ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ২৭ জুলাই ২০২১ ● ১২ শ্রাবণ ১৪২৮
ই-পেপার  মঙ্গলবার ● ২৭ জুলাই ২০২১
শিরোনাম: সব মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল আরো এক মাস       কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৯ জনের মৃত্যু       চট্টগ্রামে একদিনে মৃত্যু ও শনাক্তে নতুন রেকর্ড       অসুস্থ শ্বশুরের পাশে থাকতে আজই ফিরছেন লিটন দাস       লিবীয় উপকূলে নৌডুবি, ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা       রামেক করোনা ওয়ার্ডে আরো ২১ জনের মৃত্যু       ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরো ১৯ জনের মৃত্যু      
প্রিন্ট সংস্করণ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিতে ব্যর্থ মন্ত্রণালয়
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Monday, 14 June, 2021 at 9:33 PM, Update: 15.06.2021 12:03:17 AM


আইন অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সাময়িক অনুমোদনের সাত বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে; কিন্তু সেই নিয়ম মানছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। 

৫৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স সাত বছরের বেশি হলেও মাত্র ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে সব শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রোগ্রাম পরিচালনা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) নিয়ে দ্বন্দ্ব, মামলাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জমি কিনেও নির্মাণকাজ শুরু করেনি ছয়টি। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিই নেই। তবুও চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গত ১০ জুনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বলা হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে এক একর এবং অন্য এলাকার জন্য দুই একর পরিমাণ নিষ্কণ্টক, অখণ্ড ও দায়মুক্ত জমি থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য সাময়িক অনুমতিপ্রাপ্ত মেয়াদের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য কেনা জমিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের প্ল্যান অনুমোদন করে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট কোনোভাবে দায়বদ্ধ বা হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু ইউজিসি তথ্যানুযায়ী সাময়িক সনদের মেয়াদোত্তীর্ণ ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনেক অবৈধ ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন ভবনে রুম ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

এর মধ্যে মাত্র ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে লাল তারকা চিহ্নিত করে দায়িত্ব শেষ করেছে ইউজিসি। আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় অবৈধ ক্যাম্পাস ও ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তাদের ক্ষেত্রে ইউজিসি নীরব। অথচ সাত বছরের বেশি বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সব সময়ে সরব ছিলেন। তার সময়ে কয়েক দফায় সময় দিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে চূড়ান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ব্যর্থ হলে পর দিন থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। গত আড়াই বছরে এ কাজে আর হাত দেয়নি বর্তমান শিক্ষা প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী এক ব্যক্তির চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি একাধিক ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তার প্রভাবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরের গতি হারিয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ নেই এমন সব ভবনে ছোট ছোট রুম ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্তারা চুপ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সোমবার নিজ দপ্তরে আজকালের খবরকে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না, তাদের নতুন প্রোগ্রাম ও কোর্স অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে আমাদের পলিসি হলো- শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান-গবেষণার বিষয়ে কীভাবে অ্যাড্রেস করা যায় সে বিষয়টি আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউজিসির কাছে স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছি। প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসির তথ্যানুযায়ী নির্মাণাধীন স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ চারটি প্রোগ্রাম স্থায়ী ক্যাম্পাস নরসিংদীর শিবপুরে পরিচালনা করছে। অন্য প্রোগ্রামগুলো রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও উত্তরায় পরিচালনা করছে। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাভারের বিরুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখনো গুলশানের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাঁতারকুলের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বনানী ও গ্রীন রোডের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ৫০টি প্রোগ্রামের মাত্র ছয়টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। অন্য প্রোগ্রামগুলো মহাখালীর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম একাধিক স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। প্রবর্তক মোড়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করেছে। 

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আশুলিয়ার স্থায়ী ক্যাম্পাসে মাত্র পাঁচটি প্রোগ্রামের আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাজধানীর মিরপুর রোড ও ধানমণ্ডি এলাকায় তিনটি অননুমোদিত ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আশকোনার স্থায়ী ক্যাম্পাসে মাত্র তিনটি প্রোগ্রামের শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করেছে। বনানী ও কাওরানবাজার এলাকার ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। কাওরানবাজারের ক্যাম্পাসের অনুমোদন নেই। চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি আরেফিন নগরের স্থায়ী ক্যাম্পাসে মাত্র চারটি প্রোগ্রামের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আদালতের রায় নিয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। গ্রীন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ উত্তরার বাউনিয়া এলাকার স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচারিত হচ্ছে। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি সাভারে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ বাদ দিয়ে উত্তরায় নতুন করে নির্মাণ করছে। উত্তরা এবং লালমাটিয়ায় অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উত্তরায় ছয়টি ভবনের অনুমোদন নেই। কিন্তু এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসি লাল তারকা চিহ্নিত করেনি। উত্তরা ইউনিভার্সিটির মাত্র চারটি প্রোগ্রাম স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উত্তরায় অস্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়াও অনুমোদনবিহীন ভবনে শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছে। 

ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস স্থায়ী ক্যাম্পাসে মাত্র দুটি প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর এলাকায় নির্মাণাধীন স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ তুরাগ এলাকার স্থায়ী ক্যাম্পাসে একটি টিনশেড ভবন স্থাপন করছে। সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি তেজগাঁও শিল্প এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বনানীতে অনুমোদন ছাড়া চারটি ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আদাবরে নির্মাণাধীন স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জের কেন্দুয়ার স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ধানমণ্ডি ও কলাবাগানের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উল্লেখিত ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত প্রোগ্রাম স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ব্যর্থ হলে পর দিন থেকে প্রোগ্রামগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।  

জমি কিনেও নির্মাণকাজ শুরু করেনি যে ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়: স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ধানমণ্ডির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ঢাকার নবাবগঞ্জে জমি কিনেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমণ্ডিতে অননুমোদিত ভবন রয়েছে। প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির জোয়ার সাহারায় এক দশমিক ৬৮ একর জমি কিনেছে। রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা তেজগাঁও এলাকায় মাত্র জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ঢাকায় ইউজিসির অননুমোদিত ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কুমিল্লায় নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জমি কিনেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া’র সাময়িক সনদ বাতিলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছিল। তারপরও বনানীতে অনুমোদন ছাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি টাঙ্গাইলের সাগরদিঘী এলাকা জমি কিনেছে। উপরে উল্লেখিত ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এ ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

কম জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রাইম ইউনিভার্সিটি বর্তমানে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সেখানে জমির শর্ত পূর্ণ হয়নি। একই অবস্থা সেন্ট্রাল উইমেন’স ইউনিভার্সিটির। ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় দুটিকে লাল তারকা চিহ্নিত করেনি।
 
ফাউন্ডেশনের জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস: দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি মতিঝিলের মামেনবাগে ‘মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’র নামে কেনা শূন্য দশমিক ৭৫ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কিনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় বেঁধে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণায়। এতে ব্যর্থ হলে পর দিন থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার কথা বলে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। শর্ত ভঙ্গ করলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়টি তারকা চিহ্নিত করেনি। 
নিজস্ব জমি নেই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের: ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নিজস্ব জমি নেই। ধানমণ্ডিতে আটটি অননুমোদিত ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইবাইস ইউনিভার্সিটিরও নিজস্ব জমি নেই। বিওটি (ধানমণ্ডি ও উত্তরা) দ্বন্দ্ব রয়েছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা চলমান। এছাড়াও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমোদিত ঠিকানা নেই। এরই মাঝে ধানমণ্ডি গ্রুপ তাদের ঠিকানা পরিবর্তন করে বনানীতে স্থানান্তর করেছে। এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চূড়ান্ত সময় দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। 

স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রমের ঝামেলা: ইউজিসির তথ্যানুযায়ী বর্তমানে ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির বিএসসি ইন নার্সিং প্রোগ্রাম নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। ইউজিসি এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে লাল তারকা চিহ্নিত করেনি। গণবিশ্ববিদ্যালয় সাভারে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও আদালতের স্থাগিতাদেশ নিয়ে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া ছয়টি প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। স্থগিতাদেশ হাইকোর্ট ভ্যাকেট করে দিয়েছেন। ফলে ছয়টি প্রোগ্রাম অবৈধ। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ইউজিসির অননুমোদন ছাড়া প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। বিওটি নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে। আদালতের রায়ে ফের চালু হওয়া রংপুরের পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অননুমোদিত প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।

শর্ত লঙ্ঘন করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচলনাকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেন লাল তারকা চিহ্নিত করা হয়নি জানতে চাইলে ইউজিসির পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ওমর ফারুক আজকালের খবরকে বলেন, রেড মার্কিং করার কতগুলো ক্রাইটেরিয়া আছে। যদি অনুমোদন ছাড়া প্রোগ্রাম ও ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে তাহলে ইউজিসির ওয়েবসাইটে লাল তারকা চিহ্নি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান জানানো হয়। এটি সময় সময় পরিবর্তন হয়। যেমনÑ আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া প্রোগ্রাম পরিচালনা করায় লাল তারকা চিহ্নিত করা হয়েছে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগ সংশোধন করায় তাদের তারকা চিহ্ন সরিয়ে ফেলা হয়। তিনি দাবি করেন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি অনুমোদন ছাড়া ভবন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ইউজিসির গত ১০ জুনের প্রতিবেদনেও অবৈধ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরকার ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স সাত বছর পার করেছে। অন্যগুলোর অস্থায়ী সনদের মেয়াদ সাত বছর না হওয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

একে


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajk[email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.net, www.ajkalerkhobor.com