ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ১৭ জুন ২০২১ ● ৩ আষাঢ় ১৪২৮
ই-পেপার  বৃহস্পতিবার ● ১৭ জুন ২০২১
শিরোনাম: সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি শুরু হচ্ছে       দাতার কাতারে বাংলাদেশ       পূর্ত ভবনে অস্ত্রের মহড়া: আওয়ামী লীগ নেতাদের অব্যাহতি       পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাবের, পরিদর্শনে যাবে পুলিশ       বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিতে ব্যর্থ মন্ত্রণালয়       বাজেট পাসের পরেই এমপিওর আবেদন       চীনকে এক হাত নিলেন জি-৭ নেতারা, কোভিডের উৎসের তদন্ত দাবি      
ভয়াবহ হয়ে উঠছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি
নিউজ ডেস্ক
Published : Saturday, 15 May, 2021 at 1:35 AM


ভয়াবহ উঠেছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি। গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনা এবার ঘটেছে। সংঘাত বন্ধে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, নিজের 'ভুল বাজিতে ফেঁসে গেছেন' ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

আল জাজিরার বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, ‌'ভুল বাজি ধরেছেন নেতানিয়াহু। আর এতে তিনি ফেঁসে গেছেন। কারণ ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দরগুলো হুমকির মুখে রয়েছে। একবার যদি বিমানবন্দরগুলো সত্যি হুমকির মধ্যে পড়ে যায় তাহলে তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।'

নেতানিয়াহু এমন কিছু শুরু করেছিলেন যা তিনি আশা করেননি। পরিস্থিতি যে এভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে তা তিনি কল্পনা করেননি। যেমনটি আমরা দেখেছি, ফিলিস্তিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে। পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমে দেখেছি। আমরা অবশ্যই গাজায় এটি দেখছি।'

মারওয়ান বিশারা বলেন, 'সত্যি বলছি, ২০১৪ সালেও আমি এমন চিত্র দেখিনি। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে দিন দিন জনমত বাড়ছে। যেমন-মিশর, জর্ডান এবং লেবানন এগিয়ে এসেছে।'

এই বিশ্লেষক মনে করেন এসব কারণে বর্তমানে নেতানিয়াহু সঙ্কটে রয়েছেন। এছাড়া রাজনৈতিকভাবেও তিনি একঘরে হয়েছেন।

সম্প্রতি নেতানিয়াহু বলেন, 'যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।'

এদিকে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি তাদের হামলা বন্ধ না করে তাহলে তারাও চুপ করে বসে থাকবে না।

দেখা গেছে, ইতোমধ্যে ইসরায়েলের দিকে একের পর এক রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হামাস।

ইসরায়েলের জন্য বিপদের কারণ হচ্ছে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত আটজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই শিশু, একজন ভারতীয়, একজন বয়স্ক নারী ও এক ইসরায়েলি সেনাসদস্য রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন কয়েক ডজন।

হামাস দাবি করেছে, ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটি, দুটি আয়রন ড্রোম (আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) এবং একটি রাসায়নিক কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া নেজেভ মরুভূমির নাহাল ওজ কিবুৎজ রাসায়নিক কারখানায় আত্মঘাতী শিহাব ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা আয়রন ডোম ফিলিস্তিনিদের সব রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারছে না।

এর আগে দেখা গিয়েছিল, হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যে রকেট হামলা চালাত, তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হত। বিশেষ করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হামাসের রকেট হামলার বাইরে থাকত। কিন্তু এবার দেখা দেখা গেছে উল্টো চিত্র।

কয়েকদিন আগে তেল আবিবে যখন হামাস রকেট হামলা করে, তখন দেশটির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করা হয়।

এদিকে ক্রমবর্ধমান হামলা-পাল্টা হামলার জেরে তেল আবিবের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে ইউরোপীয় এয়ারলাইনগুলো। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও ভার্জিন আটলান্টিক, জার্মানির লুফথানসা, স্পেনের আইবেরিয়া প্রভৃতি।

অপরদিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর উপ-প্রধান সালেহ আল আরোয়ি বলেছেন, ‌'ইসরায়েলে হামলায় এ পর্যন্ত ব্যবহৃত তাদের সব ক্ষেপণাস্ত্রই ছিল পুরোনো, মূল ক্ষেপণাস্ত্র আমরা এখনো ব্যবহার করিনি।'

আল-আকসা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমাদের কয়েকজন কমান্ডারের শাহাদাতের কারণে প্রতিরোধ সংগ্রাম দুর্বল হয়ে পড়বে, শত্রুদের এমন ভাবনা মারাত্মক ভুল। বাস্তবে প্রতিরোধ প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী হচ্ছে।'

গত সোমবার (১০ মে) থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী যা এখনো অব্যহত রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার রাতে গাজায় ৪০ মিনিটে ৪৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। গাজার ১৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদ্রায়ি শুক্রবার টুইটারে এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার ভোররাতে ইসরায়েলি বাহিনীর ৪০ মিনিটের হামলায় নতুন করে ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এদের মধ্যে এক মা ও তার তিন শিশুও ছিলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসব হামলায় গাজার বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট, গাড়ি ও ভবন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, গাজায় সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আদ্রায়ি বলে, ‘এই হামলাগুলো গাজার উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের আশেপাশে অবস্থিত হামাসের ভূগর্ভস্থ মেট্রোকে প্রবল আঘাতের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, এসব হামলায় রাত জুড়ে ইসরায়েলের ১৬০টি বিমান ও ছয়টি বিমান ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়েছে।
এসব হামলায় গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ১২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩১টি শিশু ও ২০ জন নারীও রয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয় সংক্রান্ত সমন্বয়ের অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২০০’রও বেশি ভবন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। শত শত মানুষ উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় ছিটমহলের স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র জোনাথান কনরিকাস বলেছেন, ‘আমরা যাকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছি তা হল গাজার ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গ যা মূলত উত্তরাঞ্চলে ও এর আশেপাশে বিস্তৃত। এই নেটওয়ার্কটি হামাস তাদের চলাচল, আত্মগোপন ও সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করে।’ এটিকে মেট্রোও বলা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি ও কট্টরপন্থী ইহুদিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে দফায় দফায় যাতে অধিকাংশই আহত হয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনিদের ওপর এসব হামলার জবাবে হামাস ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এরপর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপকভাবে হামলা শুরু করে। এনএমএস।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাউস নং ৩৯ (৫ম তলা), রোড নং ১৭/এ, ব্লক: ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন: +৮৮-০২-৪৮৮১১৮৩১-৪, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮
ই-মেইল : বার্তা- [email protected] বিজ্ঞাপন- [email protected]
দৈনিক আজকালের খবর লিমিটেডের পক্ষে গোলাম মোস্তফা কর্তৃক বাড়ি নং-৫৯, রোড নং-২৭, ব্লক-কে, বনানী, ঢাকা-১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও সোনালী প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড (২/১/এ আরামবাগ), ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক আজকালের খবর
Web : www.ajkalerkhobor.com, www.eajkalerkhobor.com