুয়োরাণি, সাত ভাই চম্পা।  ১৯৬৯ সালে মুক্তি পায় আগন্তুক, আলিঙ্গন, আলোমতি, বেদের মেয়ে, ভানু মতি, জোয়ার ভাঁটা, মায়ার সংসার, ময়নামতি, মনের মত বউ, মুক্তি, নাগিনীর প্রেম, নীল আকাশের নীচে, নতুন নামে ডাকো, পদ্মা নদীর মাঝি, পালাবদল, পারুলের সংসার, পাতাল পুরীর রাজকন্যা, প্রতিকার, স্বর্ণকমল। ১৯৭০ সালে মুক্তি পায় একই অঙ্গে এত রূপ, বিন্দু থেকে বৃত্ত, বিনিময়, বড় বউ, ছদ্মবেশি, ঢেউয়ের পর ঢেউ, দীপ নেভে নাই, দর্পচূর্ণ, যে আগুনে পুড়ি, জীবন থেকে নেওয়া, যোগ বিয়োগ, ক খ গ ঘ ঙ, কাঁচ কাটা হীরে, কোথায় যেন দেখেছি, কত যে মিনতি, মানুষ অমানুষ, মধুমিলন, অধিকার, পিচ ঢালা পথ, রাজ মুকুট, সূর্য উঠার আগে, স্বরলিপি, টাকা আনা পাই। ১৯৭১ সালে মুক্তি পায় গায়ের বধূ, নাচের পুতুল, স্মৃতিটুকু থাক, সুখ-দুঃখ। ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় মানুষের মন, জয় বাংলা, সমাধান, বাহরাম বাদশা, প্রতিশোধ, অশ্রু দিয়ে লেখা, শপথ নিলাম, এরাও মানুষ, নিজেরে হারায়ে খুঁজি, ওরা ১১ জন, লালন ফকির, চৌধুরী বাড়ি, ছন্দ হারিয়ে গেল, রাঙা বউ, অবুঝ মন, অরুণোদয়ের অগ্নিস্বাক্ষী, রক্তাক্ত বাংলা।  ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় জীবনতৃষ্ণা, রংবাজ, খেলাঘর, ধীরে বহে মেঘনা, ইয়ে করে বিয়ে, এখানে আকাশ নীল, সতী নারী, পায়ে চলার পথ, তিতাস একটি নদীর নাম, অনির্বাণ, আমার জন্মভূমি, দস্যুরাণী, শ্লোগান, অঙ্গীকার, আবার তোরা মানুষ হ, অতিথি, সংগ্রাম, আলোর মিছিল, দূরে থেকে কাছ, শনিবারের চিঠি, মাসুদ রানা, ভুল যখন ভাঙল,  পরিচয়, মালকাবানু, জিঘাংসা। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় আকাশ কুসুম, আজো ভুলিনি, আলো তুমি আলেয়া, দুশমন, হারজিৎ, এপার ওপার, লাঠিয়াল, জীবন নিয়ে জুয়া, সুজন সখি, কেন এমন হয়। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় তাল বেতাল, এক মুঠো ভাত, সেয়ানা, সূর্যকন্যা,  কি যে করি, আলোর পথে, রংবেরং, কাজলরেখা, নয়নমণি, গুন্ডা, মেঘের অনেক রং, জীবন মরণ,  জীবন সাথী।
স্বর্নালী যুগের সিনেমা : এক হিসাব থেকে জানা যায়, ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৮০টির মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি পেতো। আর ২০০৪ সালের হিসাব মতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে বছরে গড়ে প্রায় ১০০টির মতো চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। যেকোনো পর্যবেক্ষণেই স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে আশির দশক এবং নব্বই দশকের শেষ অব্দি স্বর্ণালী সময় ছিলো বাংলা সিনেমার। মানুষের ঢল নামতো সিনেমা হলে। রেকর্ড ভঙ্গ করে অনেক সিনেমা বাংলাদেশে সিনেমার দিক পরিবর্তন করেছে। সেসময়ের সিনেমার নির্মাণশৈলীতে ছিলো নান্দনিকতা, মাধুর্যতা। সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানুষের রুচি ও মূল্যবোধের চেতনাকে ধারণ করে নির্মিত হতো বাংলা সিনেমা। সিনেমার গান ছিলো প্রাণ রসে ভরপুর। সংলাপে ছিলো মাধুর্যতা। দৃশ্যায়নে ছিলো সুরুচির নান্দনিকতা। প্রতিটি সিনেমা যেন সমাজ জীবন থেকে তুলে নেওয়া একেকটি কাহিনী। সিনেমায় থাকতো ম্যাসেজ। যেসব ম্যাসেজ তরুণ প্রাণে শিহরণ জাগাতো। উজ্জীবিত করতো। প্রেম ভালবাসার প্রকাশিত হতো গভীরতা ও শালীনতার প্রতিচ্ছবি। সামাজিক, রাজনৈতিক সংঘাতের প্রকাশ হতো শিক্ষ্যণীয় কৌশলে। সবমিলিয়ে সেকালের ছবিতে পরিচালক মুন্সীয়ানা দেখাতেন সম্পূর্ণ সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে। একারণেই তখন মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে দল বেঁধে হলে গিয়ে ছবি দেখতেন। এক পলকে যদি স্মরণ করার চেষ্টা করি ছেলেবেলার স্মরণীয় ছবিগুলি- ছুটির ঘন্টা, অশিক্ষিত, নীল আকাশে নীচে, অরুণ বরুণ কিরণমালা, রাখাল বন্ধু, ভাইজান, ভাই আমার ভাই, স্বামী স্ত্রী, কলমিলতা, সাত ভাই চম্পা,  গুনাই বিবি,  নীল আকাশের নীচে, নতুন নামে ডাকো, পদ্মা নদীর মাঝি, জীবন থেকে নেওয়া, রংবাজ, খেলাঘর, ধীরে বহে মেঘনা, লাঠিয়াল, রসের বাইদানি, অশান্তি, চাপা ডাঙ্গার বউ, দুই পয়সার আলতা, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, স্বাক্ষর, সান্ত্বনা, যে আগুনে পুড়ি, ময়নামতি, মতিমহল, রংবাজ, দেবদাস, সুজন সখি, বসুন্ধরা, গোলাপী এখন ট্রেনে, নয়নমনি, সুন্দরী, অনন্ত প্রেম, লাঠিয়াল, এক মুঠো ভাত, আকাক্সক্ষা, আঁখি মিলন, ত্রাস, দাঙ্গা, হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, জীবনধারা, দোলনা, নিস্পাপ, নীতিবান, ভেজা চোখ, শঙ্খনীল কারাগার, পদ্মা নদীর মাঝি, কাসেম মালার প্রেম, উছিলা, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, অন্তরে অন্তরে, দেনমোহর, দোলা, লজ্জা, আত্মঅহংকার, প্রথম প্রেম, স্নেহ, ক্ষুধা, মুক্তির সংগ্রাম, ভাংচুর, স্বজন, আদরের সন্তান, বিশ্বপ্রেমিক, হারানো প্রেম, প্রিয় তুমি, সুখের স্বর্গ, গৃহবধূ, লুটতরাজ, স্বপ্নের ঠিকানা, পরিচয়,  ছেলে কার, দায়ী কে, মরণের পরে, দোলনা, বন্ধু আমার, বেদের মেয়ে জোছনা, সারেন্ডার, দোস্ত দুশমন, ভাত দেসহ কত কত মধুর নাম।
নব্বই দশকে আমরা যখন সিনেমা পাগল তখন- রাজ্জাক-কবরী, আলমগীর-শাবানার জয়জয়কার। তখন নায়ক-নায়িকার যেন অভাব ছিলো না। নামগুলো মনে করলে চাইলে মনে আসবে- বুলবুল আহমেদ, রহমান, জসিম, ওয়াসিম, জাফর ইকবাল, সোহেল রানা, ফারুক, ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, রুবেল থেকে সালমান শাহ্ পর্যন্ত। কেবল নায়ক নয় দুর্দান্ত অভিনয়ে বাংলা সিনেমার তারা প্রত্যেকেই উজ্জ্বল সাক্ষর রেখেছেন।  নায়িকাদের মধ্যে- ববিতা, রোজিনা, চম্পা, শবনম, সুচন্দা, অঞ্জু ঘোষ, নুতন, মৌসুমি, শাবনুর প্রর্যন্ত প্রত্যেকেই স্বনামে খ্যাত হয়েছেন অভিনয় মাধুুর্যতায়। 
এই সময়টায় নায়ক নায়িকা জুটির টান ছাড়াও সিনেমা পাগলরা হলে ছুটে যেতেন বাংলা সিনেমার দক্ষ কারিগর পরিচালকদের নামে। এমনসব পরিচালক সিনেমা তৈরি করেছেন যাদের নামেও হলে মানুষের ভিড় বাড়ত। তাদের মধ্যে মনে করা যেতে পারে- ফতেহ লোহানী, জহির রায়হান, আলমগীর কবির, মনতাজুর রহমান আকবর, কাজী হায়াৎ, শিবলী সাদিক, খান আতাউর রহমান, সুভাষ দত্ত, এহতেশাম, চাষী নজরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, শেখ নিয়ামত আলী, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, তানভীর মোকাম্মেল, তারেক মাসুদ, মোরশেদুল ইসলাম, হুমায়ুন আহমেদ, আজিজুর রহমান, শহীদুল ইসলাম খোকন, শিবলী সাদিক, এ জে মিন্টু, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, আলমগীর কুমকুম, নাসির উদ্দিন ইউসুফ প্রমুখ। তবে প্রথিতযশা এমনসব পরিচালকদের মাঝে রাজনৈতিক ছবি নির্মাণের মাধ্যমে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নতুন বাঁক এনেছেন- কাজী হায়াৎ। দাঙ্গা থেকে শুরু করে আব্বাজান, আম্মাজান, ইতিহাস পর্যন্ত অনেক ব্যবসা সফল ছবিতে সিনেমা প্রেমীদের হৃদয় কেড়েছেন। আবার একটু রহস্যময় ও কংফু-কারাতে সংযোজনে বাংলা সিনেমার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন শহীদুল ইসলাম খোকন। তিনি লড়াকু থেকে শুরু করে যোদ্ধা পর্যন্ত অনেক ছবিতে দর্শক টেনেছেন। বিকল্প ধারা নামক একটি ছবি নির্মাণ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে দর্শকদের ভিন্ন স্বাদ দিয়ে স্বনামে খ্যাত হয়েছেন তারেক মাসুদ। মাটির ময়না ছবির মাধ্যমে তিনি বাংলা সিনেমায় আরেক নতুন বাঁক সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। নব্বই দশকের এইসব সিনেমা নির্মাতাদের নাম শুনেও দর্শকরা হলে গেছেন।
আবার কাহিনী, নায়ক-নায়িকা, পরিচালক ছাড়াও সেসময় খলনায়কদের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো দর্শকদের হৃদয়ে। এটিএম শামসুজ্জামান, রাজীব, খলিলসহ অনেক খল অভিনেতা দর্শক মাত করতেন তাদের নিপূণ অভিনয় কারুকাজে। সাথে ছিলো হাস্যরসের অভিনেতাদের মনোরঞ্জন। মতি, রবিউল, হাসমত, দিলদারসহ অনেকের হাস্যরসের অভিনয় দর্শক চিত্তকে পরিপূর্ণতা দিতো। বলা প্রয়োজন, ৮০-৯০ দশকে বাংলা সিনেমায় অনেক ক্ষেত্রেই কৌতুকশিল্পীরা ছবির নায়ক-নায়িকার চেয়ে অধিক জনপ্রিয় ছিলেন। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কৌতুক অভিনেতা দিলদার। এমনসব ঐতিহ্যময় আয়োজনে সমৃদ্ধ ছিলো আমাদের বাংলা সিনেমার স্বর্ণালী সেই সময়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রথম : প্রথম বাঙ্গালি চলচ্চিত্র নির্মাতা, তথ্যচিত্র নির্মাতা, বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক- হীরালাল সেন। প্রথম বায়োস্কাপ প্রদর্শনী : ১৭ এপ্রিল ১৮৮৯, ঢাকার ক্রাউন থিয়েটারে। প্রথম প্রেক্ষাগৃহ : পিকচার হাউজ (শাবিস্তান), ঢাকা, ১৯১৩-১৪। প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্র (নির্বাক): সুকুমারী (১৯২৭-২৮, পরিচালক-অম্বুজ গুপ্ত)। প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র (নির্বাক) : দ্য লাস্ট কিস বা শেষ চুম্বন (১৯৩১, পরিচালক-অম্বুজ গুপ্ত)। প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র (সবাক) : মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬, পরিচালক- আবদুল জব্বার খান)। প্রথম তথ্যচিত্র : ইন আওয়ার মিডস্ট (১৯৪৮, পরিচালক- নাজীর আহমদ)। প্রথম বাঙ্গালি মুসলমান চলচ্চিত্রকার : কাজী নজরুল ইসলাম- ধ্রুব (১৯৩৪)। প্রথম বাঙ্গালি মুসলমান চলচ্চিত্র প্রদর্শক : মির্জা আবদুল কাদের সরকার, (লায়ন সিনেমা, ঢাকা)। প্রথম বাঙ্গালি মুসলিম অভিনেত্রী : মিস রোকেয়া আহমদ (ওয়ান্ডারিং ড্যান্সার, ১৯৩০-৩১, লাহোর)। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রথম ছবি : সূর্য দীঘল বাড়ি, পরিচালক মসিহ উদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলি। প্রথম নারী চিত্রপরিচালক : রেবেকা (বিন্দু থেকে বৃত্ত, ১৯৭০)। প্রথম নারী সংগীত পরিচালক পরিচালক : ফেরদৌসী রহমান (রাজধানীর বুকে ছবিতে যৌথভাবে রবিন ঘোষের সঙ্গে, ১৯৬০)। প্রথম চলচ্চিত্র পত্রিকা : মাসিক সিনেমা (১৯৫০)। এফডিসির প্রথম ছবি : আসিয়া (৪ নভেম্বর ১৯৬০, পরিচালক ফতেহ লোহানী)। প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র : সংগম (১৯৬৪, পরিচালক জহির রায়হান)। প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র : বাহানা (১৯৬৫,পরিচালক- জহির রায়হান)। প্রথম আন্তর্জাতিক পুরষ্কারপ্রাপ্ত ছবি : সুতরাং, ফ্রাঙ্কফুট এশীয় চলচ্চিত্র উৎসব ১৯৬৫। প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র : লাঠিয়াল (১৯৭৬)। 

লেখক : উন্নয়ন বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।
আজকালের খবর/আরইউ


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com