ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ২৭ জুলাই ২০২১ ● ১২ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার  মঙ্গলবার ● ২৭ জুলাই ২০২১
শিরোনাম: কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৯ জনের মৃত্যু       চট্টগ্রামে একদিনে মৃত্যু ও শনাক্তে নতুন রেকর্ড       অসুস্থ শ্বশুরের পাশে থাকতে আজই ফিরছেন লিটন দাস       লিবীয় উপকূলে নৌডুবি, ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা       রামেক করোনা ওয়ার্ডে আরো ২১ জনের মৃত্যু       ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরো ১৯ জনের মৃত্যু       দেশে আরো ২৪৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫১৯২      
প্রিন্ট সংস্করণ
দাতার কাতারে বাংলাদেশ
জাকির হুসাইন
Published : Thursday, 17 June, 2021 at 1:10 AM


মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সাহায্য করতে গিয়ে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। এরপর দারিদ্র্যের কষাঘাতে ধুঁকতে ধুঁকতে ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃতে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর একযুগ আওয়ামী লীগের একটানা ক্ষমতাকালে সেই বাংলাদেশ এখন অন্যকে সাহায্যা দিচ্ছে। উন্নয়নের মহাসড়কে ছুটে চলা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ এখন গ্রহীতা নয়, দাতার কাতারে। ৭৫ বছর আগে স্বাধীন হওয়া পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এমনকি ভারতকেও ছুঁয়ে ফেলেছে প্রায়। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের অভিঘাতে বিপর্যস্ত বিশ্বে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিপির সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে যাচ্ছে বলে খোদ বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস।
এই মহামারিকালেও ঋণগ্রস্ত ও দরিদ্র আফ্রিকান দেশ সুদানের আন্তর্জাতিক ঋণভার কমানোর জন্য ৬৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শিগগিরই রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দিতে যাচ্ছে।  যদিও এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের অনুদান দিয়েছে, তবে এবারই বড় ধরনের সহায়তা দিয়ে দাতার কাতারে নাম লেখলো বাংলাদেশ।
গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা-পরবর্তী প্রেসব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, কিছুদিন আগে আমি সংসদে বলেছিলাম, আমরা এখন ঋণ নিচ্ছি, তবে বেশি দিন বাকি নেই যখন আমরা ঋণ দেবো। তাছাড়া আমরা যদি লাভবান হই যদি, বাড়তি কিছু পাই তাহলে মন্দ না। এর অংশ হিসেবে বিদেশে বা পার্শ্ববর্তী দেশে বাড়তি রিটার্নের আশায় রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়া হবে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ঋণ দিয়ে প্রতিবেশী দেশকে যদি সাহায্য করতে পারি, এটা খারাপ না। আমরা যে টাকা ঋণ হিসেবে দেবো তার থেকে ভালো রিটার্ন পাবো।
অন্যদিকে, গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অনুরোধে বাংলাদেশ ৬৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। গত মঙ্গলবার আইএমএফকে অনুদানের ৫৩ লাখ ২০ হাজার এসডিআর (আইএমএফের মুদ্রা) দিয়েছে বাংলাদেশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইএমএফের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অত্যধিক ঋণগ্রস্ত দরিদ্র রাষ্ট্র এবং ওআইসি সদস্যভুক্ত বন্ধুপ্রতিম দেশ সুদানের ঋণ মওকুফের ৫৩ কোটি ২০ লাখ এসডিআর, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করে  ‘ঋণ ত্রাণ (ডেট রিলিফ) হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের এ অর্থায়ন দারিদ্র্য বিমোচনে সুদানের সংগ্রামকে আরো শক্তিশালী করবে। উল্লেখ্য, গত বছরেও আইএমএফের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আফ্রিকান দেশ সোমালিয়ার দারিদ্র্য মুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ আট কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। বিশে^ জানান দেওয়ার এখনই  মোক্ষম সময়। ঠিক সেই সময়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, সুদানকে অনুদান ও শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়ে কিছুটা হলেও বিশে^ সাড়া ফেলবে বাংলাদেশ। এতে প্রমাণ হবে বাংলাদেশ শুধু নেয় না, বরং দিতেও জানে। তারা বলছেন, বাংলাদেশ এখনই সক্ষমতা অর্জন না করলেও এমন কাজের দরকার ছিল।
এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুদানকে মূলত আইএমএফ ঋণ মওকুফ করছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশ সেখানে বিভিন্ন পরিমান অর্থ দিয়ে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশও সেখানে ৬৫ কোটি কাটা অনুদান দিয়ে অংশ নিচ্ছে। এটা খুবই ভালো একটা উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। কারণ এর মাধ্যমে প্রমাণ হবে বাংলাদেশ ছোট দেশ তবে তাদের সক্ষমতা আছে। একই সঙ্গে এটাও প্রমাণ হবে যে, বাংলাদেশ শুধু নেয় না বরং দেয়ও। তাছাড়া আমরা শিগগিরই এসডিজি আর্জন করছি। আমাদের কাছে প্রত্যাশা রয়েছে।
রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বর্তমানে রিজার্ভ ভালো। সেখান থেকে যদি ঋণ দেওয়া হয়, তবে সেটা খারাপ কিছু হবে না বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ। তাদের বিপদে যদি আমারা দাঁড়াতে পারি তকে সেটা তো আরো ভালো খবর। তাছাড়া তাদের তো অনুদান দেওয়া হচ্ছে না। ঋণ হিসেবে ২০ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে কম হলেও কিছুটা মুনাফা পাওয়া যাবে। আর এরই মাধ্যম্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক হিসেব প্রবেশ করবে। এটা পরবর্তী সময়ে আমাদের জন্য অনেক কাজে আসবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, বাংলাদেশ এখনই দাতা হিসেবে আবির্ভাব হওয়ার সময় হয়নি। বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে আসেনি বা সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। অনুদান ও ঋণের নামে যা করা হচ্ছে এটা একটা আইওয়াশ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা সরকারের একটা রাজনৈতিক কৌশল। তবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই কৌশল সুস্থ পথ না। তিনি বলেন, আমরা এখনো বিদেশ থেকে অনুদান আনছি। ঋণ আনছি। আমাদের দেশের সব অঞ্চল এখনো স্বাবলম্বী হতে পারেনি। তাহলে আমরা কীভাবে অনুদান দেওয়ার যোগ্য হতে পারি। এর জন্য আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করার দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এনএমএস।  





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com