ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ১৭ জুন ২০২১ ● ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বৃহস্পতিবার ● ১৭ জুন ২০২১
শিরোনাম: সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি শুরু হচ্ছে       দাতার কাতারে বাংলাদেশ       পূর্ত ভবনে অস্ত্রের মহড়া: আওয়ামী লীগ নেতাদের অব্যাহতি       পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাবের, পরিদর্শনে যাবে পুলিশ       বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিতে ব্যর্থ মন্ত্রণালয়       বাজেট পাসের পরেই এমপিওর আবেদন       চীনকে এক হাত নিলেন জি-৭ নেতারা, কোভিডের উৎসের তদন্ত দাবি      
প্রিন্ট সংস্করণ
থাবা বসাতে পারেনি ডেঙ্গু: সতর্কতার এখনই সময়
#চলতি বছর রাজধানীতি আক্রান্ত ধর্তব্যের মতো নয়: মৃত্যু হয়নি কারো: চার বিভাগে আক্রান্ত হয়নি কেউ
নূরুজ্জামান মামুন
Published : Wednesday, 9 June, 2021 at 1:22 AM, Update: 09.06.2021 1:48:01 AM

একেই করোনার মহামারি, তারওপর ২০১৯ সালের ডেঙ্গুর স্মৃতি ভয়াবহ আতংক সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখায় সেই আতংক বাস্তবে ভর করতে পারেনি। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র এবং প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপে এবার এখনো ডেঙ্গুর প্রকোপ মাথাচাড়া দেয়নি। নিঃসন্দেহে সুসংবাদ হলেও এখনো সময় চলে যায়নি। তাই জনসেচেতনাতার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যার যার জায়গা থেকে এব্যাপারে চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে হবে। নইলে করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু যে পরিষ্থিতি সৃষ্টি করতে পারে তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।   সরকারের নানা উদ্যোগে প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে ডেঙ্গু: ২০১৯ সালের এই সময়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতেন। সেখানে চলতি বছরের গত ছয় মাসে সারা দেশে মাত্র ১২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের হাসপাতালে কেউ ভর্তি হননি। সরকারি হিসাবে এ বছর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি কেউ। অথচ এক বছর আগেও রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ ডেঙ্গু আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে চলতি বছর ডেঙ্গু আতঙ্ক এখনো কেটে যায়নি। ডেঙ্গুর পিক টাইম হচ্ছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস। সরকারের চলমান কর্মসূচি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।   
 স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সী অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, ৭ জুন সকাল ৮টা থেকে থেকে গতকাল ৮ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় সারা দেশে নতুন করে  দুই জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী সবাই ঢাকার। ঢাকার বাইরে কেউ আক্রান্ত হননি। গতকালের রিপোর্টে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। তবে ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। ঢাকার বাইরে হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি নেই। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে মাত্র ১২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা শহরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১০৩ জন। বাকি ১৯ জন ঢাকা শহরের বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ি জেলায় দুই জন ও শরীয়তপুরে তিন জন। ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিভাগীয় শহরেরর হাসপাতালে এক জন। চট্টগ্রাম বিভাগের হাসপাতালে কেউ ভর্তি হননি। খুলনা বিভাগের যশোরে ১১ জন, নড়াইলে এক জন ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে এক জন ডেঙ্গু  রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এই সময়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত বা ডেঙ্গু রোগের সন্দেহ নিয়ে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের হাসপাতালে কেউ ভর্তি হননি। সরকারি হিসাবে এ বছর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।  
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ওই বছর সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু সন্দেহে ২৬৬ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) ১৬৪ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছিল। অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক তথ্যানুযায়ী গত বছরের রাজধানীসহ সারাদেশে জানুয়ারিতে ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ জন, মার্চে ২৭ জন, এপ্রিলে ২৫ জন, মে মাসে ১০ জন, জুনে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। দুই বছরের তথ্য বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, গত দুই বছরের চেয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে যেখানে ১৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন সেখানে চলতি বছরের গত ছয় মাসে মাত্র ১২২ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) দুই মেয়র মশক নিধনে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক তৎপর। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে মশার উৎপত্তিস্থলে অভিযান পরিচালনা করেছেন। এমনকি এডিসের লার্ভা পাওয়ায় বাড়ির মালিকদের জরিমানাও করছেন। যে কারণে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা গত দুই বছরের তুলনায় অনেক কম। সরকারি হিসাবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি।
দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, করোনা মহামারির সঙ্গে চলতি বর্ষা মৌসুমে রাজধানীতে ফের মাথা চাড়া দিয়ে  ওঠার আশংকা এবং বিগত বছরে অভিজ্ঞতা থেকে  নেওয়া হয় নানা পদক্ষেপ।
গত বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই ধরনের পরিকল্পনা নেয় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। প্রথমত বছরব্যাপী, দ্বিতীয়ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বছরব্যাপী কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল-বিকাল চার ঘণ্টা করে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা চিরুনি অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে বরাদ্দ, যান, যন্ত্রপাতি ও কর্মী বাহিনী।
জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান আজকালের খবরকে বলেন, এডিস মশার ব্রিডিং পয়েন্ট মূলত; বাসা, বাড়ি এবং নির্মাণাধীন ভবনের যেসব জায়গায় পানি জমে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কে তিন-চারটি বাড়ি নির্মাণাধীন। কেউ পুরাতন বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি করছেন বা নতুন প্লটে বাড়ি নির্মাণ করছেন। এগুলোকে আমরা টার্গেট করেছি। তাদের বুঝিয়ে বলেছি-পানি পাম্প দিয়ে সরিয়ে ফেলতে অথবা পানি জমলে কেরোসিন তেল দিতে।  যাতে পানি না জমে সে ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়েছি। এরপরেও যারা লঙ্ঘন করেছেন তাদের জরিমানা করেছি, জেল দিয়েছি। প্রতিটি অঞ্চলে এক জন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়গুলো চলমান আছে। সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে কোনদিনই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণের সচেতনা হলো সব চেয়ে বড় বিষয়। আমরা সে কাজগুলো করে যাচ্ছি। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে, মিল্টভিটা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিজে টাইপ করে চিঠি দিয়েছি। তাদের নিজ নিজ কমপ্লেক্স পরিস্কার রাখতে ও পানি যাতে না জমে তা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেছি। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও সচেতনা বাড়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   
ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০ ভাগে ভাগ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি ভাগে পাঁচ জনের একটি দল স্থাপনা পরিদর্শন করছে। এই অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, কীটতত্ত্ববিদরা থাকছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থাপনায় ওষুধ ছিটানো হয়েছে। এডিস মশা নিধনে গত ১ জুন থেকে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসিতে সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক ইনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রামের (সিপ) আওতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ত করে এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাইকিং, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর তথ্য সংগ্রহ করে মশকনিধনসহ নানা কাজ বাস্তবায়ন  করা হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণের বিস্তার রোধে পরীক্ষামূলক একটি নজরদারি পদ্ধতি গড়ে তোলা হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলেই সেখানকার আশপাশে ৪০০ বর্গ মিটারজুড়ে প্রকল্পের পক্ষ থেকে মশা নিধন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে এসেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর-এই চার মাস ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সচেতন করা এবং এডিস মশার বংশবিস্তারের স্থান নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। না হলে করোনা মহামরির মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বড় আকারে দেখা দিতে পারে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ও কীটতত্ত্ববিদ ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া আজকালের খবরকে বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশের তেমন কোন উন্নতি আমরা করতে পারিনি। আমার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এডিস মশার ব্রিডিং কমতে পারে। এখনো কিন্তু ঝুঁকি চলে যায়নি। ডেঙ্গুর পিক টাইম হচ্ছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ভয়াবহ আকারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় মানুষ। বিশেষ করে রাজধানীবাসী এডিস মশা আতঙ্কে ছিলেন। রাজধানী থেকে সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ওষুধ নিয়ে নানা নাটকিয়তা করে। সমালোচনায় পড়তে হয় সরকারকে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিদেশ থেকে ডেকে আনা হয় বিশেষজ্ঞদের। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তৎপর হয় দুই সিটি কর্পোরেশন। এনএমএস।   



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com